৬৮০০ বছরের সমাধিতে রহস্যময় তিন কঙ্কাল

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৮ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

৬৮০০ বছরের সমাধিতে রহস্যময় তিন কঙ্কাল

মো. হাসানুজ্জামান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৫০ ৯ মে ২০২১   আপডেট: ২১:০১ ৯ মে ২০২১

৬৮০০ বছরের সমাধিতে রহস্যময় তিন কঙ্কাল- ছবি: অ্যানসিয়েন্ট অরিজিন

৬৮০০ বছরের সমাধিতে রহস্যময় তিন কঙ্কাল- ছবি: অ্যানসিয়েন্ট অরিজিন

একটি মাথার খুলিতে ছিদ্র, আরেকটি মাথার খুলি স্বাভাবিক। দুটি খুলির পাশে পশুর কঙ্কাল। রহস্যঘেরা সমাধিতে তিনটি কঙ্কালে বেশ বিস্মিত প্রত্নতত্ত্ববিদরা। গবেষকরা প্রায় ৬৮০০ বছরের পুরনো সমাধিতে খুঁজে পান রহস্যঘেরা নানা তথ্য-উপাত্ত। এসব রহস্যঘেরা উপাত্তে কৌতুহলী মানুষ শিরোহিত। 

স্পেনের সেভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ববিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দক্ষ দল গবেষণাটি পরিচালনা করেছিল। একটি প্রখ্যাত জার্নালে অনুসন্ধানের এর রিভিউ প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ স্পেনের একটি গুহা থেকে নব্যপ্রস্তরযুগের দুটি মাথার খুলি আবিষ্কার করেন গবেষকরা। এ গুহা খুলির পাশাপাশি অল্পবয়স্ক ভেড়া বা ছাগলের সঙ্গে মৃতদেহ পান। সাধারণত, প্রাচীন ও আধুনিক সব সমাজে মৃতদেহ সমাহিত করার বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে গবেষকদের ধারণা, দুটি খুলি ও প্রাণীর দেহাবশেষ মধ্য-নব্যপ্রস্তরযুগের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট। এ গুহা থেকে প্রাপ্ত নিদর্শন থেকে গবেষকদের ধারণা, এটি একটি সমাধিস্থল, যা আনুমানিক ছয় হাজার ৫৫০ থেকে ছয় হাজার ৮০০ বছরের পুরনো। 

রহস্যময় তিন কঙ্কাল বা দেহাবশেষ

রহস্যময় কঙ্কাল -ছবি: অ্যানসিয়েন্ট অরিজিন

গুহায় পাওয়া দুটি খুলির মধ্যে একটি নারীর বলে শনাক্ত হয়। গবেষকদের ধারণা, ওই নারীর বয়স ২৪ থেকে ৪০ বছরের কোঠায়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যে, নারী খুলির মাথায় একটি ছিদ্র মিলেছে। আর অপর খুলিটি পুরুষ মানুষের ছিল। ধারণা করা হয়, এ পুরুষ সামাজিকভাবে উচু জাতের ছিল। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, দুটি খুলির সঙ্গে অল্প বয়স্ক ছাগল বা মেষের দেহাবশেষ মেলে। এছাড়া সমাধিতে মধ্য-নব্যপ্রস্তরযুগের (খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ অব্দ পর্যন্ত) বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামো ও নিদর্শনও পাওয়া গেছে। এ নিদর্শনগুলো থেকে তখনকার অজানা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানা যায়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় যে, নারী খুলির মাথায় একটি ছিদ্র মিলেছে- ছবি: অ্যানসিয়েন্ট অরিজিন

গুহার নিদর্শনের রহস্যময় বিবরণ

মাথার খুলিগুলো পশ্চিম দিকে মুখ করে রাখা ছিল। একটির সঙ্গে অপরটির দূরত্ব ছিল ৮ ইঞ্চি (২০ সেন্টিমিটার)। গবেষণা দলের সদস্যরা গুহায় প্রাপ্ত নারীর মাথার খুলির ছিদ্র দেখে অনুমান করেছেন, কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য ছিদ্রটি করা হয়েছিল। গবেষণা দলের এক সদস্যের মতে, মৃত্যুর আগে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অন্যদিকে প্রাপ্ত পুরুষের মাথার খুলিতে অনুরূপ কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।

দেহাবশেষ থেকে গবেষণা দলটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, পুরুষের মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই হয়েছিল। আর মস্তিষ্কের রোগ নিরাময়ের জন্য প্রাচীন শল্যচিকিৎসার ভুলে ওই নারীর মৃত্যু হয়।

তবে প্রত্নতত্ত্ববিদরা অবশ্য এটাও বলেছেন, এক রকম ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য মানুষ ও পশুর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। হয়তো তাদের একজন কিংবা উভয়কেই বলির শিকার হতে হয়েছিল। এ মানব ও পশু বলিদান কোনো ব্যক্তির পূর্বপুরুষকে উৎসর্গীকৃত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ বা স্মরণের উৎসবের অংশ হতে পারে। আবার মন্দ আত্মার মুক্তির কারণেও তারা বলির শিকার হতে পারে।

পশুর দেহাবশেষের ইঙ্গিত

সমাধিস্থলে ভেড়া বা ছাগলের দেহাবশেষ থেকে ধারণা করা হয়, এক ধরনের পশুবলির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক কিংবা বিশেষ সময়ের আচার পালন করা হতো। অল্পবয়স্ক পশু বলিদান সম্ভাবত বসন্ত উদযাপনের অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত। যদিও মধ্য-নব্যপ্রস্তরযুগ সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য মেলে না। তবুও স্প্যানিশ গুহা থেকে আবিষ্কৃত এসব দেহাবশেষ গবেষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এইচএন