৭৬ বছর বয়সে পূরণ হলো পাইলট হওয়ার স্বপ্ন

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২,   ৩ মাঘ ১৪২৮,   ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৭৬ বছর বয়সে পূরণ হলো পাইলট হওয়ার স্বপ্ন

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৪:১৭ ৬ ডিসেম্বর ২০২১  

৭৬ বছর বয়সে পূরণ হলো পাইলট হওয়ার স্বপ্ন। ছবি: সংগৃহীত

৭৬ বছর বয়সে পূরণ হলো পাইলট হওয়ার স্বপ্ন। ছবি: সংগৃহীত

ছোটবেলায় সবারই স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে কেউ ডাক্তার, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার আবার কেউ পাইলট হওয়ার। তেমনি স্বপ্ন ছিল তারও। তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সে পাইলট হয়ে আকাশে উড়বে। সেই স্বপ্ন পূরণ হলো ৭৬ বছর বয়সে এসে। তার নাম মুহাম্মদ মালহাস। তিনি জর্ডানের বাসিন্দা।

তবে অন্যের নয়, নিজের বানানো বিমানের ককপিটে আকাশে উড়লেন তিনি। তাও ভিন্নভাবে। নিজের বাড়ির বেজমেন্টে বসেই বিশ্ব ভ্রমণ সেরে ফেলতে পারেন তিনি।

মুহাম্মদ মালহাস বলেন, ‌‘মানুষ যখন থেকে আকাশে পাখি উড়তে দেখেছে, তখন থেকেই তারা মুক্তভাবে আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখছে।’ কিশোর বেলা থেকেই ঘুড়ি উড়াতে ভীষণ ভালোবাসতেন তিনি। ভাবতেন কীভাবে এক টুকরো কাগজ আকাশের এতো উপরে উড়তে পারে। 

নিজের বানানোর বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের রেপ্লিকার ককপিটে বসে তিনি সেই থেকে তার উড়ার প্রতি ভালোবাসা আর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। নিজের বানানোর বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের রেপ্লিকার ককপিটে বসে তিনি এ কথা বলছিলেন। 

তিনি আরো বলেন, আমার মনটা আকাশেই পড়ে থাকত। আমার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। তবে পরিস্থিতির কারণে তা হয়ে উঠেনি। ১৯৬৯ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর বাবার সঙ্গে পরিবারের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। 

তবে মনের এক কোণে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছিলেন তিনি। বিমান চালনা, ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে বিষয়টি আয়ত্ত্বে আনেন তিনি। ১৯৭৬ সালে তিনি রয়্যাল জর্ডানিয়ান এয়ার একাডেমিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি ছোট পাইপার বিমান উড়ানোর প্রশিক্ষণ নেন। দুই বছর পর তিনি বিমানে উড়ানোর লাইসেন্স পান।

প্রায় এক দশক ধরে তিনি জর্ডানিয়ান গ্লাইডিং ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ছুটির দিনগুলোতে বিমানও চালাতেন তিনি। তবে ২০০৬ সালে তিনি তার কম্পিউটারে ফ্লাইট সফটওয়ার ডাউনলোড করেন। এ সময় তার শখ অন্য দিকে মোড় দেয়। স্বপ্ন জাগে ঘরে বসেই বিশ্ব ভ্রমণের। 

নিজের বানানোর বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের রেপ্লিকার ককপিটে বসে তিনি স্থানীয় বাজার থেকে বিভিন্ন জিনিস কিনে তৈরি করে বিমানের ককপিট, যা একদম আসল বিমানের ককপিটের মতোই। আর নিজের তৈরি এই ককপিটে সুইচ চেপেই বিশ্বভ্রমণ সেরে ফেলতে পারেন তিনি।

ককপিটের সামনের স্ক্রিনের উপরে আছে মেঘ এবং আকাশ, নীচে আছে নদী, বন এবং মরুভূমির ছবি । এমনকি বাইরের আবহাওয়া কেমন তাও মালহাস বেছে নিতে পারে। ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার বন্ধুদের সহায়তায় ককপিটটি বানাতে তার তিন বছর লেগেছে। এতে খরচ পড়েছে প্রায় ছয় হাজার দিনার।

কখনো কখনো মালহাসের স্ত্রীও তার সঙ্গে ককপিটে যোগ দেন। মালহাস বলেন, ঘরে বসে সারা বিশ্বে ওড়ার এমন অনুভূতি বিস্ময়কর!

সূত্র: এনডিটিভি

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ

English HighlightsREAD MORE »