মহামারিতে নেই যাত্রী, ট্যাক্সির ছাদে সবজি চাষ করছেন চালকরা

ঢাকা, বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৫ ১৪২৮,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মহামারিতে নেই যাত্রী, ট্যাক্সির ছাদে সবজি চাষ করছেন চালকরা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫৫ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১১:৫৮ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

পড়ে থাকা ট্যাক্সির ছাদেই চলছে সবজি চাষ

পড়ে থাকা ট্যাক্সির ছাদেই চলছে সবজি চাষ

মহামারির সঙ্কটকালে কাজ হারিয়ে বেকার হয়েছেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। সেই তালিকায় রয়েছে থাইল্যান্ডও। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর এই দেশে বেকারত্বের হাড় এখন অনেক বেশি। বিশেষ খেটে খাওয়া মানুষ। বর্তমানে প্রতিদিনকার কোলাহল উধাও। রাস্তায় বেরোলে ট্যাক্সির হর্নও সে ভাবে আর কানে আসে না। ছবিটি বরং একেবারে উল্টেই গিয়েছে। রাস্তার এক পাশে সার দিয়ে ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন পড়ে থেকে শীতল হয়ে গিয়েছে ইঞ্জিনও।

থাইল্যান্ডের এই ছবি একেবারেই অচেনা। পর্যটন-নির্ভর থাইল্যান্ডের রাস্তায় এক সময় ট্যাক্সির রেষারেষি হত। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ট্যাক্সিতে চাপিয়ে সারা জায়গা ঘুরে দেখাতেন চালকেরা। অতিমারির প্রকোপে সে সব আজও বন্ধ। কেউ উপার্জনের বিকল্প সন্ধানে অন্য রাস্তায় হাঁটা দিয়েছেন, তো কেউ একেবারেই বেরোজগার হয়ে এই পরিস্থিতি কাটার অপেক্ষা করছেন।

মহামারির কারণে বেকার হয়ে পড়েছে শত শত ট্যাক্সি চালক এমতাবস্থায় বেকার পড়ে থাকা ট্যাক্সিগুলোকে অভিনব উপায়ে কাজে লাগিয়ে কাজ হারানো চালকদের উপার্জনের রাস্তা বাতলে দিল একটি সংস্থা। থাইল্যান্ডের রাতচাফ্রুয়েক ট্যাক্সি কোঅপরেটিভ বসে থাকা গাড়িগুলোর চালে ও চারপাশে আস্ত সব্জি বাগানই বানিয়ে ফেলেছে। সেখানে সবজি ফলিয়ে যেমন দু’বেলা কাজ হারানো চালকদের পেট ভরাতে সাহায্য করছে তেমন সবজি বেচে উপার্জনের পথও বার করে দিয়েছে এই সংস্থা।

৫৪ বছর বয়সী এক্সিকিউটিভ থাপাকর্ন আসওয়ালার্টকুলের মতে, দ্য রচাপ্রুক অ্যান্ড বোভর্ন ট্যাক্সি সমবায়ের প্রায় ৫০০টি গাড়ি রয়েছে ব্যাংককের রাস্তায়। এছাড়াও, শহরের অনেক জায়গায় তাদের ২ হাজার ৫০০টি গাড়ি যাত্রীবিহীনভাবে বসে আছে। ট্যাক্সির ছাদে এবং সামনে-পিছনে বাঁশের কাঠামো করে প্রথমে তার উপর কালো রঙের প্লাস্টিক বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পর মাটি এবং উপযুক্ত পরিমাণ সার মিশিয়ে সব্জি ফলানোর উপযোগী উর্বর মাটি তৈরি করে নিয়েছে। এই মাটিতেই লঙ্কা, শশা-সহ একাধিক সবজির বীজ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন তাতে জল দিয়ে গাছের দেখাশোনা করেন ওই সংস্থার কর্মীরা। ক্রমে সেই বীজ থেকে গাছ বেরোচ্ছে। ফলছে নানা রকর সবজি। সেই সব সবজি ওই সব ট্যাক্সির চালকদেরই দেয় সংস্থাটি।

ট্যাক্সির ছাদে চাষ করা সবজি দেওয়া হচ্ছে চালকদেরই, বেচে যাওয়া গুলো বিক্রি করা হচ্ছে বাজারে  এরপর বেঁচে থাকা সবজি বাজারে বিক্রি করেন তারা। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন পর্যটন শিল্প ধুঁকতে থাকায় বহু ট্যাক্সির ঋণও শোধ করা যায়নি। এভাবে সবজি বিক্রির টাকায় কিছুটা হলেও সেই ঋণ পরিশোধ করা যাবে বলেই মনে করছে সংস্থাটি। ট্যাক্সিগুলোকে কাজে লাগানোর এটাই তাদের শেষ উপায়, মনে করেন থাপাকর্ন আসাওয়ালের্টকুন নামে সংস্থার এক আধিকারিক।

চারপাশ মাটি দিয়ে ঘিরে ফেলে তাতে গাছ লাগালে ট্যাক্সির কোনো ক্ষতি কি হবে না? থাপাকর্ন জানালেন, এমনিতেও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকার জন্য ট্যাক্সিগুলোর অনেক অংশই ক্ষতিগ্রস্ত। কোনো কোনো ট্যাক্সির ইঞ্জিন খারাপ হয়ে গিয়েছে। কারো কোনো অংশ খুলে চলে আসছে। তাই নতুন করে আর কোনো ক্ষতির কথা তারা ভাবছেন না।

সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাক্সির মাথা আজ সবুজে ভরে গিয়েছে। ফের কবে রাস্তায় ছুটবে জানা নেই, সবজি বিক্রির টাকা কতটাই বা ঋণ পরিশোধ এবং চালকদের পেট ভরাতে কাজে লাগবে সে হিসাব কষার আগে এ কথা স্বীকার করতেই হয়, রাতচাফ্রুয়েক ট্যাক্সি কোঅপরেটিভ-এর এই উদ্যোগ অভিনব। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে