রুদ্ধশ্বাস ৬০০ মিটার যাত্রা, রশির উপর শুয়ে বসে বিশ্রামও নিয়েছেন যুবক

ঢাকা, সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১০ ১৪২৮,   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রুদ্ধশ্বাস ৬০০ মিটার যাত্রা, রশির উপর শুয়ে বসে বিশ্রামও নিয়েছেন যুবক

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৬ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১২:৪৭ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

পলিনের পক্ষে এভাবে ৬০০ মিটার পথ হাঁটা মোটেও সহজ ছিল না। ছবি: প্রতীকী

পলিনের পক্ষে এভাবে ৬০০ মিটার পথ হাঁটা মোটেও সহজ ছিল না। ছবি: প্রতীকী

প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দুঃসাহসিক সব কাজ করা যেন নেশার মতো হয়ে গেছে। রশির উপর দিয়ে হেঁটে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে যাওয়ার এডভাঞ্চারের স্বাদ নেন অনেক টাইটরোপ ওয়াকাররা। তবে এবার আইফেল টাওয়ার ও থিয়েটার ন্যাশনাল দ্য শাইউর মধ্যে ৬৭০ মিটার লম্বা রশির ওপর হেঁটেছেন নাথান পলিন নামের এক যুবক। 

সেই সঙ্গে শ্বাসরুদ্ধকর একটি দৃশ্যের সাক্ষী হলেন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দর্শনার্থীরাও। মাটি থেকে ৭০ মিটার বা ২৩০ ফুট ওপর দিয়ে হেঁটেছেন পলিন। তাও আবার এক বা দুই মিটার নয়, গুনে গুনে ৬০০ মিটার (দুই হাজার ফুট) লম্বা রশির ওপর। 

আইফেল টাওয়ার ও থিয়েটার ন্যাশনাল দ্য শাইউর মধ্যে ৬৭০ মিটার লম্বা রশির ওপর হেঁটেছেন নাথান পলিন২৭ বছর বয়সী নাথান পলিন ফ্রান্সের ‘ঐতিহ্য দিবসে’ গত শনিবার এই দুঃসাহসিক দৃশ্যের অবতারণা করেন। পলিন একজন পেশাদার টাইটরোপ ওয়াকার (রশির ওপর হাঁটায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি)। ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি রশির ওপর হেঁটেছেন তিনি। রশির এক প্রান্ত আইফেল টাওয়ারের সঙ্গে, অন্য প্রান্তটি ছিল শাইউ থিয়েটারের সঙ্গে বাঁধা। এর নিচ দিয়ে বয়ে গেছে সেন নদী।

শ্বাসরুদ্ধকর এ কাজ করার সময় নিরাপত্তার জন্য পলিনের শরীরের সঙ্গে বাঁধা ছিল একটি রশি। রশিটি মূল রশির সঙ্গে যুক্ত ছিল। কোনো কারণে তার পা ফসকালেও যেন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্যই এই ব্যবস্থা। ৬০০ মিটারের ওই রশিপথ পাড়ি দিতে পলিনকে মাঝেমধ্যে বিশ্রামও নিতে হয়েছে। আর সে বিশ্রাম তিনি নিয়েছেন কখনো রশির ওপর বসে, কখনো শুয়ে।

নাথান পলিন একজন পেশাদার টাইটরোপ ওয়াকারকাজটা যে সহজ ছিল না, তা স্বীকার করেছেন পলিন। তিনি বলেন, এভাবে ৬০০ মিটার পথ হাঁটা মোটেও সহজ ছিল না। এর জন্য প্রয়োজন গভীর মনোযোগ। পাশাপাশি মানসিক চাপ ও সংশ্লিষ্ট অনেক কিছু সামাল দেওয়ার সক্ষমতা। পলিনের এই রেকর্ড নতুন নয়। ২০১৭ সালে ফ্রান্সের ‘ঐতিহ্য দিবসে’ রশির ওপর হেঁটে সেন নদী পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়েন পলিন।

পলিনের মতে, শ্বাসরুদ্ধকর এমন কাজ করার পেছনে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা। এতে ঐতিহ্য জীবন ফিরে পায়। ফ্রান্সের মতো ইউরোপজুড়ে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ঐতিহ্য দিবস পালন করা হয়। এ সময় দর্শনার্থীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী সব জিনিসের দরজা খুলে দেওয়া হয়। দর্শনার্থীরা এসব উপভোগ করতে পারেন বিনা পয়সায়। এবার পলিনের কাণ্ড দেখতে সেন নদীর তীরে ভিড় করেছিলেন অনেক দর্শনার্থী। তারা করতালি দিয়ে তাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন, জানিয়েছেন উষ্ণ অভিনন্দন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে