৮ মে ১৯৭১: পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নেয় বাংলার ১৫ লাখ শরণার্থী

ঢাকা, রোববার   ১৩ জুন ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪২৮,   ০১ জ্বিলকদ ১৪৪২

৮ মে ১৯৭১: পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নেয় বাংলার ১৫ লাখ শরণার্থী

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:২৬ ৮ মে ২০২১   আপডেট: ১০:২৭ ৮ মে ২০২১

পাকবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে প্সহচিম বাংলায় আশ্রয় নেই মানুষ

পাকবাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে প্সহচিম বাংলায় আশ্রয় নেই মানুষ

পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বাংলাদেশের শরণার্থীর সংখ্যা  ১৫ লাখ ৭২ হাজার ২২০ জনে পৌঁছায়। কর্নেল এম এ জি ওসমানী, ক্যাপ্টেন নজরুল হক, ক্যাপ্টেন নেওয়াজিস, সুবেদার মেজর কাজিমউদ্দিন এবং কয়েকজন ভারতীয় অফিসার ভারতের কদমতলায় এক জরুরি সভায় মিলিত হন। সভায় মুক্তিবাহিনী প্রধান কর্নেল এম.এ.জি ওসমানী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে সেই অনুসারে নির্দেশ দেন।

মুক্তিবাহিনী প্রধান কর্নেল এম এ জি ওসমানী সন্ধ্যায় দিনাজপুরের ভজনপুরে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি পরিদর্শন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ উদ্দীপনা যোগান। ফরিদপুর জেলার কানাইপুরে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় এদেশীয় রাজাকার ও বিহারীরা।

জেনারেল টিক্কা খান দালালদের খুশি করতে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য দেয়ার অজুহাতে ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ করে। এই অর্থ পরে বিভিন্ন এলাকায় বাঙালি নিধনে পাকসেনাদের প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী পাকিস্তানের সেবক শান্তি কমিটির দালাল ও রাজাকারদের মাঝে বন্টন করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া মাতৃভূমি পাকিস্তান রক্ষার জন্য জনগণকে আত্মোৎসর্গের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাতৃভূমির ঘাতকরা পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের ধ্বংস করতে না পারলে ইসলামকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না ।

শিল্প ও বণিক সমিতির অনারারী অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আশরাফ ডব্লিউ তাবানী জানান, সেনাবাহিনী দুষ্কৃতকারীদের চক্রান্ত নস্যাৎ করেছে, সময়োচিত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে তারা পিছু হটেছে, এবার সবাইকে দেশ পুনর্গঠনের কাজে অংশ নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ’ সম্পর্কে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মোহ কেটে যাচ্ছে। এরা নিশ্চিহ্ন হবে।

কেন্দ্রীয় সিরাত কমিটি বায়তুল মোকাররম মসজিদে এক সেমিনারের আয়োজন করে । সেমিনারে বক্তারা বলেন, আল্লাহর দরবারে অশেষ শুকরিয়া বিদ্রোহীরা ধ্বংস হয়েছে। ভারত তার গুপ্তবাহিনীর সহায়তায় এদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু শান্তিপ্রিয় জনগণ ও সেনাবাহিনী তাদের বিতাড়িত করেছে। সেমিনারে জামায়াত নেতা গোলাম আযমসহ মওলানা শামসুদ্দিন কাসেমী, আলাউদ্দিন আল আজাহারী, ড.মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যারিস্টার আখতার উদ্দিন, অধ্যাপক আবদুল্লা গফুর ও ড. হাবিবুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে