২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১: উপহারের তিনটি বিমান দিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ শুরু

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৫ ১৪২৮,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১: উপহারের তিনটি বিমান দিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ শুরু

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪৮ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১০:৪৯ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দিনটি ছিল মঙ্গলবার। এদিন ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বাংলাদেশের প্রথম বিমান বাহিনী ইউনিট ‘কিলো ফ্লাইট’ গঠন করা হয়। ভারতের কাছ থেকে পাওয়া তিনটি নন-কমবেট এয়ার ক্রাফট, ১টি অ্যালুয়েট ( Alouette III) হেলিকপ্টার, ১টি অটার (Otter DHC-3) বিমান এবং ১টি ডাকোটা (DC-3) বিমান দিয়েই শুরু হয় প্রশিক্ষণ।

অ্যালুয়েট হেলিকপ্টারের দায়িত্ব পান স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ,  পিআইএ-র ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং ফ্লাইং অফিসার বদরুল আলম। অটার বিমানের দায়িত্ব পান ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শামসুল আলম, পিআইএ-র ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ এবং বেসামরিক ক্যাপ্টেন শরফুদ্দিন আহমেদ। ডাকোটা বিমানের দায়িত্ব পান পিআইএ-র ক্যাপ্টেন আবদুল খালেক, পিআইএ -র ক্যাপ্টেন আবদুল মুকিত এবং পিআইএ-র ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার।

১১ নম্বর সেক্টরে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মতিউর রহমানের নেতৃত্বে ৩ প্লাটুন গেরিলা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানা ৩ দিক থেকে আক্রমণ করে। প্রবল প্রতিরোধ আক্রমণ করেও ব্যর্থ হয় এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাকসেনা হতাহত হবার পর রাতের অন্ধকারে হানাদারেরা মোহনগঞ্জের দিকে পালিয়ে যায়। এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন শহিদ হন।

২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিবাহিনী ৪র্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি শক্তিশালী দল কায়েমপুর পাকসেনা ঘাঁটি আক্রমণ করে। চারঘণ্টা যুদ্ধের পর পাকসেনারা টিকতে না পেরে কায়েমপুর ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই যুদ্ধে ১৫ জন পাকসেনা নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। ১ ঘন্টা পরে পাক বিমানবাহিনী এক ঘন্টাব্যাপী মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের উপর এয়ার ষ্ট্র্যাফিং করে। বিমান ফিরে যাবার কিছুক্ষণের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি দল কায়েমপুর, শ্রীপুর, মইনপুর, কামালপুর ও লক্ষ্মীপুরের পাক অবস্থানে আক্রমণ করে পাকক্যাম্পের ৭০টি বাঙ্কার ধ্বংস, অসংখ্য পাকসেনা হতাহত করলে হানাদাররা নিশ্চিহ্ন হয়। মুক্তিযোদ্ধারা এ সমস্ত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং পাকসেনাদের কাছ থেকে মেশিনগান, মর্টার ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রচুর গোলাবারুদ দখল করে। এয়ার ষ্ট্র্যাফিং ও অপরাপর যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর ১০ যোদ্ধা শহিদ ও ৬ জন আহত হন।

খুলনা অঞ্চলে পূর্ণ প্রস্তুতি ও গোলন্দাজ বাহিনী, পদাতিক বাহিনী ও গানবোটের শক্তিতে হানাদারেরা শ্যামনগর মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের উপর হামলা চালায়। ৩ দিন ধরে প্রতিরোধ অব্যাহত রেখে কৌশলগত কারণে মুক্তিযোদ্ধারা শ্যামনগর ছেড়ে যায়। কুমিল্লার কসবার কাছে মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের কাইউমপুর ঘাঁটির ওপর মর্টারের সাহায্যে ব্যাপক আক্রমণ চালায়। এই সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ৩৫ জন সৈন্য নিহত ও ১৫ জন আহত হয়। অপরদিকে মুক্তিবাহিনীর একজন যোদ্ধা আহত হন।

প্রধান সামরিক প্রশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসের ৬ অফিসারকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। এরা হলেন, ইরাকস্থ রাষ্ট্রদূত এ এফ এম আবুল ফাত্তাহ, কলকাতাস্থ ডেপুটি হাইকমিশনার হোসেন আলী, জাতিসংঘস্থ সহকারী স্থায়ী প্রতিনিধি এস এ করিম, ওয়াশিংটনস্থ কাউন্সিলার এস এ এম এস কিবরিয়া, থার্ড সেক্রেটারি মহিউদ্দিন আহমদ ও আনোয়ারুল করিম।

গভর্নর ডা. এ এম মালিক এক বক্তৃতায় ‘পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি ধ্বংসের প্রয়াসে লিপ্ত শত্রুদের তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। সামরিক প্রশাসকের দফতর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে সতর্ক করে দেয়া হয় যে, কোনক্রমেই শেখ মুজিবের বিচার সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা যাবে না।

বগুড়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মওলানা নজির উল্লাহর নেতৃত্বে মাদ্রাসা শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রী আব্বাস আলী খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মাদ্রাসা শিক্ষকরা মন্ত্রীকে জানান, এলাকায় তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে