সন্ধান মিলল দুর্লভ প্রজাতির বাদুড়ের, এক একটি পা থালার মতো বড়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮,   ২৩ রমজান ১৪৪২

সন্ধান মিলল দুর্লভ প্রজাতির বাদুড়ের, এক একটি পা থালার মতো বড়

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩১ ২৩ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১২:৩২ ২৩ এপ্রিল ২০২১

দুর্লভ প্রজাতির এই বাদুড়ের আবাসস্থল ভিয়েতনামে

দুর্লভ প্রজাতির এই বাদুড়ের আবাসস্থল ভিয়েতনামে

নিশাচর প্রাণীগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাদুড়। দিনের বেলায় অন্ধকার স্থানে উলটো হয়ে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। তবে এটি কিন্তু কোনো পাখি নয়। বাদুড় পৃথিবীর একমাত্র উড্ডয়ন ক্ষমতা বিশিষ্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী। পৃথিবীতে প্রায় ১১০০ প্রজাতির বাদুড় রয়েছে। বাদুড়দের প্রজাতিসংখ্যা স্তন্যপায়ী প্রাণীর মোট প্রজাতিসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ । 

সম্প্রতি ভারতে খোঁজ মিলল এক দুর্লভ জাতির বাদুড়ের। এই বাদুড়ের বিশেষত্ব হলো এটির শরীর আকারে ছোট হলেও এর পা’গুলো এক একটি থালার মতো। এই বাদুড় সাধারণত ভিয়েতনামে পাওয়া যায়। তবে এই প্রথম এটার খোঁজ মিলল মেঘালয়ের একটি অভয়ারণ্যে। বাঁশের জঙ্গলে এই প্রাণীটির দেখা মেলে।  

এই প্রজাতির বাদুড়কে ইউডিস্কোপাস ডেন্টিকুলাস বলা হয়। জ্যুলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এক বিশেষজ্ঞ উত্তম সাইকিয়া এবং ইউরোপীয়ান ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কিছু বিজ্ঞানী ভারতে এই দুর্লভ প্রজাতির বাদুড়ের খোঁজ পান। বিজ্ঞানীরা এই বাদুড়ের ডিএনএ পরীক্ষা করে একেবারে অবাক হয়ে গিয়েছেন। 

এই বাদুড়ের বিশেষত্ব হল এর পা’গুলো এক একটা থালার মতো বড় দেখা যায়, এই বাদুড়ের ডিএনএ ভিয়েতনামে পাওয়া একই ধরনের ডিএনের সঙ্গে আশ্চর্য ভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে মেঘালয় থেকে ভিয়েতনামের দূরত্ব প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার। তাহলে প্রশ্নটা হল এই বাদুড় এতদূর এলো কীভাবে? এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মায়ানমারে এই বাদুড়ের অন্যান্য প্রজাতির সন্ধান মেলে। তবে মেঘালয়ে এই বাদুড় আবিষ্কার যথেষ্ট অবাক করা বিষয়। কেননা যদি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কথা ধরা হয়, সেক্ষেত্রে মেঘালয়ের নিকটতম দেশ মায়ানমার বা চীন। যদি সেখান থেকে এই বাদুড় না আসে, তাহলে বলতেই হবে ভারতেই এক নয়া প্রজাতির বাদুড়ের খোঁজ মিলেছে।

ভারতের বাদুড় নিয়ে গবেষণা করছেন, এমন একদল গবেষক গত কয়েক বছর ধরে শুধু মেঘালয় থেকেই তারা ৬৬ ভিন্ন প্রজাতির বাদুড়ের খোঁজ পেয়েছেন। মেঘালয়ে পর্যাপ্ত বন থাকায় এখানে নানান প্রজাতির প্রাণীর বাস রয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে