গল্পটা গিগজ ধানের হাতেভাজা মুড়ির

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৭ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

গল্পটা গিগজ ধানের হাতেভাজা মুড়ির

ফিচার প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০১ ৩ মে ২০২১   আপডেট: ১৪:০২ ৩ মে ২০২১

গিগজ ধানের মুড়ি। ছবি: সংগৃহীত

গিগজ ধানের মুড়ি। ছবি: সংগৃহীত

নিত্যদিনের বাজারে যে মুড়ি পাওয়া যায়, তা মেশিনেই প্রস্তুত হয়। মেশিন আসার আগে কিন্তু মুড়ি হাতেই প্রস্তুত করা হতো। এই হাতে তৈরি মুড়ি ছিল হস্তশিল্প, বাড়ির মহিলারা কম পরিমাণে তৈরি করে মহাজনের কাছে জমা করতেন। যেটা পৌঁছে যেত বাজারে। কিন্ত মুড়ি তৈরির মেশিন বাজারে আসায় হারিয়ে যাচ্ছে হাতেভাজা মুড়ি। সব দোকানেই কারখানা থেকে মেশিনে প্রস্তুত করা মুড়ি পৌঁছে যাচ্ছে। তাই এখন হাতেভাজা মুড়ি পাওয়া যায় না বললেই চলে। মিললেও দাম বেশি।

একটা সময় হাতেভাজা মুড়ি দেশের সব জেলাতেই পাওয়া যেত। গৃহস্থ বাড়িতে নিজেদের প্রয়োজনে মুড়ি ভেজে নিতো। যারা হাতে ভাজা মুড়ি খেয়েছেন, তারা এখনও সেই সেই স্বাদ খুঁজে বেড়ান। সাদা ফুলের কুড়ির মতো গিগজ ধানের মচমচে মুড়ি খাওয়ার যে তৃপ্তিময় স্বাদ ভুলবার নয়।

কয়েক বছর আগেও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মহব্বতপুর, হরিনারায়নপুর, গিলাবাড়ি গ্রাম গুলো মুড়ির গ্রাম হিসেবে খ্যাত ছিল। ওই গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই বাণিজ্যিকভাবে  মুড়ি ভাজার ধুম লেগে থাকতো।

গিগজ ধানের মুড়ি যার খ্যাতি ছিল সর্বত্র। এখনও হাতে ভাজা দেশি মুড়ি তৈরির কাজে নিয়জিত রয়েছেন কিছু নারী ও পুরুষ। তবে কারখানায় উৎপাদিত এলসি মুড়ি সহজলভ্য ও বেশি বাজারজাতকরণের ফলে দেশি হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা একেবারে কম।

হরিনারায়ণপুরের সাবিতা সেন জানান, মুড়ির চাল কিনে বাড়িতে পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করি। এরপর লবণ দিয়ে রাখি। তারপর রোদে শুকিয়ে হাতে ভাজতে হয়। মেশিনে যারা মুড়ি ভাজে তারা প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোস মিশিয়ে মুড়ি বড় ও সাদা করে কম দামে বিক্রি করে। এদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টেকা কষ্টকর।

সুব্রত চন্দ্র রায় জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের বেশিরভাগ মুড়ির চাহিদা হরিনারায়ণপুর ও গিলাবাড়ি থেকে মেটানো হয়। অনেক কষ্টে মুড়ি ভেজে হেঁটে মাথায় নিয়ে  মুড়ি বিক্রি করি। ৩ থেকে ৪ দিন মুড়ি বিক্রি করে লাভ হয় ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি মুড়ি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

এক মণ পরিমাণের চালের মুড়ি তৈরি করতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। বর্তমানে ধান ও জ্বালানির (কাঠ) দাম বেড়ে যাওয়ায় হাতে ভাজা মুড়িরও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। প্রতি কেজি মুড়ি উৎপাদনে গড়ে খরচ হয় প্রায় ৬৬ টাকা। হাতে তৈরি মুড়ির রং লালচে হলেও খেতে দারুণ  সুস্বাদু হয়। এছাড়া ২০/২৫ দিন ঘরে রাখলেও এর স্বাদের কোনো পরিবর্তন হয় না।

লক্ষণ পাল নামের আরেক কারিগর জানান, দাম একটু বেশি হলেও সচেতন মানুষ হাতে ভাজা মুড়িই বেশি খোঁজ করেন। রোজার সময় তাদের মুড়ির চাহিদা বেশি। তাই ব্যস্ততাও বেশি। তারা এখন গিগজ ধানের মুড়ি ভাজছেন। আরো পরে ভাজবেন টাবি ধানের মুড়ি।

হাতে ভাজা মুড়ি প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হয় ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা। খুচরা বাজারে তা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এবার চালের দাম বেশি হওয়ায় তেমন লাভ পাবেন না। কারিগররা আশা করছেন, টাবি ধানের মুড়িতে লাভ করতে পারবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে