মা দিবসের আদ্যোপান্ত: প্রাচীন গ্রীস থেকে আনা মেরির গল্প

ঢাকা, বুধবার   ২৩ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১০ ১৪২৮,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪২

মা দিবসের আদ্যোপান্ত: প্রাচীন গ্রীস থেকে আনা মেরির গল্প

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪০ ৯ মে ২০২১  

প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালন করা হয়। ফাইল ছবি

প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালন করা হয়। ফাইল ছবি

মা কথাটি খুব ছোট্ট হলেও এর বিশালতা ব্যাপক। মায়ের কারণেই আমরা এই পৃথিবীর আলো দেখতে পারছি। সহস্র ত্যাগের মাধ্যমে মা আমাদের এই ‘কঠোর’ পৃথিবীতে পথ চলতে শিখিয়েছেন, বেঁচে থাকার পথ দেখিয়েছেন।

মায়ের ভালোবাসা খুবই স্বকীয়। আমাদের মানসিক বিকাশ থেকে জীবনের সফলতা সবকিছুতেই মায়ের অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না। তাই সন্তানকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে তার আচার-আচরণে যেন গর্ভধারিণী মায়ের চোখ থেকে এক ফোঁটা জলও গড়িয়ে না পড়ে।

প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালন করা হয়। এ দিবসটিকে অনেকে বিতর্কিত করতে চাইলেও আপনি ইতিবাচক ভাবতে পারেন যে, এই দিনে মাকে বিশেষভাবে সম্মানিত করতে পারাটা সৌভাগ্যেরই ব্যাপার। এ দিবসে মাকে বিশেষভাবে ভালোবাসতে কিংবা শ্রদ্ধা জানাতে ক্ষতি নেই, বরং এতে মা-সন্তানের আত্মার বন্ধন আরো মজবুত হয়।

মা দিবসের উত্থান আকস্মিকভাবে হয়নি, ইতিহাসের অনেক পথ পেরিয়ে মা দিবসের এ আধুনিক সংস্করণ। মা দিবসের বিস্ময়কর ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নিই-

শুরুটা প্রাচীন গ্রীসে

প্রাচীন গ্রীসে বসন্তের সময়ে মাতৃদেবী রিয়ার অর্চনা করা হতো। গোধূলী বেলায় লোকেরা মধু-রুটি, পানীয় ইত্যাদি দিয়ে অর্চনায় শরিক হতেন। প্রাচীন রোমের অধিবাসীদের ও ‘মাগনা মাতার’ নামে একজন মাতৃদেবী ছিলেন। তার উদ্দেশ্যে একটি মন্দির নির্মিত হয়েছিল। প্রতি বছর মার্চ মাসে তার উদ্দেশ্যে আনন্দ উদযাপিত হতো। দেবীমাকে খুশি করার জন্য দর্শনার্থীরা হরেক রকমের উপহার আনতেন।

প্রাচীন গ্রীসে বসন্তের সময়ে মাতৃদেবী রিয়ার অর্চনা করা হতো। ফাইল ছবি

মায়েদের সম্মানার্থে ইংরেজরা ১৬০০ সালের দিকে ‘মাদারিং সানডে’ পালন করতো। তখনকার সময়ে অনেক দরিদ্র নারীরা পরিবার থেকে দূরে গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মানুষের বাসায় কাজ করে। ওই একটা দিন তারা ছুটি পেতেন এবং পরিবারের সাথে দিনটি পালন করতেন। উৎসবের আয়োজন আরো প্রগাঢ় করতে বিভিন্ন রকম পিঠার আয়োজন করা হতো।

আরো গাঢ় হলো মা দিবস

যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয় আমেরিকান সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হোই নামে এক নারীর হাত ধরে। ১৮৭০ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের  পৈচাশিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে শান্তির প্রত্যাশায় জুলিয়া একটি ঘোষণাপত্র লেখেন। এটি মাদার’স ডে প্রোক্লেমেশন নামে পরিচিত ছিলো। এ ঘোষণার মধ্যে জুলিয়া রাজনৈতিক স্তরে সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। এরপর যুদ্ধ শেষে পরিবারহীন অনাথদের সেবায় ও একত্রীকরণে নিয়োজিত হন মার্কিন সমাজকর্মী আনা রিভিজ জার্ভিস ও তার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস। এসময় তারা জুলিয়া ওয়ার্ড ঘোষিত মা দিবস পালন করতে শুরু করেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে আনা রিভিজ জার্ভিস ১৯০৫ সালের ৫ মে মারা যান।

মায়ের মৃত্যুর পর আনা মেরি জার্ভিস মায়ের শান্তি কামনায় ও তার সম্মানে সরকারিভাবে মা দিবস পালনের জন্য প্রচারণা চালান। তিন বছর পর ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার অ‍ান্দ্রেউজ মেথডিস্ট এপিসকোপাল চার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মা দিবস পালিত হয়। চার্চটি বর্তমানে International Mother's Day Shrine নামে পরিচিত।

অ‍ানা মারি জার্ভিস এখানেই থেমে ছিলেন না। ১৯১২ সালে তিনি স্থাপন করেন মাদার’স ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন। এসময় জার্ভিস মা দিবসকে ছুটির দিন করার লক্ষ্যে ও দিনটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে ব্যাপক প্রচারণা চালান। তার এই প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কানাডা, মেক্সিকো, চীন, জাপান, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায়। শেষমেশ ১৯১৪ সালের ৮ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা দিবস’ ঘোষণা করে চুক্তিপক্ষ সাক্ষর করে।

এভাবেই পৃথিবীজুড়ে ‘মা দিবস’ পালন শুরু হয় এবং এই ঐতিহ্য এখনো পালিত হচ্ছে। প্রত্যেকটি মা সুস্থ, সুন্দর ও সামগ্রিক ভালোবাসার অধিকারী হন, এই শুভকামনা রইলো সকল মায়েদের প্রতি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে