১৫ এপ্রিল ১৯৭১: এইদিনে ১৩৭৮ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ পালন কাটে নিরব

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৮,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

১৫ এপ্রিল ১৯৭১: এইদিনে ১৩৭৮ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ পালন কাটে নিরব

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫১ ১৫ এপ্রিল ২০২১  

সারাদেশেই পাকবাহিনীর সশস্ত্র অবস্থান

সারাদেশেই পাকবাহিনীর সশস্ত্র অবস্থান

হানাদার কবলিত বাংলার মানুষ ১৯৭১ এইদিনে ১৩৭৮ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ পালন করতে ব্যর্থ হয়। নীরবেই কেটে যায় নববর্ষের দিনটি। নববর্ষের কোন আয়োজন, আচার, অনুষ্ঠান পালন করতে না পারার কষ্টদগ্ধ কবি স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্মী মুস্তফা আনোয়ার লেখেন কবিতা ‘বৈশাখের রুদ্র জামা’৷ কবিতাটি প্রচারিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সরকারের কর্মকান্ড পরিচালনার লক্ষ্যে, দক্ষ প্রশাসনিক জনবলের খোঁজ এবং নবগঠিত সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণের ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেন।

নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মার্শাল এক বার্তায় বলেন, ‘আমরা আশা করি, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অবিলম্বে পূর্ব পাকিস্তানের বর্তমান গৃহযুদ্ধের অবসানের ব্যবস্থা করবেন।’আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা ত্রিদিব রায়- এর আহ্বানে পাকবাহিনী রাঙ্গামাটি শহরে এসে পৌঁছায়। ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদ’-এর সভাপতি রশিদুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক সহযোগী ছাত্রদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে শত্রু (মুক্তিযোদ্ধা) খতমের নির্দেশ দেয়।

১৩৭৮ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ পালন করতে ব্যর্থ হয় বাংলার মানুষ মুক্তিবাহিনীর কয়েকটি দল কাকিনা, পাটেশ্বরী ঘাট, রৌমারী সড়ক এবং ফুলবাড়ি থানায় অবস্থান নেয়। হানাদার পাকবাহিনীর আক্রমণে ভৈরবের পতন হয়। পাকবাহিনী ভৈরব এলাকায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও অমানুষিক নির্যাতন চালায় এবং লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞের এক মর্মস্পশী দৃশ্য রচনা করে।

নগরবাড়ি ঘাটে পাকবাহিনী ফেরি থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের ওপর মর্টার ছুঁড়ে। পাকবাহিনীর এ আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অবস্থান থেকে ১০ কিলোমিটার পিছিয়ে বগুড়া মহাসড়কের ডাববাগান (বর্তমান শহীদ নগর) এলাকায় এসে অবস্থান নেয় এবং শত্রুবাহিনীর জন্য ত্রিমুখী ফাঁদ তৈরী করে।

পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গায় প্রচন্ড বিমান হামলা চালায়। এ হামলায় পাকিস্তানীরা অসংখ্য নিরস্ত্র নিরীহ মানুষ হত্যা করে। এরপর তারা হাজীগঞ্জ বাজারে প্রবেশ করে। অপরদিকে কলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ থেকে ডাকাতিয়া নদীর পারে অবস্থান নেয়।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১০টি ট্রাক ও ৮টি জিপে করে গুলি করতে করতে ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে। এ অবস্থায় আতঙ্কে ঠাকুরগাঁওবাসী শহর ছাড়তে শুরু করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই শহর জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। তিতাস নদীর পূর্ব পাড়ে শাহবাজপুরের কাছে মুক্তিযোদ্ধারা একটি প্রতিরক্ষা ব্যুহ রচনা করে। বিকালে পাকবাহিনীর হাতে ঝিনাইদহের পতন ঘটে।

নৌ পথে মুক্তিবাহিনী শত্রুদের পরাস্ত করতে থাকে লে. মাহফুজ খাগড়াছড়িতে মেজর জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সুবেদার খায়রুজ্জামান, করিম, ইঞ্জিনিয়ার ইসহাক, ফারুক আহম্মদ, শওকত আলী প্রমুখকে নিয়ে রাঙামাটি বুগিঘাট বাজারে আসেন ও অবস্থান নেন। এখান থেকে তারা পাকবাহিনীকে অতর্কিতে আক্রমণ করে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন। চট্টগ্রামের রাজাঘাট এলাকা পাকবাহিনীর দখলে চলে যায়।

মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কুমিল্লার গঙ্গাসাগর পুনরুদ্ধার করে। কয়েকদিন ধরে প্রতিরোধ যুদ্ধের পর মুক্তিবাহিনী রাজশাহী শহরের অবস্থান ছেড়ে দেয়। ঢাকায় সামরিক কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে কর ও খাজনা পরিশোধের জন্য নির্দেশ দেয়।

করাচীতে পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, সরকার ন্যায়সঙ্গত কারণেই আওয়ামী লীগকে বেআইনী ঘোষণা করেছে।

হানাদার বাহিনীর দালাল সংগঠন ‘নাগরিক শান্তি কমিটি’-র নাম পরিবর্তন করে ‘পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি’ রাখা হয়। দৈনিক সংগ্রামে ‘জনতা পাকিস্তান চায়’ শিরোনামের উপ-সম্পাদকীয়তে শান্তিকমিটির তৎপরতাকে দেশবাসীর চাহিদা হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশবাসী আজ শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ‘পূর্ব-পাকিস্তানের জনতা তথাকথিত বাংলাদেশ চায় না, চায় পাকিস্তান। উপ-সম্পাদকীয়তে বলা হয়,  ‘দেরিতে হলেও সঠিক কাজটি করেছে।

অবশেষে যেইমাত্র পাকিস্তান দিবসে জয়বাংলা পতাকা উত্তোলিত হলো আর পোড়ানো হলো পাকিস্তানি পতাকা ও পদদলিত করা হলো পাকিস্তানের জনক কায়েদে আজমের ছবি, অমনি তাদের সম্বিত ফিরে এলো …। ফলে দেশের সেনা বাহিনী সহজেই গোটা প্রদেশ আয়ত্তে এনে ভারতীয় ও অনুপ্রবেশকারীদের বন্দি, ধ্বংস ও বিতাড়িত করতে সমর্থ হলো।’

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে