১ আগস্ট ১৯৭১:ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন জুড়ে কেবলই ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৯ ১৪২৮,   ১৫ সফর ১৪৪৩

১ আগস্ট ১৯৭১:ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন জুড়ে কেবলই ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৩৯ ১ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১০:৪০ ১ আগস্ট ২০২১

দুটি কনসার্টে ৪০ হাজার শ্রোতা দর্শক হাজির হয়, সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ফাইল ছবি

দুটি কনসার্টে ৪০ হাজার শ্রোতা দর্শক হাজির হয়, সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ফাইল ছবি

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট দিনটি ছিল রবিবার। এদিন নিউইর্য়কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে পণ্ডিত রবিশংকর, জর্জ হ্যারিসন ও ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ-র উদ্যোগে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ নামে দুটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, প্রথমটি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে এবং দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৮ টায়।

কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন পণ্ডিত রবিশংকর, জর্জ হ্যারিসন, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার, এরিক ক্লাপটন, বিলি প্রিস্টন, লিয়ন রাসেল, ক্লাউস ভোরম্যান, জিম কেল্টনার ও ওস্তাদ আল্লা রাখা, কমলা চক্রবর্তীসহ ১৮ জন মিউজিশিয়ান। দুটি কনসার্টে ৪০ হাজার শ্রোতা দর্শক হাজির হয়, সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। টিকিট বিক্রয়লব্ধ অর্থ ইউনিসেফকে দেয়া হয় বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্যে ব্যবহারের জন্যে। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন জুড়ে কেবলই “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ”
 
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ মুজিবের মুক্তি স্বপক্ষে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে এক সমাবেশ আয়োজন করা হয়। ‘স্টপ জেনোসাইড, রিকগনাইজ বাংলাদেশ’ শ্লোগান লেখা ব্যানার হাতে ওই সমাবেশে প্রায় ৩০ হাজার বাঙালী সমবেত হয়েছিলেন। সমাবেশে ১৩০ জন ব্রিটিশ এমপির স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পাঠ করে শোনানো হয়।
লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারের এই সমাবেশে সেদিন লন্ডনের পাকিস্তান হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব মহিউদ্দিন আহমদ পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পদত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।

মুক্তিবাহিনী শালদা নদীতে পাকসেনা বোঝাই ৭ থেকে ৮টি নৌকা অ্যামবুশ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে ৪ থেকে ৫টি নৌকা পানিতে ডুবে গেলে পাকসেনারা পিছু হটে পাল্টা আক্রমণ চালায়। দু’পক্ষে আধ-ঘন্টাব্যাপী গুলি বিনিময়ে পাকবাহিনীর ৬০/৭০জন সৈন্য হতাহত এবং অনেক রসদ নষ্ট হয়। অপরদিকে হানাদারদের গুলিতে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ও একজন আহত হন।

১১ নম্বর সেক্টরে ‘জেড ফোর্স’ পাকবাহিনীর বাহাদুরবাদ ঘাট অবস্থানের ওপর রকেট লাঞ্চার ও গ্রেনেড হামলা চালায় । কিছুক্ষণের মধ্যে পাকবাহিনীর দখলকৃত রেলস্টেশন, রেলবগী, রেল স্টীমার ও জেটির ছাদ এবং পাকসেনাদের অস্ত্ররক্ষিত সব এলাকা ধ্বংস হয়। পাকসেনারা সম্পূর্ণ পর্যুদস্তু হলে মুক্তিবাহিনীর বাহাদুরবাদ ঘাট দখল করে।

এদিন রৌমারীর আলতাফ বাহিনী কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী রেইড দিয়ে পাকবাহিনীকে পরাজিত করে বালাবাড়ী পর্যন্ত দখল করে নেয়। আন্ধারীঝাড় অপারেশনে ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা অ্যামবুশ ক’রে পাকবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনসহ ১১ জন সৈন্যকে হত্যা করে। এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে পালানোর সময় কুমিল্লার জাফরগঞ্জের কাছে মুক্তিবাহিনীর হাতে ৯০ জন নিহত হয়। হরিমঙ্গলে মুক্তিযোদ্ধারা অ্যামবুশ করায় পাকসেনাদের ৩০ জন নিহত হয়।

বিভিন্ন স্থানে গেরিলাদের আক্রমণের ঘটনায় কায়ামপুরে ৯ জন, শ্রীমন্তপুরে ৩ জন ও কোটেশ্বরে ২ জন পাকসেনা নিহত হয়। লাটুমুরা, চন্ডিয়ার, বাড়িয়া ও গুরাইটে ২৯ জন হতাহত হয়। কায়ামপুর জ্যাকপটে আক্রমণ করে ১০ সেনা হত্যা করা হয়। এখানে ৪ জন আহত হয়।
জিক্রাতে মুক্তিবাহিনীর মর্টার আক্রমণে শত্রুদের ৬টি বাঙ্কার ধ্বংস হয় এবং ১৪ জন হতাহত হয়। সিলেট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেক্টরে মুক্তিফৌজ চৌরাশিয়াতে শত্রুদের পেট্রোল দলে আক্রমণ করে, এতে বেশ কয়েকজন পাকসৈন্য ও ১ জন রাজাকার নিহত হয়।

ঢাকার সামরিক আইন আদালত আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সেক্রেটারী আমিনুল হক বাদশাকে ৬ আগষ্ট বেলা ১০ টার মধ্যে আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান করাচীতে এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন, পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে সংঘর্ষ চলতে থাকলে পরিণতিতে যুদ্ধ বাধতে পারে। তিনি বলেন, আমি আমার সৈন্যকে বলতে পারি না গোলাগুলি বন্ধ কর এবং নীরবে সবকিছু সহ্য করো। দেশরক্ষার জন্য আমি আরেক গাল পেতে দিতে পারি না। আমরা ইতিমধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী ধ্বংসাত্মক শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের আদর্শগত এবং আঞ্চলিক সীমারেখা রক্ষার জন্য সংকল্প ও শক্তি প্রয়োগ করেছি।

শান্তি কমিটির অন্যতম নেতা এবং কাউন্সিল মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি এ কিউ এম শফিকুল ইসলাম পাকিস্তানের আদর্শ ও অখন্ডতা রক্ষার জন্যে দৃঢ় প্রত্যয় ও সাহসিকতার সঙ্গে সকল প্রকার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। তিনি মুসলিম লীগের সকল গ্রুপকে একত্র করে একটি প্রকৃত জাতীয় সংস্থা রূপে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

ঢাকা শহর মুসলিম লীগের এক সভায় মুসলিম লীগ সেক্রেটারী এ এন এম ইউসুফ মুসলিম লীগের প্রতিটি কর্মী ও সদস্যকে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) দমন করার নির্দেশ দেন।

সাপ্তাহিক ‘স্বাধীন বাংলা’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা কি বাংলাদেশকে ভিয়েতনামে রূপান্তরিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন? নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা ‘জননিরাপত্তামূলক’ কর্মসূচীর নামে ঢাকায় পুলিশ বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জননিরাপত্তার নামে এই বিশেষজ্ঞ দল মুক্তিযুদ্ধ দমন, ইয়াহিয়ার বাহিনীকে মদদ দেয়ার কাজ করবে। লন্ডনের সানডে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আগামীকাল অথবা পরবর্তী মঙ্গলবার পূর্ব পাকিস্তান ভ্রমণ করতে পারেন। তিনি এমন এক সময়ে ঢাকায় অবতরণ করবেন যখন বাংলাদেশী গেরিলা তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। রাতে ফার্মগেটে সেনাবাহিনী ও গেরিলাদের মাঝে একটি সংঘর্ষ হয়। ভারি মেশিনগান দিয়ে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলি চলে। বোমার তীব্র শব্দে পুরো শহর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ছয়জন গেরিলার মৃত্যু হয়েছে বলে রিপোর্ট পাওয়া যায়। সেনাবাহিনী এর চেয়েও বড় ধ্বংসলীলা চালায় ঢাকা শহরের অদূরে অবস্থিত লুডারিয়া, নালচাটা, লারিপাড়া নামের তিনটি খ্রীস্টান অধ্যুষিত গ্রামে। গ্রামগুলো টঙ্গী থেকে আড়িখোলা পর্যন্ত চলে যাওয়া রেল লাইনের পাশের উঁচু বাঁধের ওপর অবস্থিত ছিল।

‘মুক্তিযুদ্ধ’ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়, দস্যু সর্দার ইয়াহিয়া খানের জল্লাদ বাহিনী গত চার মাস ধরিয়া বাংলাদেশে যে নৃশংস গণহত্যা ও পৈশাচিক বর্বরতা চালাইয়া আসিতেছে ইতিহাসে উহার নজির সত্যই বিরল। ইয়াহিয়া বাহিনীর অত্যাচারের যেমন তুলনা নাই, তেমনি বাংলাদেশের গণজাগরণও অতুলনীয়। স্বাধীনতার দাবিতে এরূপ একতার দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল। ১৯৪৭ সালে বৃটিশ সরকার এদেশের জনগণের মধ্য হইতে যতটা বিচ্ছিন্ন ছিল, ইয়াহিয়া শাহী আজ বাংলাদেশের জনগণের সকল শ্রেণী, সকল স্তর হইতে ততোধিক বিচ্ছিন্ন। বিজয় আমাদের অবশ্যম্ভাবী। স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশের বীর জনগণের সংগ্রামকে চূর্ণ করিয়া দিতে পারে পৃথিবীতে এমন কোন শক্তি নাই।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস সোসাইটির প্রতিনিধি কর্নেল অ্যার্লা সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর শেষে তার সফর অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশে দখলদার পাকিস্তানী সৈন্যদের নির্যাতন বায়াফ্রার মর্মান্তিক ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। দখলকৃত এলাকায় হানাদার সৈন্যরা যে বীভৎস হত্যাকান্ড ও পাশবিক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে তার কোনো নজির নেই।

নরওয়ে রেডক্রসের একজন প্রতিনিধি ভারতের শরণার্থীশিবির পরিদর্শন করে বলেন, বর্তমান শরণার্থী সমস্যার সাথে বিশ্ব ইতিহাসের কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না। মার্কিন জনগণ ও সেখানকার পত্র-পত্রিকা বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের অকুন্ঠ সমর্থন জানালেও প্রেসিডেন্ট নিক্সন জঙ্গীশাহীকে অস্ত্র সাহায্যের নীতিতে অবিচল রয়েছেন। মার্কিন সিনেটের বহু প্রভাবশালী সদস্য এ বিষয়ে একমত যে, বাংলাদেশ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জঙ্গী সরকারকে সাহায্য দেয়ার মানেই গণহত্যায় অংশগ্রহণ করা।

ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আন্ডার সেক্রেটারী জন আরউইন সিনেটের এক সাব-কমিটির বৈঠকে বলেছেন যে, বাংলাদেশে চরম দুর্ভিক্ষের খবর তারা পেয়েছেন। অথচ পাকিস্তানের দখলদার সমর্থকরা দুর্ভিক্ষরোধের কোনো চেষ্টা চালাচ্ছে না। এতে এ কথা পরিষ্কার বোঝা যায় যে, দেশ থেকে ৮০ লাখ মানুষ তাড়িয়ে এবং ১০-১২ লাখ মানুষকে হত্যা করেও এদের কসাই মনোবৃত্তির এখনো খায়েশ মেটেনি।
সেন্ট লুইস পোস্ট ডেসপাচ এর সম্পাদকীয় নিবন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক উর্ধতন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, পোল্যান্ডে নাৎসিদের সময়ের পর থেকে হিসাব করলে এটা সব থেকে অবিশ্বাস্য।

ম্যালকম ডব্লিউ ব্রাউনির প্রতিবেদন অনুসারে নিউইয়র্ক টাইমস লেখে, সরকারী সেনাবাহিনী মূলত শহর এবং রাস্তাগুলোতে সীমাবদ্ধ। গ্রামাঞ্চলে গেরিলা বিদ্রোহীরা সীমান্তের ওপার থেকে সাহায্য পাচ্ছে।বেঞ্জামিন ওয়েলসের বিশেষ রিপোর্টে বলা হয়, জাতিসংঘের অধীনে ১৫৬ জন বেসামরিক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞদের একটি আন্তর্জাতিক দল পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তান ও জাতিসংঘ। জাতিসংঘের কর্মীদের মধ্যে ৭৩ জন পর্যবেক্ষক থাকবে। চারজন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার অফিসে সংযুক্ত হবে এবং বাকি ৬৯ জন অন্য স্থানে।

কানাডার কিউবেক শহরের একটি পত্রিকার রিপোর্ট থেকে জানা যায়, পদ্মা, বাংলার বুকে প্রবহমান খরস্রোতা এক নদী, নিপীড়ন এবং বিপ্লবের ইতিহাসের নীরব সাক্ষ্যবহন করছে, যা বাঙালি কৃষকের জন্য আদৌ নতুন কিছু নয়। হেলথ ম্যাককুয়ারি এমপি, পাকিস্তানে অস্ত্র পাঠানোর ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন।

কানাডার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম অস্ত্র চালানের বিরোধিতা করে কারণ তারা জানে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সম্পৃক্ততা সামরিক-শিল্পকে আরও পুষ্ট করবে এবং এর ফলস্বরূপ জনসাধারণকে অধিক করের বোঝা বহন করতে হবে। আমেরিকানরা ভিয়েতনাম যুদ্ধের ব্যয়ভার সম্পর্কে ভালভাবে অবগত ছিল; আমেরিকান সমর-শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তাদের প্রচুর কর প্রদান করতে হয়েছে। তারা কি বাংলায় আরেকটি ভিয়েতনাম দেখতে চাইবে? এর উত্তর না। তাদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচের আরও অনেক জায়গা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে