‘বিদেশি বধূ’কে নিয়ে হই হই রব, বাঙালিয়ানায় সাজলো হাবিবুরের মেয়েও
হলুদ শাড়ি আর লাল ব্লাউজ পরে বেশ উচ্ছ্বসিত নাদিয়া রহমান। তবে আড়াই বছরের এই আদুরে কন্যা জানে না, কী কারণে বাড়িতে হই হই রব। তবে এটুকু হয়তো আন্দাজ করতে পারছে যে, তার বাবা-মাকেই ঘিরেই এই উৎসব!
নাদিয়ার বাবা-মাকে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষই চেনেন। বাবা হাবিবুর রহমান ও মা নাতালিয়া রহমানের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের লাখ লাখ অনুসারী। রকমফের ভিডিও দিয়ে তারা মন জয় করেছেন লাখো মানুষের। সুদূর প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধন ছিল বেশ গাঢ়।
হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের ছেলে আর বেলারুশের মেয়ে নাতালিয়া রহমান। দুই দেশের এই দুজন ২০১৭ সালে জার্মানে বিয়ে করেন। এই দম্পত্তির দেশে আসাটা (২০ ডিসেম্বর) এই প্রথম। এসেই ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুরে বাড়ির ছাদে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান এবং ২৩ ডিসেম্বর একটি কনভেনশন হলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তারা। এসব আনুষ্ঠানিকতায় ছিল বাঙালিয়ানার ছাপ।

নাতালিয়া রহমানের জন্য এই অনুষ্ঠানটি একেবারেই ব্যতিক্রম ছিল। তবে হাবিবুর রহমান এমন অনুষ্ঠান দেখে বড় হলেও, তার কাছেও এবারের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। কারণ জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দিন ওই ভবনে আরেকটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। চারতলায় যাদের বিয়ে হয়েছে, সেই অনুষ্ঠানের অতিথিরাও আমাদের দেখতে এসেছেন ও ছবি তুলেছেন।’
নাতালিয়ার পরিবারের অন্য সদস্যরা বাংলাদেশে আসতে পারেননি। তবে এমন একটা আয়োজন সারাজীবন মনে রাখার মতো, এমনটাই জানিয়েছেন বেলারুশের মেয়ে নাতালিয়ার কাছে। তিনি বলেন, সবাই আমাদেরকে নিয়ে অনেক উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে আমার মেয়েও বেশ খুশি।
বিয়ের পর পরই বাংলাদেশে বেড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল এই দম্পত্তির। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব, মেয়ের জন্ম ও নানা বিধি-নিষেধের কারণে আসতে পারেননি। তবে অমিক্রন-কালে এসেও খুব বেশিদিন থাকতে পারছেন না তারা। স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের বাড়ি, কক্সবাজার, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার পর আগামী ৭ জানুয়ারি তারা আবার পাড়ি দেবেন জার্মানিতে।
হাবিবুর ২০১২ সালে জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখে উচ্চশিক্ষার জন্য যান। আর নাতালিয়া উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান ২০১০ সালে। ২০১৩ সালে ‘স্টুডেন্ট জব’ করতে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল নাতালিয়া ও হাবিবুরের। সেই পরিচয় প্রেমের দিকে বাঁক নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তারপর বিয়ে ও সংসার।
হাবিবুর রহমান জার্মানিতে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটিং ফার্মে ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার আর নাতালিয়া ওই দেশে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত। তবে তারা বর্তমানে ফেসবুক-ইউটিউবে জনপ্রিয় ব্লগার হিসেবে পরিচিত।