২৩ এপ্রিল ১৯৭১: বরিশাল, নওগাঁ, দিনাজপুরে পাকসেনা ও মুক্তিবাহিনীর সংঘর্ষ

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

২৩ এপ্রিল ১৯৭১: বরিশাল, নওগাঁ, দিনাজপুরে পাকসেনা ও মুক্তিবাহিনীর সংঘর্ষ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০৯ ২৩ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১১:১৩ ২৩ এপ্রিল ২০২১

মুক্তিবাহিনীরা প্রাণপনে লড়ে যাচ্ছে শত্রুদের বিরুদ্ধে

মুক্তিবাহিনীরা প্রাণপনে লড়ে যাচ্ছে শত্রুদের বিরুদ্ধে

ওয়াল্টার মন্ডেল, এডওয়ার্ড মাস্কি, হিউবার্ট হামফ্রে, বার্চ বে, জর্জ ম্যাকগভার্ন, ফ্রেড হ্যারিস, হ্যারল্ড হিউস, উইলিয়াম প্রক্সমায়ার, টমাস এগ্রেটন ও ক্লিফোর্ড কেস, দশজন মার্কিন সেনেটর এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তান সরকার যতদিন না বাংলাদেশের জন্য আপৎকালীন ত্রাণ কাজের ব্যবস্থা করবে এবং আন্তর্জাতিক রেডক্রসকে সেখানে কাজ করতে দেবে, ততদিন পাকিস্তানকে সাহায্যদাতা পাশ্চাত্য দেশসমূহ ও জাতিসংঘের উচিত তাদের সমস্ত বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দেয়া। 

তৃতীয় বেঙ্গলের যোদ্ধারা ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের কামারপাড়া স্কুলে ক্যাম্প স্থাপন করে। এদিনে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার (বর্তমানে সলঙ্গা থানাধীন) হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া মধ্যপাড়া, পাটধারী, কালিবাড়ী, শিকার মগড়াপাড়া, চড়িয়া শিকার দক্ষিণপাড়া, গোলকপুর ও কাচিয়া গ্রামে বর্বরচিত গণহত্যা চালায় পাক হানাদারবাহিনী। এ হত্যাযজ্ঞে সাতটি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক নিরীহ মানুষ শহিদ হন।

পাকসেনাদের একটি দল মলাদির দিক থেকে এবং অন্য দুটি দল খুলনা ও ফরিদপুর থেকে শেলিং করতে করতে বরিশালের দিকে অগ্রসর হয়। চারটি জেট বিমান বরিশালের ওপর অনবরত বোমা বর্ষণ করে। ছয়টি হেলিকপ্টারযোগে পাকবাহিনী বরিশালের অসংখ্য ছত্রীসেনা নামিয়ে দেয়। প্রচন্ড লড়াই শেষে এভাবেই পাকবাহিনী বরিশাল শহর দখল করে নেয়।

মুক্তিযোদ্ধারা বরিশাল শহরের চার মাইল দূরে লাকুটিয়া জমিদার বাড়িতে তাদের ঘাঁটি স্থানান্তর করে। বরিশাল শহরের কয়েক মাইল উত্তরে জুনাহারে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকসেনাদের মধ্যে প্রচন্ড গোলা বিনিময় হয়। বরিশালের গৌরনদীর উত্তরে কটকস্থলে মুক্তিযোদ্ধারা অভবস্থান নিয়ে প্রতিরোধ ব্যুহ রচনা করে। বিকেলে পাকবাহিনী গোপালগঞ্জের মানিকদাহ ও হরিদাশপুরে প্রবেশ করে। পাকিস্তানের প্রাক্তন বাণিজ্য মন্ত্রী ওয়াহিদুজ্জামান ঠান্ডা মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত স্বাধীনতা-বিরোধীদলের সহায়তায় পাকবাহিনী গোপালগঞ্জ স্টেডিয়াম, ঈদগাহ মাঠ এবং কলেজে ক্যাম্প স্থাপন করে।

 বরিশাল শহরের কয়েক মাইল উত্তরে জুনাহারে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকসেনাদের মধ্যে প্রচন্ড গোলা বিনিময় হয়নওগাঁর কুমরিয়া, জাফরাবাজ, লক্ষণপুর, মোহনপুর, হাপানিয়া, একডালা ও মাধাইমুরী গ্রামে পাকহানাদার বাহিনী আক্রমণ চালায়। পাক বর্বরদের অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকান্ডে গ্রামের পর গ্রাম ভস্মীভূত হয় এবং কুমরিয়া গ্রামের মেরু মন্ডল, জাফরাবাজ গ্রামের আকালু মন্ডল, ফয়েজ মন্ডল, আলী মন্ডল ও মোহনপুর গ্রামের ১১ জন নিরীহ মানুষ শহিদ হন।

নওগাঁ জেলার তিলকপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গড়ের হাটে পাকহানাদার বাহিনী হামলা  চালায়। বর্বরদের এ হামলায় ১৩ জন নিরীহ মানুষ শাহাদাৎ বরণ করেন। মুক্তিবাহিনী করেরহাট থেকে পিছুহটে রামগড়ে চট্টগ্রাম সেক্টরের সদর দফতর স্থাপন করে। পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ খ-অঞ্চল (পূর্ব পাকিস্তান)-কে তিনটি সামরিক সেক্টরে ও ১০টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে। সেক্টর তিনটি হচ্ছে: ঢাকা, কুমিল্লা ও বগুড়া। কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটির মিশন সফল করার উদ্দেশ্যে জেলা ও মহকুমা সদরে শান্তি কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির প্রতিনিধিদের পাঠানোর ঘোষণা দেয়।

রাজশাহীতে আয়েনউদ্দিনের নেতৃত্বে জামাত নেতা আফাজউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ‘শান্তি কমিটি’ গঠিত হয়। ঢাকা পিডিপি-র সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল হান্নান এক বিবৃতিতে জানান, পূর্ব পাকিস্তানের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাবলীর জন্যে আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণরূপে দায়ী। তাদের আসল উদ্দেশ্য আমাদের পবিত্র ইসলামী রাষ্ট্রের অংশকে ছিনিয়ে নিয়ে ভারতের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে