আদি মোগলাই ও একজন মাস্টারশেফ হাজী ফজলুর রহমান

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২২,   ১৩ মাঘ ১৪২৮,   ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

আদি মোগলাই ও একজন মাস্টারশেফ হাজী ফজলুর রহমান

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৪ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৬:০৫ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মাস্টারশেফ হাজী ফজলুর রহমান

মাস্টারশেফ হাজী ফজলুর রহমান

মোগল খাবার, এ যেন খাবারের একটি ধারা বা ইতিহাস ই শুধু নয়, বরং একটি শিল্পধারাও। মোঘল সম্রাটদের মাধ্যমে সুদূর পারস্য আর মোঘল শাসিত ভারত বর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের রান্না মিলেমিশে যে নতুন ও বৈপ্লবিক এবং একই সঙ্গে শিল্পমণ্ডিত খাদ্যধারার জন্ম দেয়, তাই হলো আদি মোঘলাই। 

ভারত,পাকিস্তান ও বাংলাদেশে পুরনো আজ মোঘল খাবার বলে যা চলে, মূলত এতে উত্তর ভারতের প্রভাব অধিক। কেননা, আদি মোগলাই ছিল স্বল্প মসলা যুক্ত, সুগন্ধিতে ভরপুর, দর্শনীয় এবং একই সঙ্গে অতি চিত্তাকর্ষক। 

অনেকে ভেবেই অবাক হবেন, এক পোলাওতেই ৬-৭ রকমের রং হতো, আর তার পুরোটাই আসতো নানা পদের ফল, ফুল, সবজি আর অবশ্যই জাফরান হতে; জাফরান না শুধু মনোমুগ্ধকর সৌরভ ই দিতো, সেই সঙ্গে দিতো সুন্দর রং। সব খাবার এ দম পদ্ধতির বিভিন্ন ব্যবহার সেই খাবারকে করে তুলতো আরো অসাধারণ। 

পুরনো ঢাকা অবিসংবাদিতভাবেই এদেশে মোঘল খাবারের ধারক ও বাহক। এখনো এদেশে এমন কিছু মাস্টারশেফ আছেন, যারা ধরে রেখেছেন সেই ধারা ; কাজ করেছেন ঢাকা নবাব পরিবারের সঙ্গেও আর যাদের রান্না শুধু দেশেই না, পাক- ভারত উপমহাদেশের বাইরে আজো সমানভাবে আদৃত। 

মাস্টারশেফ হাজী ফজলুর রহমান

তাদের ই একজন মাস্টারশেফ হাজী ফজলুর রহমান, যিনি নবাববাড়ির অন্যতম প্রধান শেফ প্রয়াত হাজী ইসমাঈল রহমান এর বড়ো ছেলে। হাজী ইসমাঈল রহমান হলেন সেসব মাস্টারশেফ এর একজন, যার রান্না কাচ্চি,পাক্কি, মাটন আকবরি, মাটন জাহাঙ্গীরি, শাহী জর্দা, জালি কাবাব, মুতানজান লাবাবদার পোলাও, মুর্গ মুসাল্লাম বা আদি মুসাম্মাম ইত্যাদি অসংখ্য সুস্বাদু খাবার এখনো পুরনো ঢাকার আবাল বৃদ্ধ বণিতার মুখেমুখে ফেরে। 

শাহজাহানী পোলাও, গালৌতি কাবাব, গোরাক কাবাব, নারাংগি পোলাও, জাফরানি কোফতা পোলাও, কালিয়া চাশনিদার এরকম অসংখ্য খাবার রয়েছে, যার নাম হয়ত অনেকেই এখন জানেন না। আনার বা ডালিম, এমনকি আম হতেও যে পোলাও হতো, সেকথাও হয়তো আজ অনেকেই জানেন না।
 
আমাদের আজকের দিনে অনেকেই ভাবেন যে, জয়ফল, জয়িত্রি, হলুদ বা রসুন ছাড়া হয়তো খাবার ই রান্না হবে না। কিন্তু এটিও একটি ভুল ধারণা।
 
মধ্যপ্রাচ্যের মতোই উপমহাদেশের মুসলিম খাবারেও এক সময় শুকনো ও তাজা ফল, বিভিন্ন পদের বাদাম, কিসমিস, এপ্রিকোট ইত্যাদির ব্যবহার ছিল।
 
এখনো সেই ধারার রান্না, অল্প কিছু মানুষ করেন, যাদের মাঝে মাস্টার শেফ হাজী ফজলুর রহমান অন্যতম, বলতে গেলে, অনন্য। যার রান্না পছন্দ করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশ ও বিদেশের অসংখ্য মানুষ।

পুরস্কার গ্রহণ করছেন মাস্টারশেফ হাজী ফজলুর রহমান
 
কালান্তরে এদেশে এসেছে হরেক পদের খাবার। কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধেনি এমন কোনো বাবুর্চি খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু, যদি একজন মানুষের কথা বলতে বলা হয়, যিনি মোঘল যুগের কাচ্চি বিরিয়ানিকে করেছেন এদেশের এক জাতীয় খাবার, সেই কৃতিত্ব যার, তিনি অবিসংবাদিতভাবে একজন, আর তিনিই হলেন মাস্টার শেফ হাজী ফজলুর রহমান।
 
তার দুই ছেলে মোহাম্মদ শফিকুর রহমান এবং মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে তিনি গড়ে তুলেছেন তার দুই সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে। হাজী ফজলুর রহমান ক্যাটারিং বাংলাদেশের আদি মোগলাই শিল্পে আজ একটি অনন্য নাম ই শুধু নয়, আদি মোগলাই খাবারের এক বিশ্বস্ত প্রতিনিধিও।
 
গ্রাহক সন্তুষ্টি ও মহামারির কথা মাথায় রেখে হাজী ফজলুর রহমান ক্যাটারিং এখন অর্ডার সংখ্যা শুধু কমিয়ে ১২ বা ১৬ ই যে করেছেন তা নয়, একই সঙ্গে, তাদের নিজস্ব কিচেন থেকে গ্রাহকদের বাসায় পৌছে দেওয়া হয় বিনামূল্যে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে

English HighlightsREAD MORE »