যে গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে পারে

ঢাকা, সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৮,   ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

যে গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে পারে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৫ ২৪ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৩:১৬ ২৪ অক্টোবর ২০২১

যে গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে পারে। ছবি সংগৃহীত

যে গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে পারে। ছবি সংগৃহীত

পৃথিবীতে এমন একটি গ্রাম আছে যেখানকার সব বাসিন্দাই দড়ির উপরে হাঁটতে পারে। সেই গ্রামটি হচ্ছে রাশিয়ার সোভাক্রা। এই গ্রামের নারী-পুরুষ সবাই দড়ির উপর হাঁটতে পারে। 

এমনকি চোখ বেঁধে দিলেও তারা স্বাভাবিকভাবেই দড়ির উপরে হাঁটতে পারেন। আমরা অনেকে সার্কাসে দড়ির উপর হাঁটতে দেখেছি। তবে এই দড়ির উপর হাঁটা সহজ কোনো কাজ নয়। এর জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়। অথচ এই কঠিন কাজই সোভাক্রা গ্রামের বাসিন্দারা নিত্যদিন করে যাচ্ছে।

যে গ্রামের সবাই দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে পারেরাশিয়ার সোভাক্রা গ্রামটি গ্রেটার ককেশাস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত। আর দশটা গ্রামের সঙ্গে এই গ্রামের কোনো পার্থক্য নেই। তবে এর বাসিন্দাদের দড়ির উপর হাঁটার দক্ষতাই গ্রামটিকে আলাদা করে দেয়। ঠিক এ কারণে অনেক পর্যটক এই গ্রামের নাম দিয়েছেন ‘টাইটরোপ ভিলেজ’।

সোভাক্রার বাসিন্দারা সবাই দড়ির ওপর দিয়ে বাঁশ কিংবা লাঠির মতো দণ্ড নিয়ে অনায়াসে হেঁটে যেতে পারে। এমনকী খাঁড়া পাহাড়ি পথেও। যে কাজ একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের জানার কথা, সেই একই কাজ গ্রামের সব বাসিন্দা জানে। রহস্য কী?

পুরুষরাও দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে পারেগ্রামের সব বাসিন্দার দড়ির ওপর হাঁটার পেছনে একটি গল্প আছে৷ আজ থেকে ১০০ বছর আগে সোভাক্রার বিপদজনক পাহাড়ি পথে কোনো সেতু ছিল না। আশেপাশের গ্রামে বিয়ের সম্বন্ধ আসতো যুবকদের। তবে পাহাড়ি পথ দিয়ে তো যাওয়া সম্ভব নয়। অবশ্য পাশের গ্রামে যেতে হলে একটা রাস্তা ছিল। তবে এতে অনেক সময় লেগে যেত। 

বাধ্য হয়েই তাই দড়িতে হেঁটে যেতে হতো। প্রথম দিকে দড়ির ওপর হাঁটতে গিয়ে অনেকের প্রাণহানি হতো। ধীরে ধীরে গ্রামের বাসিন্দারা এতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এখান থেকে সোভাক্রায় টাইটরোপওয়াকের সূত্রপাত।

খুব ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের দড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে শেখান রামাজান গাজিয়েভ নামক এই গ্রামের এক শিক্ষক জানান, সবাই দড়ির উপর দিয়ে হাঁটার কৌশল রপ্ত করতে পারেন না। এজন্য শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হয়। তাই তো গ্রামের বয়স্করাও এখন আর আগের মতো টাইটরোপ অনুশীলন করতে পারেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ