গাছের ডালে বাঁধে কাঁদামাটির ঘর

ঢাকা, রোববার   ২৩ জানুয়ারি ২০২২,   ৯ মাঘ ১৪২৮,   ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গাছের ডালে বাঁধে কাঁদামাটির ঘর

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩১ ১৪ জানুয়ারি ২০২২  

পাখিটির নাম কালোবুক দামা। ছবি : সংগৃহীত

পাখিটির নাম কালোবুক দামা। ছবি : সংগৃহীত

পাখিটির নাম কালোবুক দামা। একটি পরিযায়ী পাখি। কিছুটা শালিকের মতো চেহারা। গানের গলা ভালো। মিষ্টি সুরে গান গায়। গাছের উঁচু ডালে বসে খুব ভোরে এবং গোধূলিলগ্নে গান গায়। স্বভাবে বেশ লাজুক।

কালোবুক দামার ইংরেজি নাম Black-breasted Thrush। বৈজ্ঞানিক নাম Turdus dissimilis। এটি Turdus বংশের এবং Turdidae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ২২ সেন্টি মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭৫ গ্রাম ওজনের পাখি।

প্রজননকালে পুরুষপাখির পিঠ ধূসর থাকে। মাথা, ঘাড়ের পেছনের অংশ, গলা ও বুক পুরো কালো রঙের হয়। পেটের উপরের অংশ ও বগল লালচে। পেটের নিচের অংশ সাদা।
প্রজননকালে মেয়েপাখির পিঠ কালচে-জলপাই রঙ ধারণ করে। গলার পাশ থেকে নিচের ঠোঁটের অংশে কালচে ডোরা। গলায় সাদা লম্বা দাগ থাকে। বুকের নিচের অংশ ও বগল কমলা। চোখের রং বাদামি। ঠোঁট, পা ও পায়ের পাতা হলুদ রঙের হয়।

কালোবুক দামা সাধারণত চিরসবুজ বন, ছোট ছোট ঝোঁপ ও সুন্দরবনে বিচরণ করে। স্বভাবের দিক থেকে এরা খুব লাজুক পাখি। শীতের সময় নীরব থাকে। এরা বনতলে ঝরাপাতা উল্টে খাবার সংগ্রহ করে। খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকা, ছোট ছোট শামুক ও রসালো বুনো ফল।  

গ্রীষ্মকালে মধুর সুরে গান গায়। এপ্রিল থেকে জুলাই মাস এদের প্রজননকাল। প্রজননকালে গাছের ডালে ঘাস, মূল ও কাঁচা পাতা দিয়ে বাটির মতো বাসা বানায়। এরা বাসায় কাঁদামাটি দিয়ে লেপে রাখে। নিজেদের বানানো বাসায় মেয়েপাখি তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে। নিজেরাই ডিমে তা দিয়ে ছানা ফুটায়। উভয়ে মিলে ছানাদের পরিচর্যা করে।

কালোবুক দামা বাংলাদেশের বিরল পরিযায়ী পাখি। শীত মৌসুমে ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনে পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ভারত, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

কালোবুক দামা বিশ্বে বিপদগ্রস্ত বলে বিবেচিত হলেও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী আইনে এই প্রজাতিকে সংরক্ষিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেবি

English HighlightsREAD MORE »