আজ বিশ্ব হিজাব সংহতি দিবস 

ঢাকা, শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮,   ০৯ সফর ১৪৪৩

আজ বিশ্ব হিজাব সংহতি দিবস 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪৭ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

আজ বিশ্ব হিজাব সংহতি দিবস। ছবি সংগৃহীত

আজ বিশ্ব হিজাব সংহতি দিবস। ছবি সংগৃহীত

৪ সেপ্টেম্বর,  বিশ্ব হিজাব সংহতি দিবস। গত ২০১০ সাল থেকে ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হিজাব দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজ ৪ সেপ্টেম্বর তারই আলোকে বিশ্ব হিজাব দিবস পালিত হবে। 

উত্তর আমেরিকার সংগঠন ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ আমেরিকা ইসনা (ওঈঘঅ)-এর নারী উইং এ দিবসের ডাক দিয়েছে। আমরাও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মুসলমানের পক্ষ থেকে এই আহবানে সাড়া দিয়ে মুসলমানদের এই অতি জরুরি ফরজ ইবাদতের বাণী দুনিয়াব্যাপী প্রচার-প্রসারের আহবান জানাই।

হিজাব আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো ঢেকে রাখা, অন্তরীণ রাখা বা আড়াল করা। মহান আল্লাহ তায়ালা পুরুষ ও নারীদের এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্রমণ্ডিত করে সৃষ্টি করেছেন যে, পুরুষ ও নারী একে অন্যের দিকে আকৃষ্ট হবেই। তাই মাহ্রাম ছাড়া অন্য পুরুষের চোখ থেকে মেয়েদের দৃষ্টির আড়ালে রাখার জন্য বিশেষ পদ্ধতি ইসলাম দিয়েছে। তারই নাম হিজাব বা পর্দা। 

মহান আল্লাহর শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) একদিন মজলিসে বসেছিলেন। ওই সময় আয়েশা (রা) ও ছোটবোন আসমা (রা.) মজলিসে ঢুকলেন। আল্লাহর নবী (সা.) চোখ ঘুরিয়ে নিলেন এবং বললেন, আসমা তুমি বড় হয়ে গেছ, ঘরে ঢুকে যাও। এই সময় পর্দা বা হিজাবের আয়াত নাজিল হলো, ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণকে এবং মুমিন নারীদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদের ওপর তাদের বড় চাদর টেনে দেয়। এটা খুবই উত্তম নিয়মনীতি, যাতে তাদের চিনতে পারা যায় এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা না হয়। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়াবান।’ আহযাব : ৫৯।

আল্লাহ আরো বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! বিনা অনুমতিতে তোমরা নবীর ঘরে ঢুকে পড়ো না। তোমরা নবী বিবিদের নিকট কিছু চাইতে হলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। তোমাদের ও তাদের দিলের পবিত্রতা রক্ষার এটাই উত্তম পন্থা। নবীর স্ত্রীদের ঘরে তাদের পিতা, পুত্র, ভাই, ভাইপো, ভাগ্নে, সাধারণ মেলামেশার নারী ও তাদের দাসদাসী আসা-যাওয়া করে। এতে কোনো দোষ নেই। হে নারী সমাজ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নাফরমানি থেকে দূরে থাক। আল্লাহ সবকিছুই জানেন।’ আহযাব : ৫৩-৫৫।

মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা সাধারণ নারীদের মতো নও। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর, তবে কোমল মিষ্টি সুরে কথা বল না। এতে দুষ্ট মনের কোনো লোক লালসায় পড়তে পারে। কথা বলবে সোজাসুজি স্পষ্টভাবে। নিজেদের ঘরে অবস্থান করো। পূর্বের জাহেলি যুগের মতো সাজসজ্জা প্রদর্শন করে বেড়াবে না। সালাত আদায় কর, জাকাত আদায় কর এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর। হে আহলে বাইত! আল্লাহ তোমাদের অপবিত্রতা দূর করে তোমাদের পূতঃপবিত্র রাখতে চান।’ আহযাব : ৩২-৩৩।

মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘হে ঈমানদার লোকেরা! নিজের ঘর ছাড়া অন্য লোকদের ঘরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করবে না এবং ঘরের লোকদের সালাম পাঠাবে। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর পন্থা। আশা করা যায়, তোমরা উপদেশ গ্রহণে লক্ষ রাখবে। সেখানে যদি কাউকে না পাও, তবে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করবে না। আর যদি তোমাদের ফিরে যেতে বলা হয়, তবে ফিরে যাও। এটা তোমাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা। তোমরা যা কর আল্লাহ ভালো করেই জানেন। অবশ্য এমন সব ঘরে প্রবেশ করা তোমাদের জন্য দোষণীয় নয়, যা কারো বাসস্থান না এবং সেখানে তোমাদের কাজের সামগ্রী রয়েছে। তোমরা যা কিছু প্রকাশ কর বা গোপন কর, সবই আল্লাহর জানা আছে। মুমিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন নিজেদের চোখ বাঁচিয়ে চলে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা। তারা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে পুরোপুরি অবহিত। 

আর হে নবী! মুমিন নারীদেরও বলে দিও, তারা যেন নিজেদের চোখ বাঁচিয়ে চলে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং সাজ সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তবে যা এমনিতেই প্রকাশ হয়ে পড়ে, তা ব্যতীত। তারা যেন নিজেদের বক্ষদেশের ওপর আঁচল (ওড়না) ফেলে রাখে। তারা যেন এই লোকদের ছাড়া কারো সামনে নিজেদের সাজসজ্জা প্রদর্শন না করে, তাদের স্বামী, পিতা, স্বামীর পিতা, নিজেদের পুত্র, স্বামীর পুত্র, নিজেদের ভাই, ভাইয়ের পুত্র, বোনের পুত্র, নিজেদের মেলামেশার নারী, নিজেদের দাসী, সেসব অধীনস্থ পুরুষ, যারা বিনীত, নির্লিপ্ত আর সেইসব কিশোর, যারা নারীদের গোপন বিষয়াদি সম্বন্ধে এখনো ওয়াকিবহাল হয়নি। আর তারা যেন জমিনের ওপর সজোরে পা ফেলে আওয়াজ করে না চলে। যাতে তাদের গোপন সৌন্দর্য লোকেরা জানতে পারে। হে মুমিনরা! তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর। আশা করা যায়, তোমরা কল্যাণ লাভ করবে।’ নূর : ২৭-৩১।

সূরা নূরের ৫৮-৬০ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা পর্দা সম্পর্কে আরো কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।আমরা কোরআন থেকে হিজাব বা পর্দার ব্যাপারে উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো বিস্তারিত জানতে পারলাম। কোরআন ও নবী-রাসূলদের নির্দেশনায় নারী-পুরুষদের চলাচল, আচার-আচরণ সব ক্ষেত্রেই শালীনতা, ভাবগম্ভীর সাজ-সজ্জাহীনভাবে দিন যাপন করার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। যেহেতু নারী-পুরুষ একে অপরের প্রতি আকর্ষণ দুনিয়া সৃষ্টির প্রথম থেকেই। আবার বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে চলার মধ্যে কোনো বিধিনিষেধ নেই বা তারা একে অপরের সামনে খোলামেলাভাবে চলতে-ফিরতে, উপভোগ করতে বাধা নেই। 

বিবাহবহিভর্‚ত ছেলে-মেয়েদের অবাধ চলাফেরা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর নয়। একশ্রেণির মানুষ গোটা দুনিয়ায় মেয়েদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করতে মানুষ তাদের কাপড়-চোপড় ছোট থেকে ছোট করে পরার উৎসাহ দিচ্ছে। মেয়েরাও না বুঝে তারা তাদের রূপ-সৌন্দর্য প্রকাশ্যে দেখানোর জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তারা প্রকৃতপক্ষে সুখে আছে, তা কিন্তু বলা যাবে না। আমার জানা মতে, রূপ-সৌন্দর্য প্রকাশকারীরা বহুগামী পুরুষের সঙ্গে গিয়ে তাদের মান-সম্মান সবই হারিয়েছে। ছোট কাপড় পরার দিক থেকে মেয়েদের দেশে এবং বিদেশে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভ‚মিকা উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশের নারী প্রগতির অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াতও কিন্তু শালীন কাপড় পরতেন। 

এমনকি বেগম সুফিয়া কামালও শালীন কাপড় পরে নারী উন্নতির জন্য কাজ করে গেছেন। আমাদের দেশের সৌভাগ্য রাজধানী শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত হিজাব সহজলভ্য। স্বল্পমূল্যে দেশের যে কোনো বাজার থেকে আমরা মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের হিজাব কিনে দিতে পারি এবং ঢিলেঢালা পোশাক বা হিজাব পরার ক্ষেত্রে উৎসাহ দিতে পারি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ