২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১: ভারত সরকার পূর্ব বাংলার শরণার্থীদের মুক্ত স্বদেশে ফেরত পাঠাতে আগ্রহী

ঢাকা, বুধবার   ২০ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৫ ১৪২৮,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১: ভারত সরকার পূর্ব বাংলার শরণার্থীদের মুক্ত স্বদেশে ফেরত পাঠাতে আগ্রহী

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৩১ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১০:৩১ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

ইন্দিরা গান্ধী পশ্চিম বাংলায় আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের দেখতে যান।  ফাইল ছবি

ইন্দিরা গান্ধী পশ্চিম বাংলায় আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের দেখতে যান। ফাইল ছবি

১৯৭১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দিনটি ছিল সোমবার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লুধিয়ানায় এক সমাবেশে বলেন, যেসব বিদেশী সরকার বাংলাদেশ সমস্যাকে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত করছেন, তারা পক্ষান্তরে পাকিস্তান সরকারের অগণতান্ত্রিক কার্যক্রম ও গণহত্যার নীতিকে সমর্থন করছেন। তিনি বলেন, ভারত সরকার তার দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশের শরণার্থীদের মুক্ত স্বদেশে ফেরত পাঠাতে আগ্রহী।

রাজশাহীর সোনা মসজিদের পাক সৈন্য অবস্থানে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় গোলন্দাজ-সহায়তায় প্রবল আক্রমণ হানে এবং ক্রমাগত অগ্রসর হতে থাকলে অসংখ্য পাকসেনা হতাহত হয় এবং এক পর্যায়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। মুক্তিবাহিনী ধোবড়া এলাকা পর্যন্ত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। চারঘাট থানা পিসকমিটির সেক্রেটারীর বাড়ী আক্রমণ করে একদল মুক্তিযোদ্ধা এবং তাকে হত্যা করে।

দিনাজপুরে ক্যাপ্টেন সুলতান শাহরিয়ার রশিদের নেতৃত্বে তিন কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধা পাকসেনাদের অমরখানা অবস্থানের উপর আক্রমণ চালায়। দুই পক্ষে প্রচন্ড যুদ্ধ হলেও পাকসেনাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে চুই নদীর পশ্চিম পাশে নিজেদের প্রতিরক্ষা এলাকায় ফিরে আসে। এদিকে ১ নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনী সুবেদার রহমান আলীর নেতৃত্বে পাকবাহিনীর চম্পকনগর বিওপি আক্রমণ করে। কিছুক্ষণের এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর ৩ জন সৈন্য হতাহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা কোনোরূপ ক্ষতি ছাড়াই নিজেদের অবস্থানে ফিরে আসে।

ক্যাপ্টেন গাফফার একটি শক্তিশালী রেইডিং পার্টি নিয়ে কায়েমপুরে পাকসেনাদের অবস্থানের পিছনে অনুপ্রবেশ করে। পরদিন ভোরে রেকি করার পর সকাল ১০টায় পাকসেনাদের পেছন দিকের অবস্থানের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। রেইডিং পার্টির গুলিতে হঠাৎ আক্রমণে হতচকিত পাকসেনাদের অনেকে হতাহত হয়। পাকসেনাদের অপর একটি দল কায়েমপুরে তাদের অবস্থানের দিকে নৌকাযোগে অগ্রসর হবার পথে মুক্তিফৌজের অ্যামবুশ পার্টি তাদের উপরও অতর্কিত আক্রমণ চালায়। দুটি নৌকা আক্রমণের ফলে ধ্বংস হয়ে যায় এবং এতেও অনেক পাকসেনা হতাহত হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে সিলেটের কুমারশৈল চাবাগানে একজন এবং বগা এলাকায় একজন পাকসেনা নিহত হয়। মুক্তিবাহিনীর গেরিলা দল চট্টগ্রাম-কুমিল্লা সড়কে জগন্নাথদীঘির কাছে বাজানকারা সেতুটি উড়িয়ে দিয়ে সেতুর উত্তরে ১০ জন গেরিলা ও একটি নিয়মিত বাহিনী পাকসেনাদের অপেক্ষায় অ্যামবুশ পাতে। বাজানকারা সেতু ধ্বংসের সংবাদ পেয়ে ফেনী থেকে পাকবাহিনীর একটি শক্তিশালী দল সেতুর দিকে অগ্রসর হয়। পাকসেনারা অ্যামবুশের আওতায় এলে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর একজন অফিসারসহ ২৫ জন সৈন্য নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে পাকসেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে ফেনীর দিকে পালিয়ে যায়।

খুলনার আশাশুনি থানার চাপড়ার রাজাকার ক্যাম্পের উপর মুক্তিবাহিনী এক ঝটিকা আক্রমণ চ্যালায় এবং বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ২ নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনী সুবেদার আলী আকবর পাটোয়ারীর নেতৃত্বে পাকসেনা ও রাজাকারদের রামগঞ্জ অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে ১৪ জন পাকসেনা নিহত ও ১৭ জন আহত হয়।

‘দাবানল’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মালিকনগর এলাকায় প্রায় দুই কোম্পানি পাকসৈন্যের সাথে মুক্তিবাহিনীর গোলা বিনিময়ে ২ জন পাকসৈন্য নিহত হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুর জেলার ডিমলা থানার অন্তর্গত সুটিবাড়ি হাটের পশ্চিম জোড়জিগা গ্রামে মুক্তিবাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে ৯ জন পাকসেনা নিহত হয় এবং কয়েকজন অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়। ওই থানার বালাপাড়া গ্রামে মুক্তিবাহিনীর পেতে রাখা মাইনে ৭ জন পাকসেনা নিহত হয়। পরে বর্বর পাকসৈন্যরা বালাপাড়া গ্রাম সম্পূর্ণভাবে জ্বালিয়ে দেয়।

পূর্ব পাকিস্তানের শ্রম, সমাজকল্যাণ ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী এ এস এম সোলায়মান ঢাকায় বলেন, পাকিস্তানের বীর সেনাবাহিনী শত্রুকে (মুক্তিযোদ্ধা) নির্মূল করে দিয়েছে। শত্রুরা প্রিয় মাতৃভূমি পাকিস্তান ভাঙতে চেয়েছিল। কোনো শক্তিই পাকিস্তান ভাঙতে পারবে না।

সৈয়দ আজিজুল হকের বাসায় পিডিপি’র বিশিষ্ট নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপনির্বাচন পিছিয়ে দেবার ব্যাপারে নূরুল আমিনের দেয়া বিবৃতিকে অনুমোদন করা হয়। একই দাবী জানান কাইয়ুম মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক খান এ সবুর।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে