বিশ্বের বড় গুহা ‘হাং সন ডুং’, যেখানে অনায়াসে ৪০ তলা ভবন নির্মাণ করা যাবে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৪ ১৪২৮,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বিশ্বের বড় গুহা ‘হাং সন ডুং’, যেখানে অনায়াসে ৪০ তলা ভবন নির্মাণ করা যাবে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:১৬ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ২২:২৬ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

বিশ্বের বড় গুহা ‘হাং সন ডুং’, যেখানে অনায়াসে ৪০ তলা ভবন নির্মাণ করা যাবে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বড় গুহা ‘হাং সন ডুং’, যেখানে অনায়াসে ৪০ তলা ভবন নির্মাণ করা যাবে। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গুহার নাম হ্যাং সন ডুং। অতিকায় এই গুহাটি ভিয়েতনামে অবস্থিত। এই গুহার ভেতরে রয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড রিভার বা ভূগর্ভস্থ নদী। গুহাটি এতই বড় যে, এই গুহার নিজস্ব জলবায়ু আছে।

হাং সন ডুং গুহার ভেতরে রয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড রিভার বা ভূগর্ভস্থ নদীহ্যাং সন ডুং মূলত একটি বিশাল গুহার নেটওয়ার্ক। প্রায় দেড়শটি গুহার সমন্বয়ে হ্যাং সন ডুং গড়ে উঠেছে। স্থানীয় ভাষায় হ্যাং সন ডুং অর্থ পাহাড়ি নদীর গুহা। এমন নামকরণের কারণ হলো পাহাড়ি এই গুহার ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে স্রোতস্বিনী এক নদী। নদী ছাড়াও গুহার ভেতরে বেশ কিছু প্রাকৃতিক সুইমিংপুলও আছে। গুহাটির দুইটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। হ্যাং সন ডুংয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৬৬০ ফুট, সর্বোচ্চ প্রস্থ ৪৯০ ফুট এবং গুহাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ কিলোমিটার। এই গুহার ভেতরে অনায়াসে ৪০ তলা ভবন নির্মাণ করা যাবে। এমনকি স্ট্যাচু অব লিবার্টিও এখানে খুব সহজেই এঁটে যাবে। হ্যাং সন ডুং গুহার সবচেয়ে প্রশস্ত জায়গা দিয়ে ছোটখাটো তিনটি বিমান উড়ে যেতে পারবে। 

হাং সন ডুং গুহার ভেতর প্রাকৃতিক সুইমিংপুলপৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই গুহার সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে সুদীর্ঘ প্রাকৃতিক সুরঙ্গ। এসব সুরঙ্গের দৈর্ঘ্য সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারেরও বেশি। হ্যাং সন ডুং সুরঙ্গের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের আর একটি গুহার সঙ্গে  সংযুক্ত রয়েছে। গুহার ভেতরে দুটি বিশাল গহ্বর আছে। এই জায়গাগুলোতে গুহার ছাদ ভেঙে পড়ে গহ্বরের সৃষ্টি হয়েছে। এই গুহার ভেতরে আছে নিজস্ব জলবায়ু। যা বাহিরের আবহাওয়া থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। গুহার ভেতরে থাকা নদীর পানি বাষ্প হয়ে এর ভেতরে মেঘেরও সৃষ্টি হয়। হ্যাং সন ডুং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গুহার আয়তনের চেয়ে দ্বিগুনেরও বড়। অথচ সুদীর্ঘকাল মানুষ এই গুহার অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানতো না। ১৯৯১ সালে স্থানীয় এক ব্যক্তি জঙ্গলে কাঠ কাটার সময় দেখতে পায় একটি পাথরের ফাটল দিয়ে পানি বেরিয়ে আসছে। বিষয়টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে তিনি এই গুহা আবিষ্কার করেন।

 গুহার ভেতরে থাকা নদীর পানি বাষ্প হয়ে এর ভেতরে মেঘেরও সৃষ্টি হয়ব্রিটিশ গুহা গবেষণা সংগঠন ২০০৯ সালে এই গুহার আয়তন পরিমাপ করেন। তবে গুহার ভেতরে থাকা একটি চুনাপাথরের দেয়ালের কারণে তাদের সেই সমীক্ষা পূর্ণতা পায়নি। চুনা পাথরের তৈরি এই প্রাচীরকে বলা হয়, গ্রেট ওয়াল অব ভিয়েতনাম। কারণ প্রাকৃতিক এই দেয়ালটি প্রায় পঁচিশ তলা বিল্ডিং এর সমান উঁচু। পরবর্তীতে সেই দেয়াল অতিক্রম করে গবেষকেরা গুহার প্রকৃত আয়তন নির্ণয় করতে সক্ষম হয়। ধারণা করা হয়, প্রায় ৩০ থেকে ৫০ লাখ বছর আগে প্রাকৃতিকভাবে এই গুহার সৃষ্টি হয়েছিল। 

গুহার ভেতরে থাকা একটি চুনাপাথরের দেয়ালের কারণে তাদের সেই সমীক্ষা পূর্ণতা পায়নি।হ্যাং সন ডুং গুহায় অভিযান পরিচালনা করা মাউন্ট এভারেস্টের অ্যাডভেঞ্চারের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। শুধুমাত্র বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা এখানে প্রবেশের অনুমতি পায়। তবে গবেষকেরা হ্যাং সন ডুং-কে বিপজ্জনক গুহা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ গুহার ভেতরে আছে বিষধর সাপ, বড় মাকড়সা সহ বিভিন্ন অজানা প্রাণী এবং গুহার ভেতরে থাকে নদীতে নিয়মিত বন্যা হবার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া নিকষ কালো অন্ধকারের কারণে এখানে পথ চলাও খুব কঠিন।

 গবেষকেরা হ্যাং সন ডুং-কে বিপজ্জনক গুহা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন২০১৩ সালের পর থেকে সীমিত পরিসরে পর্যটন চালু হয়েছে। যে কেউ চাইলেই অবশ্য এখানে বেড়াতে যেতে পারবে না। কারণ গভীর বনের ভেতর দিয়ে টানা দুইদিন পায়ে হেঁটে দুর্গম পথ অতিক্রম করে গুহার মুখে পৌঁছাতে হয়। এছাড়া গুহার ভেতরের পরিবেশও অত্যন্ত দুর্গম। হ্যাং সন ডুং গুহায় ভ্রমণের জন্য কমপক্ষে চার দিনের খাবার, নদীতে চলার জন্য নৌকা এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এতো সব আসবাবপত্র বহন করে দুর্গম গুহায় যাওয়া সম্ভব নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ