জাপানের ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি: মাউন্ট ফুজির উচ্চতা ১২ হাজার ৩৮০ ফুট

ঢাকা, রোববার   ২৮ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৮,   ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাপানের ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি: মাউন্ট ফুজির উচ্চতা ১২ হাজার ৩৮০ ফুট

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:০৫ ১৮ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ০২:২২ ১৮ অক্টোবর ২০২১

ফুজি পর্বত, যার উচ্চতা ১২ হাজার ৩৮০ ফুট । ছবি: সংগৃহীত

ফুজি পর্বত, যার উচ্চতা ১২ হাজার ৩৮০ ফুট । ছবি: সংগৃহীত

জাপানের একটি সুপরিচিত প্রতীক হল ফুজি পর্বত। ফুজি পর্বত শুধু জাপানেরই নয়, সমগ্র বিশ্বেই অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটিই জাপাানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এই পাহারড়টি মূলত একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। জাপানিদের কাছে ফুজি শুধু একটি পর্বত নয়, এটি তাদের জাতীয় ঐতিহ্যেরও অংশ। ২০০৩ সালে ফুজি পর্বতকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফুজি পর্বত জপানের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

জাপানের হনশু দ্বীপে ফুজি পর্বতের অবস্থান। জাপানিরা একে ‘ফুজি সান’এবং ফুজি য়ামা নামে ডাকে। জাপানের হোক্কাইডো আদিবাসীদের ভাষায় ফুজি অর্থ আগুন এবং জাপানি ভাষায় সান অর্থ পাহাড়। তাহলে জাপানি ফুজি সান অর্থ দাঁড়ায় আগুনের পাহাড়।

জাপানি ফুজি সান অর্থ দাঁড়ায় আগুনের পাহাড়বিশ্বব্যাপী এই আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজি নামে সর্বাধিক পরিচিত। জাপানের জনশ্রুতি আছে যে ২৮৬ খ্রিস্টপূর্বে এক ভূমিকম্পের সময় এই আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে গবেষকেরা বলছেন আগ্নেয়গিরিটির উৎপত্তি কমপক্ষে ২৬ লাখ বছর আগে। এর পর্বতশৃঙ্গ গঠিত হয়েছে সম্ভবত প্রায় সাত লাখ বছর আগে। 

বর্তমান মাউন্ট ফুজি তিনটি আগ্নেয়গিরির সমন্বয়ে গঠিত। পাহাড়টি টোকিও থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রৌদ্রজ্জ্বল দিনে টোকিও থেকেও এই পর্বতের চূড়া স্পষ্ট দেখা যায়। ফুজি পাহাড়ের উত্তরদিকে ঢালে পাঁচটি হৃদ আছে। এগুলো ফাইভ ফুজি লেক হিসেবে পরিচিত।

ফাইভ ফুজি লেক হিসেবে পরিচিতফুজি পর্বত জাপানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। যার উচ্চতা ১২ হাজার ৩৮০ ফুট। এই পাহাড়ের তলদেশের পরিধি প্রায় ১২৫ কিলোমিটার এবং ব্যস প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। মাউন্ট ফুজির জ্বালামুখটি চমৎকার রকমের প্রতিসম। আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণে পাথর, ছাই এবং লাভার মিশ্রণে এ ধরনের আকৃতি তৈরি হয়েছে। এই অংশটি বছরের বেশ কয়েক মাস তুষার আবৃত থাকে।

ফুজি পর্বতের নিচের তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সম্মেলন ঘটেছে। ভূবিজ্ঞানীদের মতে যে কোনো মুহূর্তে এর বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে প্রতি ৫০০ বছর পর পর এখানে বড় ধরনের অগ্নুৎপাত ঘাটে। ১৭০৭ সালে মাউন্ট ফুজি সর্বশেষ অগ্নুৎপাত ঘটেছিল। সে সময় আগ্নেয় ছাই টোকিও শহরেও পরে ছিল। ভবিষ্যতেও এই আগ্নেয়গিরিতে প্রবল অগ্ন্যুৎপাত ঘটলে, টোকিও শহর সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাউন্ট ফুজির জ্বালামুখটি চমৎকার রকমের প্রতিসমফুজি জাপানের তিনটি পবিত্র পর্বতের একটি। জাপানের শিন্তো ধর্মের অনুসারীরা সপ্তম শতাব্দী থেকে আধ্যাত্মিক সাধনায় এই জায়গাকে সম্মান জানিয়ে আসছে। এই পাহাড়ের পাদদেশে এবং চূড়ায় শিন্তোবিশ্বাসীদের মন্দির রয়েছে। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে বহু জাপানি পাহাড়চূড়ার মন্দিরে তীর্থযাত্রা করে। 

বরফে ঢাকা ঘুমন্ত এই আগ্নেয়গিরি জাপানের ঐতিহাসিক শিল্পকলায় বহুবার স্থান পেয়েছে। পর্বতারোহণের জন্য ফুজি পর্বত বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়। ৬৩৩ সালে এক ভিক্ষু প্রথমবার এই পর্বত জয় করেন। প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ পর্বতারোহী এখানে ঘুরতে আসে। তার মধ্যে প্রায় দুই লাখ লোক পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করতে পারে।

প্রায় দুই লাখ লোক পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করতে পারেজাপান এমনিতেই সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত। তার উপর এই দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ থেকে সূর্যোদয় অবলোকন করা আরো রোমাঞ্চকর। ফুজি পাহাড়ের উপর থেকে সূর্যোদয় উপভোগ করার আলাদা নামও আছে। একে বলা হয় গোরাইকো। সে জন্য অনেকেই রাতের বেলা এই পাহাড়ে আরোহণ শুরু করে, যাতে সকালের অসাধারণ সূর্যোদয় উপভোগ করা যায়। মাউন্ট ফুজি বাইরে থেকে অত্যন্ত স্নিগ্ধ মনে হলেও এর ভেতরে জমে আছে বিপুল পরিমাণ লাভা। সেজন্য একে বলা হয় সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ