যে হ্রদ থেকে কেউ ফেরে না

ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যে হ্রদ থেকে কেউ ফেরে না

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:১৬ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

এই হ্রদ থেকে কেউ কোনো দিন ফেরে না । ছবি: সংগৃহীত

এই হ্রদ থেকে কেউ কোনো দিন ফেরে না । ছবি: সংগৃহীত

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের নাম সবাই জানেন। তবে এটা হয়তো অনেকেই জানেন না যে, ভারত-মায়ানমার সীমান্তেও রয়েছে এমনই এক রহস্যজনক হ্রদ। সেখানে যে নামে, সে নাকি আর কোনো দিন ফিরে আসে না।

কথিত আছে, এই হ্রদের কাছে গেলে কেউ ফিরে আসে না। অর্থাৎ আপনি যত হ্রদটির কাছে এগিয়ে যাবেন হৃৎপিণ্ডের গতি ততটাই কমে আসবে। আস্তে আস্তে ঢলে পড়বেন মৃত্যুর কোলে। যে কারণে হ্রদটিকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘নউং ইয়াং’ বা না-ফেরার হ্রদ। 

‘নউং ইয়াং’ বা না-ফেরার হ্রদ থেকে কেউ ফেরে না স্থানীয়েরা বলেন, ইতিহাসে এমনও উদাহরণ আছে, যেখানে দেখা গিয়েছে একের পর এক বিমান ওই হ্রদের গভীরে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। কেউ খোঁজ পায়নি সে বিমান বা তার যাত্রীদের।

ভারত মায়ানমার সীমান্তে পাংসাউ এলাকায় এর অবস্থান। এলাকাটি অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে। এই হ্রদের দৈর্ঘ্য ১.৮ কিলোমিটার, প্রস্থে প্রায় ৪০০ মিটার। এই হ্রদ নিয়েই কথিত আছে, এতে যে নামে, সে আর ফেরে না। 

উদাহরণ হিসাবে অনেকে উল্লেখ করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের কথা। বলা হয়, সেই সময়ে এই হ্রদের উপর অনেক বিমান অবরতণ করেছিল। তার পর সেই বিমানগুলোকে আর পাওয়া যায়নি। সন্ধান মেলেনি যাত্রীদেরও।

কারো কাছে জলাভূমি, আবার কাছে শুধুই হ্রদস্থানীয় লোককথাও তৈরি হয়েছে এই হ্রদকে কেন্দ্র করে। আদি কালে এই হ্রদ থেকে একটি মাছ তুলে সেটি রান্না করেছিলেন পাশের গ্রামের বাসিন্দারা। শুধু এক বৃদ্ধ ও তার মেয়েকে বাদ দিয়ে গ্রামের সবাই সেই মাছ রান্না করে খেয়েছিলেন। তারপর একদিন গ্রামটিকেই ভাসিয়ে দিয়েছিল হ্রদ। বেঁচে গিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ আর তার সন্তান। বাকি সবার প্রাণ গিয়েছিল। 

এক গবেষক দাবি করেছেন, ইজরায়েলের প্রাচীন গাথায় এই হ্রদের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানেও এটিকে ভয়ানক বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ মেরুর আশ্চর্যজনক হ্রদ, যা হঠাৎ এক দিন অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল, তার মতো ভারতের এই হ্রদও অবাক করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ