২৮ এপ্রিল ১৯৭১: প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ প্রতিবেশী দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

২৮ এপ্রিল ১৯৭১: প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ প্রতিবেশী দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৩৮ ২৮ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১০:৪৩ ২৮ এপ্রিল ২০২১

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ। ফাইল ছবি

স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এক ঘোষণায় বিশ্বের সকল দেশ বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি এবং বাংলার মুক্তিকামী লড়াকু মানুষকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করবার জন্যে আহ্বান জানান।

সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী এলেক্সি কোসিগিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছে এক বার্তায় অবিলম্বে বাংলাদেশে রক্তপাত বন্ধের আহ্বান জানান। অন্যদিকে ভারতীয় হাই কমিশনারকে পাকিস্তানি পররাষ্ট্র দফতরে ডেকে এনে সতর্কতা ও হুমকি দেয়া হয়।

এদিন ভোরে অবাঙালি হানাদার ঘাতকের দুটিদল মিরপুর ও মোহাম্মদপুর থেকে এসে কল্যাণপুরের গণহত্যা চালায়। এ গণহত্যাকে ‘কল্যাণপুর গণহত্যা’ বলা হয় কিন্তু এর বিস্তৃতি ছিল পাইকপাড়া, পীরেরবাগ, আহম্মদনগর, শ্যামলী, টেকনিক্যাল, গাবতলী থেকে গৈদ্দারটেক পর্যন্ত। ঘাতক বিহারিদের একটিদল মিরপুর থেকে বাঙালি নিধন করতে করতে পাইকপাড়া-পীরেরবাগ হয়ে কল্যাণপুরে চলে আসে, অপর একটিদল মোহাম্মদপুরের আসাদগেট থেকে হত্যাযজ্ঞ চালাতে চালাতে কল্যাণপুরে ঢোকে। তারা রড, লাঠি, সড়কি, তলোয়ার, কুড়াল, বল্লম, চাপাতি ও বন্দুক হাতে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে লুটপাট করে, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন করে শেষে নারী-পুরুষ-শিশুদের নির্বিচারে জবাই করে হত্যা করে।

পাকবাহিনীর সঙ্গে অবাঙালিরাও সামিল হয় এই ধবংসযজ্ঞে রাতে সূত্রাপুর এলাকার সাধু বাবা শ্রীধাম পালের বাড়ি থেকে শ্রীধাম পাল এবং তার বাড়িতে অবস্থানরত ২০ জনকে ধরে নিয়ে যায় এবং বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে গুদারাঘাটে হাত, পা, চোখ বেঁধে অকথ্য নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করে লাশগুলো নদীতে ফেলে দেয়। মুক্তিবাহিনীর গেরিলারা এদিন ভোরে ঢাকার মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে  টহলদার পাকসেনাদের ওপর আক্রমণ চালালে বন্দুকযুদ্ধে ৭ জন গেরিলা যোদ্ধা শহিদ হন।

পাকবাহিনী মাধবপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ব্যুহের ওপর তীব্র আক্রমণ চালায়। সারাদিন প্রচন্ড গোলাগুলি বিনিময়ের পর গোলাবারুদ ফুরিয়ে এলে মুক্তিযোদ্ধারা ঐ স্থান ত্যাগ করে সিলেটের মনতলায় চলে আসে। এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর প্রায় ৩০০ জন হতাহত হয়। যুদ্ধে সিপাহী খালেদ এবং সিপাহী শাহজাহান শাহাদাৎ বরণ করেন। মুক্তিযোদ্ধারা চট্টগ্রামের হিকুয়া এলাকা থেকে সরে এসে চিকনছড়া নামক স্থানে শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরি করে।

বিশ্ব শান্তি পরিষদের সম্মেলনে গৃহীত এক প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশে রক্তগঙ্গা বন্ধ করার জন্য বিশ্ব জনমত ও বিশ্বের সর্বত্র শান্তিকামী শক্তিগুলোকে অবিলম্বে তৎপর হতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতৃবর্গ এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনরক্ষা করতেই হবে। শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত নেতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে