মাথায় ‘ছাতা’ মুখে ‘দাড়ি’র অদ্ভুত পাখি

ঢাকা, সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১২ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

মাথায় ‘ছাতা’ মুখে ‘দাড়ি’র অদ্ভুত পাখি

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৩ ৩১ জুলাই ২০২১   আপডেট: ২১:৪৬ ৩১ জুলাই ২০২১

মাথায় ছাতা মুখে দাড়ি আকৃতির অদ্ভুত পাখি। ছবি; সংগৃহীত

মাথায় ছাতা মুখে দাড়ি আকৃতির অদ্ভুত পাখি। ছবি; সংগৃহীত

প্রকৃতি অপার সৌন্দর্য, রূপ-রহস্যের আধার। বিচিত্র অসংখ্য পশু-পাখি, উদ্ভিদ-লতাগুল্ম, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বতে ভরা প্রকৃতি। অদ্ভুত আকৃতি, আচার বৈশিষ্ট্যের জন্য অনেক পশু-পাখিই পরিচিত। প্রাকৃতিকভাবেই কোনো পাখির মাথায় ছাতা আর মুখে দাড়ি আছে এমন কথা জানলে অনেকেই বিস্মিত হবেন। তেমনই এক অদ্ভুত আকৃতির পাখি নিয়ে এই লেখা।

পাখিটির নাম লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ড। নামের মধ্যেই যেন এই পাখির অদ্ভুত শারীরিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। এদের গলার নিচের অংশে জট দাড়ি আকৃতির এবং মাথায় ছাতার মতো দেখতে বর্ধিত অংশ আছে। সে কারণেই পাখিটির নাম দেওয়া হয়েছে লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ড। নামের সঙ্গে পাখিটির আকৃতির আছে অদ্ভুত মিল।

পুরুষ লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ড পাখির উচ্চতা সাধারণত ৪০-৪২ সেন্টিমিটার হয়। মেয়ে পাখিদের আকৃতি পুরুষ পাখির তুলনায় কিছুটা ছোট হয়। এগুলোর উচ্চতা ৩৫-৩৭ সেন্টিমিটার মধ্যে হয়ে থাকে। উভয় লিঙ্গের লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ডেরই লেজের পালক ছোট হয়। এদের মাথায় পালকের গোল আকৃতির বর্ধিত অংশ থাকে, যা দেখতে অনেকটা ছাতার মতো। পুরুষ লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ড পাখির গলায়ও বর্ধিত অংশ থাকে। এটা অনেকটা লম্বা দাড়ির মতো দেখায়।

বসে বিশ্রামের সময় লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ড গলার দাড়ি আকৃতির এ অংশ বর্ধিত করে। ছবি; সংগৃহীত

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়ে পাখি ও অল্প বয়স্ক পাখিদের গলায় কোনো বর্ধিত অংশ থাকে না। থাকলেও সেটা খুব ছোটো হয়। পুরুষ পাখিগুলো তাদের গলার দাড়ি আকৃতির এ অংশ বর্ধিত কিংবা সংকুচিত করতে পারে। সাধারণত বসে বিশ্রামের সময় লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ড এ অংশ বর্ধিত করে আর ওড়ার সময় সংকুচিত করে রাখে। পুরুষ পাখির পালকগুলোতে কালো বর্ণের শ্যাফট থাকে।

লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ড কোটিঙ্গা (জেনাস) বর্গভুক্ত একটি পাখি। এটি বিরল প্রজাতির পাখি। এরা আর্দ্র এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মনটেন ক্লাউড ফরেস্টে থাকে। কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল এবং ইকুয়েডরের পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঢালু অঞ্চলে এদের বসবাস।

এ প্রজাতির পাখিটি উচ্চ স্তরের এডেমিজম প্রদর্শন করে। এডেমিজমকে স্থানিকতা বলা হয়। স্থানিকতা কোনো প্রজাতির পশু-পাখির এমন এক ধর্ম নির্দেশ করে যে, ঐ প্রজাতিটি একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়া আর অন্য কোথাও বসবাস করে না বা জন্মায় না। এটি নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল, দেশ, দ্বীপ এমনকি নির্দিষ্ট একটি পাহাড় বা নির্দিষ্ট বনাঞ্চলও হতে পারে। লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ডও সে প্রকৃতিরই পাখি। এদের কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ইকুয়েডরের এল ওরো প্রদেশ পর্যন্ত কিছু নির্দিষ্ট বায়োরিজিয়নে দেখা যায়।

সাধারণত লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ড গাছে বাসা বাঁধে। যেগুলো মাটি থেকে ৪.৫-৫ মিটার উচ্চতায় হয়ে থাকে। কেবল মেয়ে পাখিরাই বাসা বাঁধে এবং বাচ্চাদের যত্ন করে। এই প্রজাতির পাখির সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ- আইইউসিএন দ্বারা অরক্ষিত হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে লং-ওয়াটেল্ড আমব্রেলাবার্ড। ২০১২ সালে এদের মোট সংখ্যা ৬ হাজার থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে অনুমান করা হয়েছিল। বনভূমি ধ্বংস ও শিকার এদের সংখ্যা হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এইচএন