হৃৎপিণ্ড ছাড়াই ৫৫৫ দিন বেঁচেছিলেন তিনি!

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

হৃৎপিণ্ড ছাড়াই ৫৫৫ দিন বেঁচেছিলেন তিনি!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৬ ২৪ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৩:৩২ ২৪ এপ্রিল ২০২১

স্ট্যান লারকিন

স্ট্যান লারকিন

হৃৎপিণ্ড এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা ছাড়া কোনো প্রাণীরই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। এই প্রাকৃতিক নিয়মের ব্যাতিক্রম ঘটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান শহরের এক বাসিন্দা। হৃৎপিণ্ড ছাড়াই ৫৫৫ দিন কাটিয়ে ছিলেন তিনি। ২৫ বছরের তরুণ স্ট্যান লারকিনের কাহিনী পড়লে চমকে উঠবেন। তবে এই ব্যাপারটি ওই ব্যক্তির কাছে অদ্ভুত লাগেনি একদমই। কারণ তার কাছে আর কোনো উপায় ছিল না।

২০১৪ সালের নভেম্বরে স্ট্যানের দেহ থেকে তার হৃৎপিণ্ড অপসারণ করা হয়। তবে ওই সময় হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের জন্য কোনো দাতাকে তারা পাননি। তাই লারকিনকে যাতে দীর্ঘসময় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে না হয়, সেজন্য চিকিৎসকরা বিকল্প ভাবলেন।

স্ট্যান লারকিন ৫৫৫ দিন বেচে ছিলেন কৃত্রিম হৃদপিণ্ডতেই তার জন্য ব্যবস্থা করা হলো কৃত্রিম হৃদপিণ্ডের। এরপর সেটিকে ঠিক করে তারা স্ট্যানের পিঠে একটি ধূসর রঙের ব্যাগ বসিয়ে দিলেন। এটি তাকে বাকি জীবনটা বহনকরতে হয় বেঁচে থাকার জন্য। কারণ এই ব্যাগটিই ছিল লারকিনের জীবনমরণ।

শরীরের সঙ্গে কৃত্রিম হৃদপিণ্ডের ব্যাগটি তাকে সবসময় বহন করতে হত যে চিকিৎসকরা তার এই ব্যাগে একটি বিশেষ ডিভাইস ফিট করে দেন যা ছিল কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড। এটি আবার এমনভাবে যুক্ত ছিল যে তা লারকিন নামক ওই ব্যক্তির বুকের সঙ্গে সংযুক্ত থাকত সর্বক্ষণ। এর মাধ্যমেই সে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারতো ও সুস্থ-স্বাভাবিক থাকতো। তার বেঁচে থাকার জন্যে এই যন্ত্র কাজ কাজ চালাতো। কৃত্রিম হার্টের ব্যবহার আজ থেকে নয়। বহু আগেই শুরু হয়েছে এটি। 

বর্তমানে সুস্থ স্বাভাবিকভাবেই জীবনযাপন করছেন তিনি পরে আবার স্ট্যানের দেহে হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসকরা। এতদিন ধরে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড নিয়ে জীবনযাপন করার কথা শুনলে অনেকে হয়তো আঁতকে উঠবেন। তবে এই ভয় তাড়িয়েই জীবনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্ট্যান। বর্তমানে ২৯ বছর বয়স স্ট্যান লারকিনের। বেশ সুস্থ স্বাভাবিকভাবেই জীবনযাপন করছেন তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে