বেগুনি রং কীভাবে নারী দিবসের অংশ হলো

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ২ ১৪২৮,   ০২ রমজান ১৪৪২

বেগুনি রং কীভাবে নারী দিবসের অংশ হলো

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১২ ৮ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৮:২০ ৮ মার্চ ২০২১

নারী দিবসের সঙ্গে বেগুনি রং মিশে আছে ওতপ্রোতভাবে

নারী দিবসের সঙ্গে বেগুনি রং মিশে আছে ওতপ্রোতভাবে

বেগুনি শাড়ি কিংবা কামিজ। নারী দিবসের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই রং। উৎসবপ্রিয় বাঙালি রঙ নিয়ে খেলা করে যে কোনো আনন্দের দিনেই। দেখা যায় প্রায় প্রতিটা উৎসবেই কোনো না কোনো নির্দিষ্ট রঙকে প্রাধান্য দেয়া হয়। ঠিক তেমনি নারী দিবসেও বেগুনি রঙকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তবে নারী দিবসে কেন এই রংটাই বেশি প্রাধান্য পায়, তা জানেন কি? 

নারী দিবসের আবির্ভাব হয়েছে বৈষম্য থেকে। আর বৈষম্য নিরসনে ছিল সংগ্রাম। সংগ্রামের রং লাল। তাহলে বেগুনি কেন নারী দিবসের রং? ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এই সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ। 

নারী দিবসে বেগুনি রং ব্যবহার হয়ে আসছে ২০১৮ সাল থেকে সিদ্ধান্ত হয় ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে শুরু করে। এরপর জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করে হয়। 

৮ মার্চ যখন বিশ্বজুড়ে নারী দিবস পালনের সঙ্গে বেগুনি রংটার ওতপ্রোত সম্পর্কের পেছনে রয়েছে এক ইতিহাস। এটি কিন্তু শুরু থেকেই ছিল না। ২০১৮ সাল থেকে বেগুনি যুক্ত হয়েছে নারী দিবসের সঙ্গে। বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত রং নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্যানটোন। রঙের মিশ্রণ করা এবং রং মেলানোর মেশিন তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানটি সুপরিচিত। ২০১৮ সালে প্যানটোন বেগুনিকে বর্ষসেরা রঙের খেতাব দেয়। এই বেগুনি অবশ্য আমাদের চোখে দেখা বেগুনি রং নয়। এই বেগুনি হচ্ছে অতিবেগুনি রশ্মি। 

জার্মান রাজনীতিবিদ ক্লারা এই দিনটিকে নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যদিও এটি চোখে দেখা যায় না, তারপরও মহাকাশের অজানার অস্তিত্ব বহনকারী রশ্মিকে সম্মান করতে বেগুনিকে বর্ষসেরা রঙের খেতাব দেয়া হয়। প্যানটোনের ব্যাখ্যায়, বেগুনি মানে মহাকাশের মতো অসীম এবং তা থেকে নতুন কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা। প্যানটোনের দেয়া এই ধারণাই লুফে নেয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্‌যাপন কর্তৃপক্ষ।

বেগুনি ঠিক নারীর মতো, স্বাতন্ত্র্য, কৌতূহল ও দূরদর্শী চিন্তাভাবনার। অতিবেগুনি রশ্মিকে যেমন জানার অনেক বাকি আছে, নারীর সম্ভাবনাকেও-এমনই মত নারীর সমতা আদায়ে সচেষ্ট সব মানুষের। নারী অধিকারকর্মীরা মনে করেন, নারী যদি তার স্বাতন্ত্র্য দিয়ে সামনে এগিয়ে আসতে পারে, তবে পৃথিবীও পাবে নতুন কিছু। এখান থেকেই বেগুনি নারী দিবসের সঙ্গে মিলেমিশে যায়। তবে নীল ও লালের মিশ্রণের এই রঙের ব্যাপকতা আরও বেশি। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা কাজ করেছে, তারা বেগুনিকে আরও বহুবার ব্যবহৃত করেছে সমানাধিকারের প্রতীক হিসেবে।

ক্লারা জেটকিনবিংশ শতকের শুরুতে ব্রিটেনের নারীরা যখন নিজেদের ভোটাধিকার আদায়ের জন্য পথে নেমেছিলেন, তারাও বেগুনি রংকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। বেগুনির সঙ্গে তারা সাদা ও সবুজকে ব্যবহার করতেন নিজেদের অধিকারের কথা তুলে ধরতে। তাঁদের মতে, বেগুনি আভিজাত্যের প্রতীক, সাদা শুদ্ধতার এবং সবুজ আশার।

দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নারীদের অধিকার আদায়ের যুদ্ধ শুধু অভিজাত নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর আমেরিকান লেখক অ্যালিস ওয়ার্কার আফ্রিকান আমেরিকান নারীদের বৈষম্য নিয়ে একটি বই লেখেন, নাম ‘দ্য কালার পার্পেল’ (বেগুনি রংটি) বইটির জন্য অ্যালিস প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে পুলিৎজার পুরস্কার পান। বেগুনি জড়িয়ে আছে নারীর বাধা পেরিয়ে এগোনোর পথে।

২০২১ সালের নারী দিবসে গুগলের ডুডলে আছে #চুজ টু চেঞ্জ হ্যাশট্যাগ গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালেও আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হচ্ছে বেগুনি রঙে। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’। আরও একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট ইন্টারন্যাশনাল ওমেনস ডে। তাদের প্রতিপাদ্য, চুজ টু চেঞ্জ বা বদল চাই। ওয়েবসাইটই নারী-পুরুষ সবাইকে এক হাত উঁচু করে ছবি তুলে #চুজ টু চেঞ্জ হ্যাশট্যাগ বৈষম্য নিরসনের চেষ্টার আহ্বান জানিয়েছে। আশা করা যায় পৃথিবী থেকে একদিন মুছে যাবে এই নারী-পুরুষের বৈষম্য। নারী পাবে তার যোগ্যতার স্বীকৃতি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে