আজ বিশ্ব বসতি দিবস

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮,   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

আজ বিশ্ব বসতি দিবস

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:২৬ ৪ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১১:৩১ ৪ অক্টোবর ২০২১

আজ বিশ্ব বসতি দিবস। ছবি সংগৃহীত

আজ বিশ্ব বসতি দিবস। ছবি সংগৃহীত

৪ অক্টোবর, আজ বিশ্ব বসতি দিবস। ‘নগরীয় কর্মপন্থা প্রয়োগ করি কার্বন মুক্ত বিশ্ব গড়ি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ সোমবার পালিত হবে ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২১’। মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার আবাসন নিশ্চিতকরণসহ বাসযোগ্য ও নিরাপদ আবাসস্থলের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘ বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 

এরপর ১৯৮৬ সাল থেকে সারা বিশ্বে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। মূলত সবার জন্য নিরাপদ আবাসন সৃষ্টিই এই দিবসটি পালনের লক্ষ। বিগত ৩৫ বছর ধরে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়ে আসলেও এর লক্ষ ও উদ্দেশ্য কোনোটাই বাস্তবায়িত হয়নি।

১৯৯৭ সালের ১৯ মে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়ে গৃহহীন হয়ে পড়ে কক্সবাজার জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার। তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ বছরের ২০ মে দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যান। গৃহহীন ঐ সব পরিবারকে পুনর্বাসনের ঘোষণা দেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয় 'আশ্রয়ণ' প্রকল্প। এরই মধ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে তিন লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবারকে আবাসনের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বস্তিবাসী ও ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে ঘরহীন মানুষের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার করেছে। সরকার চায়, আগামী বছরের মধ্যে বাংলাদেশের কেউ যেন গৃহহীন না থাকে। ঠিক এমন প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ২০২০ থেকে ২০২১ সালকে 'মুজিববর্ষ' ঘোষণা করে সরকার। এর পরই 'মুজিববর্ষে বাংলাদেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না'-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন নির্দেশের পর প্রত্যেক গৃহহীন পরিবারকে ঘর দিতে বিভিন্ন দপ্তর বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে সারাদেশে গৃহ ও ভূমিহীন আট লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি গৃহহীন পরিবারের তালিকা করা হয়। এর মধ্যে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা দুই লাখ ৯২ হাজার ২৮৩। 

এ ছাড়া জমি আছে, কিন্তু ঘর নেই- এমন পরিবারের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫০টি। এসব পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে পাকা বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মোট ব্যয় ধরা হয় ১৫ হাজার ৮২ কোটি টাকা। আগামী মার্চের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

ভূমি ও গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়ার কাজ চলছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের তিনটি ধাপে। আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর মাধ্যমে এরই মধ্যে তিন লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। বর্তমানে আরও দুই লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের কাজ চলমান। একতলাবিশিষ্ট দুই বেডের এই পাকা বাড়িতে থাকছে ড্রইংরুম, বারান্দা, টয়লেট, কিচেনসহ একটি পরিবারের বসবাসের উপযোগী বাসগৃহ।

এদিকে রাজধানীর বস্তিবাসীর বাসস্থানের জন্য এরই মধ্যে পাঁচটি বহুতল ভবন তৈরি করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। সেখানে ৫৩৩টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। এরই মধ্যে কিছু ফ্ল্যাট বস্তিবাসীদের নামে বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। এসব প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশের কেউ যেন গৃহহীন না থাকে। মুজিববর্ষে সরকার চায়, দেশের কেউ যেন গৃহহীন না থাকে। সে লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ