যেভাবে নির্ধারণ হলো সরকারি চাকরির বয়সসীমা

ঢাকা, শনিবার   ২১ মে ২০২২,   ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

যেভাবে নির্ধারণ হলো সরকারি চাকরির বয়সসীমা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৬ ১৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১২:০৭ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বিশ্বের অনেক দেশেই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। তবে বাংলাদেশে বয়স ত্রিশ বছর পেরিয়ে গেলে আর সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকে না।

অবশ্য মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, উপজাতি কোটা থেকে যারা সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করেন তাদের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৩২ বছর। সেবিকার চাকরির ক্ষেত্রে তা ৩৬ এবং বিভাগীয় প্রার্থীর কোটায় ৩৫ বছর।

এ নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ তরুণীদের অনেক সময় নাখোশ হতে দেখা যায়। চাকরি প্রার্থীদের একটি জনপ্রিয় দাবি হচ্ছে, সরকারি চাকরির জন্য সবার বয়সের ঊর্ধ্বসীমা সর্বোচ্চ ৩৫ করা হোক। এ নিয়ে আন্দোলনও আছে।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ নামে একটি অধিকার বিষয়ক সংগঠন ২০১২ সাল থেকে এই দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। যদিও সরকার কখনও এই দাবিতে কান দেয়নি।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁধে দেয়া থাকবে কেন?

সরকারি চাকরির বয়স নির্ধারণের বিষয়টি শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ভারত তথা উপনিবেশিক আমল থেকে। বিভিন্ন বিষয় আমলে নিয়ে তখন চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৩ বছর।

এরপর যখন পাকিস্তান শাসনামল আসে, তখন এই বয়সসীমা বাড়িয়ে ২৫ বছর করা হয়। কারণ তখন ধরে নেয়া হয়েছিল যে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য যেসব যোগ্যতার দরকার হয় তার সবকিছু অর্জন করে ২৫ বছরের মধ্যে প্রস্তুত হওয়াটা কঠিন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর এই বয়স আরো দুই বছর বাড়িয়ে ২৭ বছর করা হয়। ওই সময়ের বাংলাদেশের অবস্থাটা ভিন্ন ছিল। যুদ্ধের কারণে ধরেই নেয়া হয়েছিল যে, শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এক বছর হারিয়ে গেছে। আর এ কারণেই শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরিতে প্রবেশের সময় বেশি লাগবে বলে বয়স বাড়ানো হয়।

"মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা লেখাপড়ায় একটু পিছিয়ে পড়েছিলাম, এক বছর তো বন্ধই ছিল সব ধরণের ক্লাস-পরীক্ষা।"

বয়স বাড়ানোর সেই সময়ে বলা হয়েছিল এবং ধরেই নেয়া হয়েছিল যে, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলতে শুরু করলে বয়স আবার ২৫ বছরে নামিয়ে নেয়া হবে। তবে পরে আর সেটি করা হয়নি। উল্টো এই বয়সের সময় সীমায় আরো পরিবর্তন আসে ১৯৯১ সালে এইচ এম এরশাদের শাসনামলে। সে সময় নানা পক্ষের চাপের মুখে এই বয়স ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয় যেটি এখনো কার্যকর রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »