এর আগেও পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে চীনা রকেট, কেমন ক্ষতি হয়েছিল?

ঢাকা, রোববার   ১৩ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪২৮,   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

এর আগেও পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে চীনা রকেট, কেমন ক্ষতি হয়েছিল?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৭ ৮ মে ২০২১   আপডেট: ১৭:৪৮ ৮ মে ২০২১

চীনার রকেট এর আগেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। ফাইল ছবি

চীনার রকেট এর আগেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। ফাইল ছবি

চীনা রকেট ‘লং মার্চ ৫বি’র ধ্বংসাবশেষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে আজ–কালকের মধ্যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২৩ টন ওজনের এই ধ্বংসাবশেষ কয়েক দশকের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়া সবচেয়ে বড় মহাকাশ বর্জ্যের অন্যতম।

হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোনাথন ম্যাকডোয়েলের মতে, রকেটটি কোনো ব্যক্তি বা ভবনে আঘাত হানার ঝুঁকি বলা যায় ‘কয়েক বিলিয়ন শতাংশের মধ্যে এক শতাংশ’। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বলা যায় কিছুই নেই। তাছাড়া এমন ঘটনা প্রথম নয়; এর আগেও বেশ কয়েকবার পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে রকেট।

এর আগে কী ঘটেছিল?

চীনার রকেট এর আগেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। গত বছরও বিশাল আকৃতির আরেকটি রকেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীতে পুনঃপ্রবেশ করে। সেবার পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টের বিভিন্ন এলাকায় রকেটটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে। যার মধ্যে ১০ মিটার বা ৩০ ফুট দীর্ঘ ধাতব পাইপও ছিল। তবে ওই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

আরো পড়ুন: চীনা রকেটের অংশ পড়তে পারে ইতালিতে, ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ

ওই রকেটের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অংশটির আয়তনই ছিল একটি বড়সড় বাসের সমান। নিউইয়র্ক শহরের থেকেও বড় একটি টুকরো শহর থেকে মাত্র ১৫—২০ কিমি দূরে ছিল। সেটি আঘাত হানলে পুরো নিউইয়র্ক প্রায় চাপা পড়তো।

লং মার্চ ৫বি কতটা বিপজ্জনক?

লং মার্চ ৫বি’র ধ্বংসাবশেষ কতটা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে এ নিয়ে আশঙ্কার পাশপাশি অনেকে এজন্য চীনের তীব্র সমালোচনা করছেন। যদিও চীনের দাবি, তাদের রকেটের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর জন্য একদমই বিপদজনক হয়ে উঠবে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরপরই রকেটের ধ্বংসাবশেষ পুড়ে যাবে।

আরো পড়ুন: পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা চীনা রকেটের ছবি ধরা পড়ল ক্যামেরায়

তবে হার্ভার্ড ভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী জনাথন ম্যাকডোয়েল এর আগে রয়টার্সকে বলেছিলেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর রকেটের ধ্বংসাবশেষের পুরোটা পুড়ে না গিয়ে সেটার কিছু অংশ ভূমিতে আঘাত করতে পারে, হয়তো আবাসিক এলাকাতে।

ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডল ক্রমেই ঘন হতে থাকায় রকেটের ধ্বংসাবশেষের বেশিরভাগ আগুনে পুড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে অংশগুলো পুড়বে না সেগুলো পৃথিবীতে ভেঙে পড়বে। যদি এসব কিছু অনিয়ন্ত্রিতভাবে হয়ে থাকে তাহলে কোথায় রকেটের ধ্বংসাবশেষ পুড়বে এবং কোথায় এসে পড়বে বা কতটুকু ক্ষতি হবে তা বলা যাচ্ছে না।

লং মার্চ ৫বি এর ধ্বংসাবশেষের ওজন ২১ টন। এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে ধসে পড়তে যাওয়া সবচেয়ে বেশি ওজনের ধ্বংসাবশেষ হতে যাচ্ছে। ধ্বংসাবশেষটি ৯৮ ফুট লম্বা এবং ১৬ ফুট চওড়া। সেটি কক্ষপথ হয়ে পৃথিবীর দিকে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ হাজার ৬০০ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে