বইয়ের সঙ্গে কপিরাইট দিবস যেভাবে এলো

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

আজ বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস

বইয়ের সঙ্গে কপিরাইট দিবস যেভাবে এলো

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:১৭ ২৩ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১১:১২ ২৩ এপ্রিল ২০২১

আজ বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবসের ইতিহাস। ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবসের ইতিহাস। ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৩ এপ্রিল, বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস। বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবসকে বইয়ের আন্তর্জাতিক দিবসও বলা হয়ে থাকে। বই মানুষের চিন্তাজগতকে বিকশিত করে। মানবমনকে প্রসারিত হতে শেখায় বই। এই বইকে এবং বই লেখকদের মেধা ও মননকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের অভিপ্রায়ে বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হবে বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস। 

বই পড়া, প্রকাশনা এবং কপিরাইট প্রচারণার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংগঠন ইউনেস্কো প্রতি বছর ২৩ এপ্রিলকে বইয়ের আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।

দিবসটির ইতিহাস 

আন্দ্রেস ছিলেন স্পেনের বিখ্যাত লেখক মিগুয়েল দে সার্ভেন্তেজের শিষ্য
১৯৩২ সাল। স্পেনের কাতালোনিয়াত। স্পেনের বই বিক্রেতারা শুধুমাত্র বইয়ের জন্য বছরের একটা বিশেষ দিন রাখার পক্ষে প্রথম দাবি জানান। তবে বইয়ের জন্য বিশেষ একটা দিন রাখার সবচেয়ে গঠনগত ধারণা ও প্রস্তাব দেয়া হয়। আর এই প্রস্তাবটি দেন স্পেনের লেখক ভিসেন্ট ক্লাভেল আন্দ্রেস নামের এই ব্যক্তি। 

তিনি ছিলেন স্পেনের বিখ্যাত লেখক মিগুয়েল দে সার্ভেন্তেজের শিষ্য। সার্ভেন্তেজ তার লেখা উপন্যাস 'ডন কিহোটে' এর জন্য সারা বিশ্বে অমর হয়ে আছেন। ডন কিহোটে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক উপন্যাস। বিশ্ব সাহিত্যে সার্ভেন্তেজের প্রভাবের বিশালতায় অনেকে স্পেনীয় ভাষাকে 'সার্ভেন্তেজের ভাষা' হিসেবে সম্বোধন করেন।

সার্ভেন্তেজ মৃত্যুবরণ করেন ১৬১৬ সালে। শিষ্য আন্দ্রেস নিজের প্রিয় লেখককে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে আন্দ্রেস স্পেনে পালন করা শুরু করেন বিশ্ব বই দিবস। ১৯২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজা আলফনসো ত্রয়োদশ স্পেনজুড়ে স্পেনীয় বই দিবস পালনের জন্য রাজকীয় ফরমান জারি করেন। প্রথমে ৭ অক্টোবরে দিবসটি পালন করা হয়। আর সেই দিন ছিল সার্ভেন্তেজের জন্মদিন। পরবর্তীতে তা স্থানান্তরিত করা হয় ২৩ এপ্রিলে, সার্ভেন্তেজের প্রয়াণদিবসে।

দিবসটি পালন করতে গিয়ে দেখা গেছে এই দিনে সাহিত্যের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারিয়েছিলাম আমরা। উইলিয়াম শেকসপিয়ার। ১৬১৬ সালের একই দিনে মৃত্যুবরণ করেন উইলিয়াম শেকসপিয়ার। সাহিত্যের এই দুই নক্ষত্রের একই সঙ্গে মহাপ্রয়াণ ঘটে এই বিশেষ দিনে। আবার স্পেনে ১৯২৫ সাল থেকে এদিন প্রেমিককে গোলাপ ফুলের বদলে বই উপহার দেন প্রেমিকা। তাই এই দিবসের তাৎপর্য আরো বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিকভাবে পালনের স্বীকৃতি দেয়ার দাবি ওঠে।

উইলিয়াম শেকসপিয়ার

১৯৮২ সালে ইউনেস্কো লন্ডনে আন্তর্জাতিক গ্রন্থ সম্মেলনের আয়োজন করে। পরবর্তী ১০ বছর ‘পড়ুয়া সমাজ’ গঠনের ঘোষণা সেই সম্মেলনে। এরপর ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। তারপর থেকে দিবসটি পালন করতে শুরু করে। সে থেকেই বিশ্বের প্রায় ১০০টির মতো দেশে প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

১৯৯৫ সালে ইউনেস্কোর ঘোষণা ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পর বিশ্ব গ্রন্থ রাজধানী বা বিশ্ব বই রাজধানীর প্রচলন চালু হয়। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শহরকে বছরভিত্তিকভাবে নির্বাচিত করা হয় বইয়ের রাজধানী হিসেবে। ২০০১ সাল থেকে এই ঘোষণার প্রচলন হয়ে আসছে। এই ঘোষণাটি দিয়ে থেকে ইউনেস্কো নিজেই। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বইয়ের রাজধানী হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। গত বছর বইয়ের রাজধানী ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর শারজাহ।

'বিশ্ব বই দিবস' বাংলাদেশেও অনাড়ম্বরভাবে উদযাপিত হয়ে থাকে। তবে বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও লড়াই করে চলেছে। হয়তো সেভাবে পালিত না হলেও এদেশের বই প্রকাশক, লেখক, সাহিত্যিকদের মনে এই দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মনে ধারণ করে থাকবে এবারের বই দিবস।

বিশ্ব বই দিবসের মাধ্যমে ইউনেস্কো সৃজনশীলতা, বৈচিত্র্য এবং জ্ঞানের উপর সকলের অধিকারের বিষয়টিকেই উৎসাহিত করে। সকলের কাছে শিক্ষা ওই বই পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী বইপ্রেমী সব মানুষ, বিশেষ করে লেখক, শিক্ষক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং গণমাধ্যম একটি মঞ্চ তৈরির চেষ্টা করে মূলত, যাতে শিক্ষার উন্নয়ন ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

কপিরাইট আজ বিশ্ব কপিরাইট দিবসও। কপিরাইট মানে হলো মেধাস্বত্ব। মেধা সম্পদের সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষণের নামই হলো কপিরাইট। কপিরাইট দ্বারা মেধাসম্পদের ওপর প্রণেতার নৈতিক ও আর্থিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে ওই মেধাসম্পদ বিভিন্ন পন্থায় পুনরুৎপাদন, বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, লাইসেন্স প্রদান এবং জনসমক্ষে প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে প্রণেতা বা সৃজনশীল ব্যক্তি একচ্ছত্র অধিকার লাভ করেন।

মেধাসম্পদের আইনগত স্বীকৃতি প্রদান, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা নিশ্চিতকরণ এবং এই আধুনিক যুগে পাইরেসি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কপিরাইট সংরক্ষণ, রয়্যালটি আদায় এবং ব্রডকাস্টিং অর্গানাইজেশন থেকে ট্রান্সমিশন এবং রিট্রান্সমিশন সঠিকভাবে নিশ্চিতকরণে অতিগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো প্রতি বছর ২৩ এপ্রিলকে বই দিবসের পাশাপাশি সব দেশে কপিরাইট দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানান। ১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু হয়। কপিরাইট বলতে কোনো কাজের মূল সৃষ্টিকর্তার সেই কাজটির উপর একক, অনন্য অধিকারকে বোঝানো হয়। কপিরাইট সাধারণত একটি সীমিত মেয়াদের জন্য কার্যকর হয়। ওই মেয়াদের পর কাজটি পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্গত হয়ে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ