২১ এপ্রিল ১৯৭১: মওলানা ভাসানী জাতিসংঘের কাছে পাকিস্তানকে থামাতে আবেদন জানান

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৭ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

২১ এপ্রিল ১৯৭১: মওলানা ভাসানী জাতিসংঘের কাছে পাকিস্তানকে থামাতে আবেদন জানান

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪৯ ২১ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১০:৫০ ২১ এপ্রিল ২০২১

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বহির্বিশ্ব ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের কুটনৈতিক মিশনের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। লন্ডনে আইরিশ শ্রমিক দলের বৈদেশিক বিষয়ক কর্মকর্তা ড. কোনার ক্রুইজ বলেন, পূর্ববঙ্গের বিরুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তান যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা সাম্রাজ্যবাদী ও দমনমূলক যুদ্ধের এক দৃষ্টান্ত।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী মুক্তাঞ্চল থেকে জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্ট, গণচীনের প্রেসিডেন্ট মাও সে তুং ও প্রধানমন্ত্রী চৌ-এন লাই, সোভিয়েত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভ, চেয়ারম্যান কোসিগিন ও প্রধানমন্ত্রী পদগর্নি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পম্পিডো, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথ, যুগোশ্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট টিটো, মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত, আরব লীগের মহাসচিব আবদেল খালেক হাসুনা ও আরব ঐক্য সংস্থার মহাসচিব দায়লো টেলির কাছে প্রেরিত পৃথক পৃথক বার্তায় অবিলম্বে বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধ করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের জেনারেল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আবেদন জানান। তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বর্বরতা অবলোকনের জন্য নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল পাঠানো ও বাংলাদেশের জনগণকে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের লড়াইয়ে সমর্থন ও সহযোগিতা দানের জন্যও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আবেদন জানান।

এদিনে জাহানারা ইমাম আমেরিকায় স্নাতক শ্রেণিতে ক্লাস শুরুর অপেক্ষারত তার বড় ছেলে শাফী ইমামকে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের অনুমতি দিয়ে বলেছিলেন, “ঠিক আছে, তোর কথাই মেনে নিলাম। দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে। যা, তুই যুদ্ধে যা।”

শফী ইমামকে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেন জাহানারা ইমাম মেজর ইমামুজ্জামান-এর নেতৃত্বাধীন বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক কোম্পানি সৈন্য লাকসাম ত্যাগ করে কুমিল্লার মিয়ার বাজারে চলে আসে এবং সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরী করে। ২০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল যশোরে পাকবাহিনীর নাভারন ঘাঁটি আক্রমণ করে। এতে ১৫ জন পাকসেনা আহত ও ১০ জন নিহত হয়।

হিলিতে পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ যুদ্ধে পাকবাহিনী হিলি দখল করে নেয়। মুক্তিযোদ্ধাদের কিশোরগঞ্জ প্রতিরক্ষা ঘাঁটির ওপর পাকবাহিনী আক্রমণ চালায়। এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর হাতে কিশোরগঞ্জের পতন হয়। পাকবাহিনীর সৈন্যরা ব্যাপক গোলাবর্ষণ দ্বারা দিনাজপুরের পঞ্চগড় শহরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বহু নিরীহ মানুষকে হতাহত করে এবং পঞ্চগড় বাজারটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়ে এক শ্মশান কায়েম করে।

পাক হানাদার বাহিনী অতি প্রত্যুষে ফরিদপুরের গোয়ালন্দঘাট আক্রমণ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তুমুল সংঘর্ষের পর সকাল নয়টায় গোয়ালন্দঘাট দখল করে। একই সঙ্গে হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে তারা ছত্রীসেনা অবতরণ করে। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বুমেদীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে পাঠানো এক বাণীতে পাকিস্তান বাহিনীর কার্যক্রমের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানান।

ঢাকায় মুসলিম লীগ নেতা খান এ. সবুর সামরিক কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার জন্যে নিজ নিজ এলাকায় ভিজিলেন্স কমিটি গঠনের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, শত্রুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সব ধরনের সাহায্য প্রদান বর্তমানে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে