৩৫০০ বছর আগের মধুর পাত্রের সন্ধান আফ্রিকায়

ঢাকা, শনিবার   ৩১ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৭ ১৪২৮,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

৩৫০০ বছর আগের মধুর পাত্রের সন্ধান আফ্রিকায়

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫০ ২৯ এপ্রিল ২০২১  

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মধু রাখার পাত্র এটি

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মধু রাখার পাত্র এটি

ওজন কমাতে সকালে গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খান অনেকেই। আবার রূপচর্চা থেকে শুরু হরে নানান অসুখের দাওয়াই এই মধু। শুধু বর্তমানেই নয় াচার থেকে পাঁচ হাজার বছর আগেও ছিল মধুর ব্যবহার। তবে এবার আফ্রিকায় সন্ধান মিলেছে একটি মধুর পাত্রের। তিন হাজার ৫০০ বছর পুরনো এটি। এমনকি এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মধু রাখার পাত্র এটি। এই প্রাপ্তি প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। 

ধারণা করা হচ্ছে, যিশুর জন্মের আগে খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ১৫০০ সাল থেকে এই পাত্র ব্যবহার করা হত বলে জানিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। স্বাভাবিক ভাবেই যা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মধু সংগ্রহের দিকেই ইঙ্গিত করছে। সম্প্রতি গ্যেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ব্রিটেনের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদদের সঙ্গে যৌথ ভাবে সন্ধান চালিয়ে এই মধুর হাড়ির সন্ধান পেয়েছেন।  

আফ্রিকা মহাদেশ থেকে প্রাপ্ত এই মধুরহাড়ি নক সংস্কৃতির অংশ বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে এই নক সংস্কৃতির জন্ম আফ্রিকার নাইজেরিয়ায়। খ্রিস্টজন্মের আগে আনুমানিক ১৫০০ শতক থেকে এই সংস্কৃতি আফ্রিকায় রয়েছে। 

গ্যেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ব্রিটেনের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদদের সঙ্গে যৌথ ভাবে সন্ধান চালিয়ে এই মধুর হাড়ির সন্ধান পেয়েছেনএই নক সংস্কৃতি আফ্রিকার সাধারণ যুগের অংশ। এই যুগ ঐতিহাসিকদের কাছে পরিচিত প্রাচীন স্থাপত্যের জন্য। এই যুগের টেরাকোটা শিল্প বিশ্বব্যাপী প্রসিদ্ধ। এই যুগের প্রাচীন মধুপাত্রের সন্ধান পেয়ে বিজ্ঞানীরা উল্লসিত। অনেকেই মনে করছেন, এই মধুপাত্রের সন্ধান আফ্রিকা সম্পর্কে অনেক নতুন ভাবনার দিগন্ত খুলে দেবে। 

গ্যেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার ব্রেউইং একই কথা বলেছেন। তিনি জানান, 'এই মধু সেই সময়ের মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাপন বা খাদ্যসংস্কৃতির অংশ ছিল, এ কথা ভাবতেই অবাক লাগে'। কেবল প্রত্নতাত্ত্বিকেরাই বিস্মিত নন। একই রকম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপকেরাও। 

এই মধুপাত্রের সন্ধান আফ্রিকা সম্পর্কে অনেক নতুন ভাবনার দিগন্ত খুলে দেবেব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুলি ডিউন জানান, 'বায়োমলিকিউলার তথ্যসমূহের সঙ্গে নৃতাত্ত্বিক পরীক্ষা ও তথ্যাদির মিশ্রণ প্রমাণ করে, এই মধুর ব্যবহার হত আজ থেকে ৩৫০০ বছর আগে। অধ্যাপক ক্যাথারিনা নিউম্যান জানান, 'সব চেয়ে প্রাচীন মৃৎপাত্রের নিদর্শন যা পাওয়া গিয়েছে তা এগারো হাজার বছর আগের। এখন আমরা বোঝার চেষ্টা করছি, সেটাও মোমের অবশিষ্টাংশ দিয়েই তৈরি কিনা।' 

এবার বিজ্ঞানীরা আফ্রিকার নক সংস্কৃতির মানুষজনের মধ্যে পশুপালনের অভ্যাস ছিল কি না, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে