২২ অক্টোবর ১৯৭১: তেজগাঁও এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি নৌকা এ্যামবুশ করে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৮,   ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

২২ অক্টোবর ১৯৭১: তেজগাঁও এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি নৌকা এ্যামবুশ করে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০৪ ২২ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১০:০৪ ২২ অক্টোবর ২০২১

তেজগাঁও এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি নৌকা এ্যামবুশ করে। ফাইল ছবি

তেজগাঁও এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি নৌকা এ্যামবুশ করে। ফাইল ছবি

১৯৭১ সালের ২২ অক্টোবর দিনটি ছিল শুক্রবার। এই দিন কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনীর ৯ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের যোদ্ধারা কসবা পাকসেনা ঘাঁটির ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। প্রায় ১০ মিনিট তীব্র কামানের গোলা বর্ষণের পর উত্তর দিক থেকে দু’টি কোম্পানী লেঃ আজিজ এবং সুবেদার মেজর শামসুল হকের নেতৃত্বে পাকসেনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। 

এই অতর্কিত আক্রমণে পাকসেনারা দিশেহারা হয়ে পরে। তিন ঘন্টা স্থায়ী এই যুদ্ধে ২৬ জন পাকসেনা নিহত ও ১৮ জন আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের কাছে ১১টি এল.এম.জি, একটি পিস্তল, ৪০টি এইচ-৩৬ গ্রেনেড, তিনটি ৯৪ এনার্গা, ৪৪টি প্লাস্টিক মাইন ও একটি ম্যাপ দখল করেন।

ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি নৌকা এ্যামবুশ করে। এই এ্যামবুশে নৌকাটি সম্পূর্ণ রূপে বিধ্বস্ত হয় এবং পাকবাহিনীর ৫ জন সৈন্য নিহত ও ৬ জন আহত হয়।

২ নম্বর সেক্টরে ইমামুজ্জামানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা দল হরিসরদার বাজারে অবস্থানরত পাকসেনাদের ওপর আক্রমণ চালায়। প্রায় ১২ ঘন্টার এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী মর্টার, মেশিনগান এবং আর.আর-এর রকেট পাকসেনাদের প্রচুর ক্ষতি সাধন করে। এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর ৩৫ জন সৈন্য হতাহত হয়।

৮ নম্বর সেক্টরে পাকসেনা ও রাজাকারদের সম্মিলিত একটি দল মুক্তিবাহিনীর নাইকালি অবস্থানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুক্তিবাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে ৩ জন পাক সৈন্য নিহত এবং ১৫ জন রাজাকার আহত হয়।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, জনগণ চায় পিপলস পার্টির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হোক। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বেআইনী ঘোষিত হবার পর তার দল এখন কেবল পাকিস্তানের বৃহত্তম দল নয়, জাতীয় পরিষদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। পূর্ব পাকিস্তানের শ্রম, সমাজকল্যাণ ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী এ.এস.এম. সোলায়মান নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে বলেন, পাকিস্তানের আদর্শ সম্পর্কে অজ্ঞতাই হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতির জন্যে দায়ী। 

আজকের তরুণ সমাজের মধ্যে মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাস ভূমির দাবী কেন হয়েছিল সে ব্যাপারে প্রকৃত উপলব্ধি নেই। তরুণ সমাজের মধ্যে এ বোধ জাগ্রত করতে হবে। পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওবায়দুল্লা মজুমদার রাঙ্গুনিয়ায় এক সভায় বলেন, আওয়ামী লীগের এক শ্রেনীর নেতা পাকিস্তানের সহজ সরল জনগণের সঙ্গে বেইমানী করেছে। ‘বাংলাদেশ’ শ্লোগান তুলে তারা পাকিস্তানের আদর্শের মূলে আঘাত করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ