১০ জুন ১৯৭১: ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুর চার দাবি মেনে নেয় 

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৮ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

১০ জুন ১৯৭১: ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুর চার দাবি মেনে নেয় 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫৭ ১০ জুন ২০২১  

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া, শেখ মুজিবুর রহমান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় আলোচনা চলাকালে সমঝোতায় এসেছিলেন। ফাইল ছবি

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া, শেখ মুজিবুর রহমান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় আলোচনা চলাকালে সমঝোতায় এসেছিলেন। ফাইল ছবি

হংকং-এর ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ পত্রিকার এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়, দৈনিক ডন এবং দৈনিক পাকিস্তান টাইমসসহ পশ্চিম পাকিস্তানের পত্রপত্রিকাও স্বীকার করেছিল যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া, শেখ মুজিবুর রহমান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় আলোচনা চলাকালে সমঝোতায় এসেছিলেন। ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ এ কথাও প্রচার করেছিল যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের চারটি যুক্তিসঙ্গত দাবি মেনে নিয়েছেন। 

শেখ মুজিবুর রহমানের এই চারটি দাবি হলো, সামরিক শাসন তুলে নেয়া, সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া, নির্বাচিত জন-প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দেয়া, সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র জনসাধারণ হত্যার তদন্ত করা। এই দাবিগুলো মেনে নেয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার আগেই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া গোপনে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় বিমানযোগে করাচী ফিরে গেলেন এবং আওয়ামী লীগকে বেআইনী ঘোষণা ও পূর্ব বাংলার নিরস্ত্র মানুষের ওপর সশস্ত্র সৈন্য লেলিয়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। এর কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যাও প্রেসিডেন্ট দিতে পারলেন না। এতে পরিষ্কারভাবে বোঝা গেল যে, আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে ইয়াহিয়া খান পূর্ববাংলায় গণহত্যা চালানোর সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছিলেন।

কানাডার দৈনিক মন্ট্রিল স্ট্রিট পত্রিকায় বলা হয়, ঢাকার ব্যাপক গণহত্যা পরিকল্পনায় স্বয়ং ইয়াহিয়া খানসহ পাক- সেনাবাহিনীর সব জেনারেল জড়িত ছিল। মূলত গৃহযুদ্ধ দমনের পরিকল্পনা, তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এই জেনারেলরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। এই হত্যাযজ্ঞ কেবল টিক্কা খানের নিজস্ব ও একক উদ্যোগ নয়- এটা আসলে খুব সতর্কতা ও সাবধানতার সঙ্গে সংঘটিত একটি মিলিটারি অভিযান। বাঙালি হত্যার সামরিক আদেশ সেনাবাহিনীর সকল ইউনিট কমান্ডারের কাছে যাতে প্রত্যক্ষভাবে এবং লিখিতভাবে পৌঁছে সেজন্য প্রেসিডেন্ট ২৫ মার্চ বিকেল দুটো পর্যন্ত নিজেই খোঁজখবর নিয়েছেন। সন্ধ্যা ৭টায় প্রেসিডেন্ট বিমানবন্দরের উদ্দেশে বাসভবন ত্যাগ করেন। রাত ১১টায় ট্যাঙ্ক, কামান, মর্টার গানসহ ভারি ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ শুরু হয়।

ডেইলি জাপান টাইমস এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে লিখছে, পূর্ববাংলায় পাক-সেনাবাহিনীর সশস্ত্র আক্রমণেই এই রক্তক্ষয়ী অভিযান চলছে। জাপানের আসাহি শিমবুন পত্রিকা বলে, বাংলাদেশে নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও সেখানে যে নির্বিচারে গণহত্যা চলছে, তা নজিরবিহীন। পূর্ববাংলায় যে নৃশংস হত্যাকান্ড চলছে এবং জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে তাতে বাংলাদেশের নিরস্ত্র ও অসহায় মানুষের প্রতি বিশ্ববাসী সহানুভূতি দেখিয়েছে। মুক্তিকামী জনতাকে এভাবে হত্যার ফলে পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানের সম্পর্ক চিরতরে তিক্ত হয়ে গেল। বাংলাদেশে ইয়াহিয়া খানের সেনাবাহিনীর কান্ডকারখানার দ্বারা এটাও প্রমাণিত হয়ে গেছে যে- পূর্ববাংলার মানুষ স্বাধীনতার জন্য অকাতরে প্রাণ দিতে পারে এবং তারা প্রাণ দিচ্ছেও।

তুরস্কের ডি ডেলী জুনাইদিন পত্রিকা মন্তব্য করে যে, একদিকে প্রায় এক লাখ সুসংগঠিত, সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্য, অপরদিকে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালী পাকিস্তানী সেনাবাহিনী সব বাঙালিকে কখনও কতল করতে পারবে না। বাঙালির মুক্তি অবধারিত। মালয়েশিয়ার স্ট্রেইটস ইকো পত্রিকা ‘একটি বৈশ্বিক সমস্যা’ শিরোনামে সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়, বিশ্ব অনেক অপেক্ষা করেছে। এটা সত্য যে সাহায্য দেয়া হয়েছিল এবং শুরুতে এটি পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একটি নৈতিক অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে যদিও সেখানে মানুষকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। রক্তপাত এবং ধ্বংস এত পরিমাণে হয়েছে যে এটাকে পরিকল্পিত ধ্বংসলীলার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। পাকিস্তানীদের কর্মকান্ডের প্রমাণ পরিলক্ষিত হচ্ছে ভারতে। অনেক আগেই শরণার্থী সংখ্যা ১ কোটি পৌঁছেছে।

সকালে ক্যাপ্টেন মাহফুজের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা হেয়াঁকু-রামগড় সড়কে রামগড়গামী পাকবাহিনীর একজন লে. কর্নেল ও দুজন মেজরসহ সৈন্য বোঝাই দুটি গাড়ির ওপর আক্রমণ চালায়। এতে পাকসেনারা গাড়ি থেকে নেমে পাল্টা গুলি শুরু করে। ক্যাপ্টেন মাহফুজ কিছু সময় যুদ্ধ করার পর তার বাহিনী নিয়ে নিরাপদে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে আসেন। অপরদিকে, পাকবাহিনীর একজন লে. কর্নেল ও দুজন মেজরসহ ৫ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। পাকসেনারা বেশ ক্ষতির শিকার হলে সামনের দিকে অগ্রসর না হয়ে হেয়াঁকু ফিরে যায়।

পাবনা জেলা স্কুলের হেড মাওলানা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাওলানা কসিমুদ্দিন আহমেদ বাসে করে গ্রামের বাড়ি উল্লাপাড়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে মোসলেম খাঁর তেমাথা মোড়ে মিলিটারিরা চেকপোস্টে তাকে বাস থেকে নামিয়ে সারাদিন বসিয়ে রেখে বিকেলে নেয়া হয় নূরপুর সেনা ছাউনিতে। অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের পর দু’জন সঙ্গীসহ সাঁথিয়া থানার মাধপুরের ইছামতি পাড়ের এক নিভৃত বাঁশঝাড়ে গুলি করে হত্যা করে হয়।

বেলোনিয়ায় মুক্তিবাহিনীর মূল ঘাঁটিতে পাকবাহিনীর এক ব্যাটালিয়ন সৈন্য দুদফা আক্রমণ চালায়। মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধারা পাক হানাদারদের আক্রমণ সাহসিকতার সাথে দুবারই প্রতিহত করে। এই যুদ্ধে পাকবাহিনীর ৩০০-এর অধিক সৈন্য নিহত হয় ও ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিপর্যস্ত ও পর্যুদস্ত অবশিষ্ট পাকসেনারা পিছু হটে তাদের আনন্দপুর ঘাঁটিতে ফিরে যায়। ৪নং সেক্টরে ক্যাপ্টেন রব নেতৃত্বাধীন সাব-সেক্টরের প্রধান ঘাঁটি বড়পুঞ্জীতে স্থাপন করা হয়। এই সাব-সেক্টর লাতু, বিয়ানীবাজার, শারোপার, বড়গ্রাম, জকিগঞ্জ, আটগ্রাম, চিকনাগুল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদল সাতক্ষীরায় পাকবাহিনীর পেয়ারা বাগান ক্যাম্পের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে পাকসেনারা পর্যুদস্ত হয়। ক্যাপ্টেন হুদার নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী সাতক্ষীরা এলাকাবর্তী সীমান্ত অঞ্চলের পাকবাহিনীর বসন্তপুর ঘাঁটির উপর পরিকল্পনা মোতাবেক আক্রমণ চালায়। এ যুদ্ধে পাকবাহিনী সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা আক্রমণ চালালে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটে।

পাকিস্তানের জনপ্রিয় দৈনিক ডন প্রকাশিত এক নিবন্ধে করাচীর বিভিন্ন জলপথে ‘বাংলা দেশ’ ও ‘জয় বাংলা’ ছাপমারা ১০০ রুপী ও ৫০০ রুপী নোট পাওয়ার কথা জানায়। ওই নিবন্ধে  ‘বাংলা দেশ’ ছাপামারা ১০০ রুপীর একটি নোটের ছবিও ছাপে ডন।

ভারতীয় দৈনিক হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড ’মুক্তিফৌজ ঘনীভূত হচ্ছে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে বলে, ইউএনআইয়ের ভাষ্য মতে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানী সেনাদের ছোট ছোট দল এবং সেনা চৌকির ওপর গেরিলা হামলা জোরদার করেছে।‘সরকার সকল বাস্তুত্যাগী ও দেশত্যাগী পলাতক সাধারণ ও সেনাসদস্যদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করিয়াছেন’ মর্মে এক ঘোষণা জারি করে পাকিস্তানের সামরিক সরকার। সেনা সুত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘পলাতক ১৯ জন অফিসারসহ ২ হাজার সেনা সদস্য ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণ করিয়াছে এদের অর্ধেকই সাবেক ইপিআর বাহিনীর সদস্য’। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের প্রধান ও সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল নিয়াজী সদরঘাটে সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য আনিত নৌযানগুলো পরিদর্শন করে।

এদিকে ‘প্রদেশের অবস্থা স্বাভাবিক’ দাবী করে সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেয়া হয়। এদিন ‘ইয়থ ফর বাংলাদেশ’ পূর্ব বাংলার মানবিক দুর্যোগের বিষয়ে বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণের জন্য একটি প্রচারপত্র প্রকাশ করে বলে, “বর্ণনাতীত একটি মানবিক দুর্যোগ ধীরে ধীরে পশ্চিম বাংলার ওপর ডালপালা বিস্তার করছে। পশ্চিম বাংলা বাদে অবশিষ্ট ভারত হয়ত এই ব্যাপারে ইতোমধ্যে শুনেছে। কিন্তু অভূতপূর্ব এই সঙ্কট রাজ্য এবং সমগ্র দেশে দিনে দিনে আরও ঘনীভূত হচ্ছে এবং উপমহাদেশবাসী এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে আন্তরিকতা প্রদর্শন এবং সঙ্কট নিরসনে ব্যক্তিগত ও স্বতন্ত্র উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। পূর্ব বাংলায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনাবলীকে আমরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে না দেখে বরং সহমর্মিতার সঙ্গে আমাদের নিজেদের ব্যাপার হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। 

পাকিস্তানীদের অব্যাহত সন্ত্রাসের ফলে গত ছয় সপ্তাহে ৫০ লাখ মানুষ পশ্চিমবঙ্গে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও প্রতিদিন ৬০ হাজার করে মানুষ আসছে এবং এই সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে এই সংখ্যা ১ কোটিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনের প্রভাব এই শতাব্দীজুড়ে বিরাজমান থাকবে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে এখানে এসেছে এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ অনাহারে থেকেছে। এবার আগাম বর্ষাকাল এসেছে এবং এই ৫০ লাখের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষ উন্মুক্ত মাঠে, গাছের নিচে থাকছে। প্রতিদিন বৃষ্টিতে ভেজা এবং হিমশীতল রাতের ঠাণ্ডা মোকাবেলা করা এই সমস্ত মানুষের দুর্ভোগ সহজেই কল্পনা করা যায়। বিশেষ করে শিশুদের, যারা পাকবাহিনীর গুলি অথবা মহামারিতে মা-বাবার একজন বা উভয়কেই হারিয়েছে তাদের অবস্থা বর্ণনা করার অপেক্ষা রাখে না। এর উপরে আবার কলেরা মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষ্ণনগর থেকে শিকারপুর এই ৫০ মাইলের সীমানায় শুধু মৃত এবং মৃতপ্রায় মানুষ।

বাতাসে মানুষের পঁচা মাংসের গন্ধ। আমাদের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর রাস্তায় দেখা যাচ্ছে বীভৎস সব দৃশ্য। শিশু মৃত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার চেষ্টা করছে, সদ্যবিধবা নারী মৃত স্বামীকে এখনও বাতাস করে যাচ্ছে, কুকুরের দল প্রতিরোধ শক্তিহীন মানুষকে জীবন্ত ছিঁড়ে খাচ্ছে। সদ্য এতিম শিশু পিতা-মাতার মৃতদেহের পাশে বসে আছে- এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য রাস্তার আশপাশে অহরহই দেখা যাচ্ছে। কলেরার কারণে এখন পর্যন্ত কম করে হলেও ৩ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এটা তো মাত্র শুরু! মহামারি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এবং সদ্যই কলকাতায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ বহুবছর কলকাতায় কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি! বর্ষাকাল যত পার হবে, টাইফয়েড এবং গুটিবসন্ত মহামারির নতুন কারণ হিসেবে যুক্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি ভারত সরকারের পক্ষেও সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

বিদেশী সাহায্য চাওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কিছু সাহায্য আসতেও শুরু করেছে। কিন্তু আমাদের এখনও ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিকভাবে অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। এই পত্র মারফত সমগ্র দেশের তরুণ সমাজকে সামনে এগিয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন শরণার্থী শিবিরগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক, নিজের এলাকাতে সাংগঠনিক সেবা, আর্থিক অনুদান। ইতোমধ্যে ‘অক্সফাম’ এবং ‘ওয়ার এগেইনস্ট ওয়ান্ট’ এর মতো আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এখানে এসে পৌঁছেছে এবং কাজ শুরু করেছে। ‘ইয়াং ব্রিটিশ’ ডাক্তাররা অক্লান্তভাবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ভারতীয় তরুণদের কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা এখনও কোনো সাড়া পাইনি। 

ভারতীয় তরুণ সমাজ সময়ের প্রয়োজনে সর্বদাই এগিয়ে আসে। এখনই সময় এই মহৎ উদ্যোগে শামিল হবার, চ্যালেঞ্জ নেবার। আমরা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভারতীয় যুবসমাজের কাছে আবেদন করছি, যেন তারা সময়ের প্রয়োজনে জেগে ওঠে। আমাদের তরুণ সমাজ শুধু এই ৫০ লাখ মানুষের নির্বিঘ্ন অবস্থানই নিশ্চিত করবে না, তারা যেন তাদের দেশে ফেরত যেতে পারে এবং নিরাপদে থাকতে পারে সেই লক্ষ্যেও কাজ করবে।”

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে