পুরো দেশই যেন ‘রেসকোর্স ময়দান’

ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮,   ০৪ রমজান ১৪৪২

পুরো দেশই যেন ‘রেসকোর্স ময়দান’

ফিচার প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৮ ৭ মার্চ ২০২১  

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার হচ্ছে মাইকে। ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার হচ্ছে মাইকে। ফাইল ছবি

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’—পাড়া-মহল্লায়, অলি-গলিতে ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার হচ্ছে গতকাল থেকেই। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতির পিতার বজ্রকণ্ঠ আরও উচ্চস্বরে সবার কানে ভাসছে। যেন পুরো দেশই পরিণত হলো সেদিনের রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)।

প্রতিবছর এ দিনে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনেই ঘুম ভাঙে সবার। তেমনই একজন মকবুল আহসান। তিনি থাকেন রাজধানীর আরামবাগে। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এ কর্মকর্তার মতে, এ ভাষণ শুনলেই রক্ত গরম হয়ে যায়; গায়ের লোম খাড়া হয়ে ওঠে। ভাষণটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে চোখের সামনে ভেসে ওঠে রেসকোর্স ময়দানের সেদিনকার ভিডিওচিত্র।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকো।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু একটা গেরিলা মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ‘মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা, জয় বাংলা।’

৭ মার্চ এসব মাইকে ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ছবি: সংগৃহীত

‘১৮ মিনিটের এই ভাষণে সবদিকই উঠে এসেছিল। এই একটি ভাষণের মাধ্যমে তিনি একটি জাতিকে সশস্ত্র বাঙালি জাতিতে রূপান্তর করেছিলেন। স্বাধীনতার বীজ তিনি বপন করেছিলেন। এ ভাষণের এতটাই শক্তি, শুনলে যে কারো শরীর শিওরে ওঠে। ইচ্ছে করে মুক্তিযুক্ত সম্পর্ক জানতে।’—কথাগুলো বলেন নটরডেম কলেজের ছাত্র মুমতাহিন হাবিব। তার মতে, এ ভাষণ বাঙালির আজন্ম সনদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তাসনিয়া হক ভাষণটি কতবার শুনেছেন, তার কোনো ইয়াত্তা নেই। তিনি বলেন, ‘যতবার শুনি, ততবারই আমি শিহরিত হই, অনুপ্রাণিত হই, বারবার আমি ৭ মার্চের ভাষণ থেকে শিখি। এখনও যতবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাই, আমি অনুভব করার চেষ্টা করি, সেদিনের ৭ মার্চের পরিস্থিতি।’

বঙ্গবন্ধু সেই ভাষণে আহ্বান জানালেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।’ আর জনতার কণ্ঠে তখন উচ্চারিত হচ্ছিল শ্লোগান, ‘জাগো জাগো- বাঙালি জাগো’, ‘পাঞ্জাব না বাংলা- বাংলা বাংলা’, ‘তোমার আমার ঠিকানা- পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘তোমার নেতা আমার নেতা- শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো- বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার  দেশ আমার দেশ- বাংলাদেশ’। সেই ভাষণের সময় সৃষ্ট কিছু স্লোগান এখনও মানুষের মুখে মুখে।

এ ভাষণ যত বেশি বাজানো হয়, ততই উজ্জীবিত হয় তরুণ প্রজন্ম। সবাই বার বার জানতে পারে বঙ্গবন্ধু শুধু জনগণের ভালোবাসাকে পুঁজি করে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের জনগণের প্রতি। তাই তো বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মাইকে ভাষণটি যেকোনো দিনই প্রচার করেন।

বাংলা একাডেমির সভাপতি শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধু ’৭১-এর ৭ মার্চ যে ভাষণ দিয়েছিলেন ইতিহাসে তার তুলনা খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনও মনে হয়, বাঙালির হাজার বছরের দুঃখ, বেদনা, বঞ্চনা এবং ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে থাকার ইতিহাস, কৃষক, কৈবর্ত, উপজাতিদের বিদ্রোহ প্রভৃতির বারুদঠাসা উপাদানে তার সচেতন এবং অবচেতন মনে এই ভাষণটি তৈরি হয়ে প্রকাশের জন্য উন্মুখ হয়েছিল। তাই ভাষণটি বেশি বেশি প্রচার করা উচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে