২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১: খুলনায় রাজাকারের একটি দল অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করে

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১: খুলনায় রাজাকারের একটি দল অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৭:১৮ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ০৭:১৮ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজাকারদের সাহায্যেই পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্ফাথান জানতে পারত। ইল ছবি

রাজাকারদের সাহায্যেই পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্ফাথান জানতে পারত। ইল ছবি

১৯৭১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দিনটি ছিল সোমবার। এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ‘বাংলাদেশ’ বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনদিনের সরকারী সফরে মস্কো রওনা হন।

মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদল পাকসেনাদের একটি দলকে মাগুলা বাজার থেকে রসদ নিয়ে দোহার থানার কাম্পে যাবার পথে আক্রমণ করে। এই আক্রমণে ১৪ জন পাকসেনা নিহত ও ৮ জন আহত হয়। গেরিলা যোদ্ধারা পাকসেনাদের সমস্ত রসদ দখল করে। ৪নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি দলকে রসদ নিয়ে বড়াইল ক্যাম্পের দিকে যাবার পথে অ্যামবুশ করে। এই অ্যামবুশে ২ জন পাকসেনা নিহত হয়।

সিলেটে কুমারশৈলের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের উপর পাকবাহিনী হামলা চালায়। ১ ঘন্টাব্যাপী হামলায় বেশকয়েকটি মুক্তিযোদ্ধা বাঙ্কার ধ্বংস হয়।
খুলনা পাইকগাছা থানার গরুইখালী গ্রামে রাজাকারদের একটি দল টহল দিতে এলে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ঘিরে ফেলে। ফলে উপায়ান্তর না দেখে রাজাকারদের পুরো দলটি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করে।

৬নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী কমান্ডার মোত্তালিব ও কমান্ডার এস এম ফারুকের নেতৃত্বে হিলিতে পাকসেনাদের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ আক্রমণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আসাম রেজিমেন্ট ও বিএসএফ গোলন্দাজ ইউনিট সহায়তা করে। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই যুদ্ধে ৪ জন পাকসেনা নিহত হয়। অপরদিকে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার মোত্তালিব মর্টারের গোলায় আহত হন। এ আক্রমণে মাইনের সাহায্যে হিলি রেলওয়ের কিছু অংশ ধ্বংস হয়।

মুক্তিবাহিনী ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায় পাকসেনাদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। এই সংঘর্ষে ২ জন পাকসৈন্য নিহত হয়। মুক্তিবাহিনী মর্টারের সাহায্যে নওয়াবগঞ্জ থানায় পাকসেনাদের রামচন্দ্রপুর ঘাঁটির ওপর আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর ৭ সেনা নিহত হয়।

পাকবাহিনী নদীপথে নওয়াবগঞ্জ যাবার সময় দুইবার পর্যুদস্ত হবার পর পদব্রজে নওয়াবগঞ্জ অভিমুখে অগ্রসর হলে ৫০ জন গেরিলার একটি শক্তিশালী মুক্তিযোদ্ধা দল গালিমপুরের কাছে পাকসেনাদের আক্রমণ করে। এই আক্রমণে পাকবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনসহ ৩৫ জন সৈন্য নিহত এবং অনেক আহত হয়। বাকি পাকসেনারা ছাত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর ১টি এলএমজি, ৩টি ষ্টেনগান, বেশকিছু রাইফেল ও  প্রচুর গোলাবারুদ দখল করে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতাকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং বাংলাদেশের পরিস্থিতি উল্লেখ করে ভারতে অবস্থানকারী শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটি মীমাংসায় আসার জন্য পাকিস্তানিদের প্রতি আহ্বান জানান।

মওলানা এম এ মান্নানের নেতৃত্বে মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির একটি প্রতিনিধি দল ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক লে. জেনারেল নিয়াজীর সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি কোরআন উপহার দিয়ে বলেন, পাকিস্তানি নিরাপত্তার জন্য ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা রাষ্ট্রবিরোধীদের উৎখাতে লে. জেনারেল নিয়াজীকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে