জঙ্গলে হাঁটতে গিয়ে পেলেন ব্রোঞ্জ যুগের গুপ্ত ভাণ্ডার

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

জঙ্গলে হাঁটতে গিয়ে পেলেন ব্রোঞ্জ যুগের গুপ্ত ভাণ্ডার

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৮:৪৬ ৪ মে ২০২১   আপডেট: ১২:২২ ৪ মে ২০২১

এসব জিনিস আড়াই হাজার বছরের পুরনো

এসব জিনিস আড়াই হাজার বছরের পুরনো

সুইডিশ কার্টোগ্রাফার বা মানিচত্র অঙ্কণকারী টমাস কার্লসন। নিজেদের ওরিয়েন্টিয়ারিং ক্লাবের জন্য সুইডেনের বনাঞ্চলের সমীক্ষা চালাচ্ছিলেন। সুইডেনের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এক বনে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তিনি কিছু একটা দেখতে পান। ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করে নিজেই হতবাক হন। ব্রোঞ্জ যুগের ধনসম্পদ খুঁজে পেয়েছেন টমাস। সেসব ধনসম্পদ আড়াই হাজার বছর আগেকার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোট ৫০টি জিনিস খুঁজে পাওয়া গেছে। সেসব জিনিসপত্রের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল গহনাসামগ্রী। যেমন- নেকলেস, ব্রেসলেট কিংবা কাপড়ের কাঁটা। এসব খুঁজে পাওয়া কার্টোগ্রাফার টমাস কার্লসন বলেন, আমি প্রথমে ভেবেছিলাম ওটি একটি প্রদীপ। কাছাকাছি যেয়ে ভালো করে দেখে বুঝতে পারলাম সেগুলো সব পুরানো গহনাসামগ্রী।

জঙ্গলে একটি পাথরের পাশেই পড়েছিল এগুলো সুইডিশ প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, জঙ্গলে এমন গুপ্ত ভাণ্ডার খুঁজে পাওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। প্রাচীন উপজাতিরা সচরাচর নদীতে বিভিন্ন দামী জিনিস উৎসর্গ করতেন। তবে সম্প্রতি খুঁজে পাওয়া গুপ্তভাণ্ডার বনের মধ্যে একটি পাথরের পাশে মাটিতে পড়ে ছিল।

কার্লসন জানান, মানচিত্র তৈরির জন্য ভূমি নিরীক্ষা করতে করতে হঠাৎ করেই ধাতব জিনিসগুলো চোখে পড়ে। প্রথমাবস্থায় গহনাগুলোর অবস্থা দেখে আমার মনেই হয়নি সেগুলো এত পুরনো হতে পারে। কারণ সেগুলো বেশ ভালো অবস্থায় ছিল। এরপর আমি স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারাই পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে জানায় এসব গহনাগুলো আদিকালের।

এগুলো উপজাতিদের বলে ধারণা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা জঙ্গলটি গোথেনবার্গের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দূরের অ্যালিংসাস শহরের কাছে অবস্থিত। প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানান, খুঁজে পাওয়া জিনিসগুলো দেখে মনে হচ্ছে সেগুলো হয়ত জঙ্গলের কোনো দেবতা বা দেবতাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

দেবতাকে উতসর্গ করেই জঙ্গলে রেখে যাওয়া ব্রোঞ্জযুগের এসব গয়না এবং জিনিসপত্র প্রত্নতাত্ত্বিকরা আরও জানান, খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে ৭০০ সালে বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পেতে বন-জঙ্গলে দামী জিনিস উৎসর্গ করার প্রচলন ছিল বেশ কিছু আদিবাসীর মধ্যে। খুঁজে পাওয়া জিনিসগুলো দেখে মনে হচ্ছে, এগুলো সে সময়কার কোনো সম্ভ্রান্ত পরিবারের কোনো নারীর বা নারীদের গহনা। 

সূত্র : বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে/এনকে