মৃতদের নতুন পোষাক পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান তোরাজারা

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১২ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

মৃতদের নতুন পোষাক পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান তোরাজারা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৩৬ ২ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৪:০২ ২ আগস্ট ২০২১

মৃতদের নতুন পোষাক পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান তোরাজারা। ছবি: সংগৃহীত

মৃতদের নতুন পোষাক পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান তোরাজারা। ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপ, মানুষের আগমন ঘটে প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে। এই দ্বীপে প্রায় ১৫টি  আদিবাসীর আনুমানিক দুই কোটি মানুষ বসবাস করে। এদের মধ্যে একটি আদিবাসী গোত্র হলো তোরাজা। 

এই গোত্রের মানুষরা পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় এখানে গড়ে উঠেছে কিছু অনন্য রীতিনীতি। কিছু রীতিনীতি এতোটাই অদ্ভুত যে, পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের কাছে সেগুলো অবিশ্বাস্য। 

সুলাওয়েসি দ্বীপে মৃত ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যই রয়ে যায়। তোরাজা গোত্রের মানুষ মনে করে, মৃত ব্যক্তি আসলে মৃত নয়। বরং তারা একত্রে বাড়িতে বসবাস করতে পারে। তাদের কাছে মৃত মানে হলো এক ধরনের রোগাক্রান্ত হওয়া।

মৃতদেহ তুলে আনা হয়েছে তাদের এই বিশ্বাসের কারণে তারা মৃত ব্যক্তিকে খাবারও পরিবেশন করে। দিনে দুবার খাবার দেয়া হয়, এমনটি টয়লেটের জন্যও রুমে এক কোণে একটি পাত্র রাখা হয়। রাত নেমে আসলে মৃত ব্যক্তির ঘরে আলো প্রজ্বলিত থাকে। নানা হারবাল ও রাসায়নিক দিয়ে মৃতদেহ সংরক্ষণ করে পরিবারের সঙ্গেই রাখা হয়।

মৃতদেহ ঘরে সংরক্ষণ করা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। এজন্য দরিদ্ররা কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় মৃতদেহ ঘরে রাখে না। মধ্যবিত্তরা রাখে কয়েক মাস আর ধনীরা কয়েক বছর। এরপর একটি মহিষ উৎসর্গের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। মহিষ এখানে পরকালের সোপান হিসেবে বিবেচিত। কয়েক বছর পর পর মৃতদেহগুলোকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে নিয়ে আসার পর কফিনগুলো খোলা হয়।

মৃতদেহ পরিষ্কার করে নতুন পোশাক পরান আর যখন কফিনগুলো খোলা হয় তখন তার পরিবারের সবাই খুব হাসিখুশি থাকে। কফিনের মধ্যে থাকা মৃতদেহটি দেখতে ধূসর বর্ণের মুখে ছোট ছোট অনেক দাগ, যেন পোকামাকোড় কামড় দিয়েছে। 

ওই মৃতদেহটি তুলে নিয়ে আসার পর একটি স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান করা হয়। যা মানেনে নামে পরিচিত। এই অনুষ্ঠানে সবাই মৃত ব্যক্তিদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। পুনরায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নতুন কাপড় পরানো হয়। আর নতুন পোশাক পরিয়ে কেউ কেউ আবার মৃতদেহ হাঁটিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যান। তাদের গ্রাম ঘুরিয়ে দেখানো হয়। 

তাদের গ্রাম ঘুরিয়ে দেখানো হয়তোরাজাদের পূর্বপুরুষরা তাদের পূর্বপুরুষদের আত্মার পূজা করতো। যদিও তারা সৃষ্টিকর্তাতেও বিশ্বাসী ছিল। সারা পৃথিবীর কাছে এদের রীতি খুবই অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এটাই তাদের ঐতিহ্য এবং স্বকীয়তা।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ