শিশুদের খেলা ‘বালিশ লড়াই’, জাপানের জাতীয় প্রতিযোগিতা হয়ে উঠলো যেভাবে

ঢাকা, সোমবার   ১৮ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৩ ১৪২৮,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শিশুদের খেলা ‘বালিশ লড়াই’, জাপানের জাতীয় প্রতিযোগিতা হয়ে উঠলো যেভাবে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:২৫ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ০২:২৬ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

বালিশ লড়াই জাপানের জাতীয় একটি প্রতিযোগিতা

বালিশ লড়াই জাপানের জাতীয় একটি প্রতিযোগিতা

বালিশ লড়াই বা পিলো ফাইটিং ছোটবেলায় খেলেননি এমন কাউকে খুঁজে পাওউয়া যাবে না। বিশ্বের সব দেশের শিশুরাই এই খেলাটি অত্যন্ত উপভোগ করে থাকে। জাপানও তার ব্যাতিক্রম নয়। তবে পার্থক্য কেবল এই, সেখানে ছেলে-বুড়ো সবাই খেলে এই খেলা। এমনকি এখানে খেলাটিকে জাতীয় খেলার মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে; তাছাড়া শিশুরাই শুধু নয়, সব বয়সের এবং পেশার মানুষেরা এতে অংশ নিয়ে থাকে।    

প্রতি বছর সমগ্র জাপান থেকে দলবেঁধে ডজন ডজন মানুষ বিশ্বের অন্যতম অনন্য ক্রীড়া ইভেন্ট 'অল-জাপান পিলো ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপে' অংশ নিতে দেশটির ইতো শহরে ভ্রমণ করে থাকে। অঞ্চলভিত্তিক কোয়ালিফাইং ইভেন্টে প্রথম রাউন্ড খেলার পর বিজয়ী দলগুলো 'জাপানের সেরা বালিশ যোদ্ধা'র খেতাবের জন্য টোকিওর দক্ষিণে অবস্থিত ছোট মাছ ধরার শহর ইতোতে এসে মিলিত হয়।  

এখানে সব বয়সের মানুষেরাই অংশ নিতে পারেসাধারণত জাপানি শিক্ষার্থীরা স্কুলের বিভিন্ন ট্রিপের সময় ঘুমানোর আগে বালিশ ছোঁড়াছুড়ির খেলায় মত্ত থাকে; এখান থেকেই বালিশের এই প্রতিযোগিতার মূল অনুপ্রেরণা নেয়া হয়েছে। জাপানে খুব কম মানুষই পাওয়া যাবে যারা স্কুলজীবনে এই মজার অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেনি। তাদেরই কয়েকজন ভাবলেন, কেমন হয় যদি বালিশ প্রতিযোগিতার ছোটবেলার সেই স্মৃতি আরেকবার ঝালিয়ে নেয়া যায়! ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্ট আকারে এই খেলার আয়োজন করা হয়। তারপর থেকে প্রতি বছরই প্রতিযোগিতাটি হয়ে আসছে।

হাইস্কুলের একদল শিক্ষার্থীর শুরু করা এই প্রতিযোগিতার নিয়মগুলো বিচিত্র তবে অপেক্ষাকৃত সহজ। দুই দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়; প্রতি দলে পাঁচজন করে খেলোয়াড় থাকে এবং তাদের সবার পরনে থাকে জাপানের গ্রীষ্মকালীন ঐতিহ্যবাহী পোশাক য়ুকাতাস। তারা সবাই মেঝেতে কম্বল মুড়ে ঘুমিয়ে থাকার ভান করে থাকে এবং রেফারি বাঁশি দিলেই দ্রুত উঠে এসে বালিশের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে থাকে। 

 ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্ট আকারে এই খেলার আয়োজন করা হয়এদিক থেকে দেখলে পিলো ফাইটিং অনেকটাই ডজবল খেলার মতো। উদ্দেশ্য, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বিশেষ করে তাদের দলনেতাকে বালিশ ছুঁড়ে আক্রমণ করা যেন সে খেলার বাইরে ছিটকে পড়ে। এই খেলার মূল লক্ষ্য এটাই- প্রতিপক্ষের দলনেতাকে আক্রমণ। তাতে করে যদি দলের বাকিরা খেলার ভিতরেও থাকে, লাভ নেই- দলনেতা আহত হলেই রাউন্ড শেষ। যে দল দুইটি দুই মিনিটের রাউন্ড জেতে, তারাই জয়ী হয়। রাউন্ড জুড়ে দলনেতা সুরক্ষিত আছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য, প্রতি দলের একজন করে খেলোয়াড় তাকে প্রতিপক্ষের বালিশ থেকে রক্ষা করতে একটি ডুভেট (লেপ) ব্যবহার করতে পারেন।    

এই অল-জাপান পিলো ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ উদ্বোধনের এক বছর পর, ২০১৪ সালে জাপানি কোম্পানি মাকুরা কাবুশিকিগাইশা একটি বিশেষ বালিশ বাজারে আনে; এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যেই সেই বালিশ ডিজাইন করা হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত এটিই প্রতিযোগিতার অফিশিয়াল বালিশ। জাপানি মুদ্রায় এসব বালিশের একেকটির দাম ৩,১৫০ ইয়েন (৩০ ডলার প্রায়)। বালিশটি নাকি একেবারে 'নিখুঁত'- নিক্ষেপ করার জন্য যথেষ্ট ভারী আবার এমন স্থিতিস্থাপক যেন এর মাধ্যমে প্রতিযোগীরা কোন আঘাত না পায়। 

ইতো শহরে প্রতিবছর প্রতিযোগিতার জন্য যেমন ৯ বছরের খুদেরা থাকে, তেমনি ষাটোর্ধ্বদেরও দেখা যায়এখন প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বালিশ লড়াইয়ের জন্য জাপানের সেরা দলগুলো ইতো শহরে সমবেত হয়। সেখানে যেমন ৯ বছরের খুদেরা থাকে, তেমনি ষাটোর্ধ্বদেরও দেখা যায়। বিজয়ীরা পান এক লাখ ইয়েন (৯১৫ ডলার)। টাকার অংকে পুরস্কারটা হয়তো খুব বড় নয়, তবে যারা এ খেলায় অংশ নেন, সকলেই জিততে মরিয়া থাকেন। এর কারণ টাকা নয়, বরং খেলায় জেতাটাই তাদের কাছে আসল।  

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে