আয়ু বৃদ্ধিতে কার্যকরী এই পাখির মাংস, রাজ পরিবারের জন্যই যা শুধু বৈধ

ঢাকা, রোববার   ১৮ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৬ ১৪২৮,   ০৫ রমজান ১৪৪২

আয়ু বৃদ্ধিতে কার্যকরী এই পাখির মাংস, রাজ পরিবারের জন্যই যা শুধু বৈধ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪১ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১১:৫৩ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আয়ু বৃদ্ধিতে কার্যকরী এই পাখির মাংস, রাজ পরিবারের জন্যই যা শুধু বৈধ

আয়ু বৃদ্ধিতে কার্যকরী এই পাখির মাংস, রাজ পরিবারের জন্যই যা শুধু বৈধ

প্রতি বছর 'হুবারা বাস্টার্ড' নামে বিশেষ এক ধরনের পাখির জন্য হন্যে হয়ে পাকিস্তান ছুটে যান আরব বাদশাহ-যুবরাজরা। বলতে গেলে পাকিস্তানের পরিযায়ী এই পাখিটির জন্য পাগল প্রায় আরব রাজ পরিবারের সদস্যরা। এই পাখি শিকার  করতে গিয়ে তারা তোয়াক্কা করেন না নিরাপত্তা ঝুঁকি বা  কোটি কোটি টাকা খরচের ব্যাপারেও। এমনকি এই মহামারি  পরিস্থিতিতেও থেমে ছিল না তাদের গোপন এই শিকার অভিযান। 

কিন্তু কী আছে এই পাখিতে? কেন এই পাখি শিকারের জন্য প্রতিবছর পাকিস্তান ছুটে যান আরব শেখরা? প্রতি বছর শীতের সময় 'হুবারা বাস্টার্ড' পাখি শিকারে বেলুচিস্তানের জনমানবহীন মরুভূমি এলাকায় দেখা মেলে আরব শেখদের। বিলাসবহুল এসইউভি গাড়ির বহর নিয়ে দাপিয়ে বেড়ান তারা। যাত্রীদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে 'হুবারা বাস্টার্ড' অতিথি পাখি শিকার। ধনী আরবদের কাছে শিকার অনেকটা নেশার মতো। শিকারের জন্য প্রশিক্ষিত বাজপাখির বিশাল বহরও আছে অনেকের।

হুবারা বাস্টার্ড উড়ে বেড়ায় হুবারা বাস্টার্ডদের মূলত মঙ্গোলিয়া ও তার প্রতিবেশী অন্যান্য দেশে। কিন্তু প্রতি শীতে পাকিস্তানে পাড়ি জমায় তারা, থাকে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আর আরব শেখদের বিশ্বাস এই পাখির মাংস আয়ু  ও যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই যতো ঝুঁকি আর খরচই হোক পাখিটি শিকারে মরিয়া থাকে   আরব ধনীরা। এই শিকারে  আগ্রহীদের তালিকায় সবার উপরে থাকে সৌদি, কাতার এবং আরব আমিরাতের রাজ পরিবারের সদস্যরা। বিলুপ্ত প্রায় বলে পাকিস্তানের হুবারা বাস্টার্ড শিকার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

কিন্তু আরব শেখদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রতি বছর বিশেষ বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজ পরিবার থেকে ২৫ থেকে ৩৫ জনকে দেয়া হয় শিকারের লাইসেন্স। প্রতিটি  লাইসেন্স বাবদ পাকিস্তান সরকার প্রায় এক লাখ ডলার করে। টার্কি কিংবা বড় আকারের  মুরগির মতো দেখতে এই পাখি জনবসতি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে সাধারণত এই পাখি অন্য সাধারণ পাখিদের মতো দল বেঁধে না থেকে একা থাকতে পছন্দ করে।

হুবারা বাস্টার্ড শিকার করলেন আরবের একব্যক্তি এছাড়াও ধূসর বর্ণের হওয়ায় মিশে থাকে বালুর সঙ্গে। তাই শিকারিদের পক্ষে তাদের খুঁজে বের করা কঠিন। তবে একটি হুবারা বাস্টার্ড পাখি পেতে দিনভর হাজার কিলোমিটার ছুটতেও আপত্তি নেই আরব শেখদের। পায়ের ছাপ অনুসরণ করে পিছু নিয়ে  অবস্থান নিশ্চিত হলে শিকারের চূড়ান্ত ধাপটি সম্পন্ন করে প্রশিক্ষিত বাজপাখি। মানুষের চোখ এড়াতে পারলেও বাজের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থেকে রেহাই নেই। দীর্ঘ চার দশক ধরে অতি গোপনীয়তার সঙ্গে হুবারা বাস্টার্ড শিকার করে আসছেন মধ্যপ্রাচ্যের শেখরা।

একজন শেখ ২০১৫ সালে হুবারা বাস্টার্ড শিকার করে নিয়ে আসেন এমনকি এবার মহামারীর মধ্যেও বিরত ছিলেন না। এবছর লাইসেন্স নিয়েছিলেন খোদ সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানও। এছাড়াও নিজস্ব বিমানে ১৩ সঙ্গী নিয়ে বেলুচিস্তানে ছিলেন সৌদি প্রিন্স তাবুকের গভর্নর প্রিন্স ফৌদ বিন সুলতান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদও। হুবারা বাস্টার্ড শিকারের জন্য আগেই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল তার ৪০টি প্রশিক্ষিত বাজপাখি। তবে সফর আর শিকার সবই হয়েছে কঠোর গোপনীয়তায়।ধনীদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থায় হুবারা বাস্টার্ড শিকারের অনুমতি নিয়ে আপত্তি আছে নানা মহলে যে কারণে শিকারে শর্ত দিয়ে থাকে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একসঙ্গে অনেকগুলো হুবারা বাস্টার্ড ঘুরে বেড়ায় প্রতিটি লাইসেন্সের আওতায় ১০ দিন শিকারের সুযোগ থাকবে। এই সময়টাতে অনুমতি রয়েছে সর্বোচ্চ ১০০টি হুবারা বাস্টার্ড মারার। কিন্তু অনেক আরব শেখরা মানেন না এই বিধি-নিষেধ।  ২০১৪ সালে এক সপ্তাহে শিকার করেছিল দুই হাজারেরও বেশি পাখি। পাখি প্রেমীদের প্রবল আপত্তি আর অতিথি পাখির সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকার পরও, পাকিস্তান কেন বা কোনো গোপন প্রাপ্তির আশায় প্রতি বছর আরব শেখদের এই বিশেষ অনুমতি দেয় তা কেবলই একটি রহস্য।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ