ভালো কাজের বিনিময়ে মিলছে সুস্বাদু খাবার 

ঢাকা, রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৮ ১৪২৭,   ২৭ শা'বান ১৪৪২

ভালো কাজের বিনিময়ে মিলছে সুস্বাদু খাবার 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২০ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:৩৫ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ছবি: ভালো কাজের হোটেল

ছবি: ভালো কাজের হোটেল

কাজের বিনিময়ে খাদ্যের কথা আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু ভালো কাজের বদলে খাবার পাওয়া, অর্থাৎ আপনি যদি কোনো ভালো কাজ করেন তার বিনিময়ে পাবেন খাবার। শুনতে অবাক লাগলেও কথাটা সত্যি। আর এমনই একটি ঘটনা ঘটে চলেছে।

২০০৯ সালে এমনই কিছু ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল একদল তরুণকে, সেখান থেকেই তারা ভাবনা শুরু করেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, সেই ভাবনা থেকেই তাদের পথ চলা শুরু হয়। আর ২০১৯ সালে তাদের সেই স্বপ্ন সফল হয়। মানুষ যাতে আরো বেশি করে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হতে পারে সেটা মানুষকে বোঝাতে, ভালো কাজের জন্য মানুষকে প্রেরণা দিতেই একদল তরুণ শুরু করে এক অভিনব পদ্ধতি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মানুষরা গরিব দুঃখীদের খাবার দেন ভালো কাজ করলে বিনামূল্যে পেট ভরা খাবার পাওয়া যাবে। ঠিক এমনই একটি উদ্যোগ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কামালপুর অঞ্চলের। এই উদ্যোগটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ভালো কাজের হোটেল’। উদ্যোক্তা ‘ইউথ ফর বাংলাদেশ’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লক্ষ্য মানুষকে ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহ দেন। অসহায় হতদরিদ্র মানুষ‌ও যে ভালো কাজ করতে পারে সেই বিশ্বাস তাদের মধ্যে তৈরি করা এবং ভালো কাজ করার জন্য এই মানুষগুলোর মধ্যে বীজ মন্ত্র বপন করে দেয়া।

এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আরিফুর রহমানের মতে, মানুষকে যদি ভালো কাজ করার দিকে উদ্বুদ্ধ করা যায় এবং প্রত্যেকেই যদি ভালো কাজ করার আদর্শবোধকে মনের মধ্যে বহন করে নিয়ে এগিয়ে চলে, তবে আগামী দিনে এই পৃথিবীটাই অন্যরকম হয়ে যাবে। ভালো কাজের হোটেলে হতদরিদ্র মানুষেরা এসে ভালো কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়ার বিনিময়ে বিনামূল্যে খাবারের প্যাকেট পান। তবে কেউ যদি একদিন ভালো কাজ করার কোনো উদাহরণ দিতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা তাকে ভালো কাজ করার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার পরামর্শ দেন, তারপর বিনামূল্যে খাবারের প্যাকেট তুলে দেন।

এখানে খেতে টাকা লাগেনা শুধু ভালো কাজের বিনামূল্যে খাবারের প্যাকেট তুলে দেন  বোঝাই যাচ্ছে কোনো দরিদ্র মানুষই কখনোই ভালো কাজের হোটেল থেকে অভুক্ত অবস্থায় ফিরে যান না। প্রথমদিকে সপ্তাহে একদিন করে দরিদ্র মানুষকে ভালো কাজের হোটেলে খাওয়ানো হলেও ২০২০ সালের ২৯ আগস্ট মাস থেকে সপ্তাহে ৫ দিন দুপুরবেলায় ১:৩০ থেকে ৩.০০ টে পর্যন্ত ভালো কাজের হোটেলে খাবার পাওয়া যায়। শনিবার দুপুরে খাবার পাওয়া না গেলেও সন্ধ্যেবেলায় ৭.০০ – ৯:৩০ পর্যন্ত ভালো কাজের বিনিময়ে দরিদ্র মানুষেরা খাবারের প্যাকেট সংগ্রহ করেন। শুক্রবার দুপুর বেলায় ঢাকার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে এই সংগঠনের সদস্যরা নামাজ পড়তে আসা মানুষকে খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। তাই ওই দিন দুপুর বেলা ভালো কাজের হোটেল বন্ধ থাকে।

ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ নামে ফেসবুকে একটি পেজ খোলেন ২০১২ সালে। আর এই পেজ খোলার মধ্য দিয়ে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি পথচলার শুরু করে। এরপর থেকে তারা দেশের নানা অঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সাহায্য নিয়ে ছুটে গিয়েছেন। তবে ভালো কাজ করার জন্য তাদের এই স্পৃহা কীভাবে আসলো সে বিষয়ে আরিফুর রহমান বলেছেন, '২০০৯ সালে এক অসহায় পিতাকে কয়েকজন বন্ধু মিলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে সাহায্য করেন তারা। ওই ব্যক্তির মেয়ের চিকিৎসার খরচের  টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে তিনি হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন।

তারা দেশের নানা অঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সাহায্য নিয়ে ছুটে যান তাকে এই সাহায্যটুকু করতে পারার পর  তাদের মনটা অদ্ভুত রকম ভালো হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকেই তারা ভালো কাজ করার তাগিদে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে শুরু করেন। ভালো কাজের হোটেল চালানোর জন্য এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি ‘ডেইলি টেন’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। যারা সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক তারা প্রতিদিন সংগঠনের তহবিলে ১০ টাকা করে জমা দেন। এই টাকা দিয়েই দরিদ্র মানুষকে ভালো কাজ করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়। তাদের হাতে প্রতিদিন এক বেলার জন্য পেট ভরা খাবার তুলে দেয়ার প্রকল্প চালিয়ে আসছে ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। 

তবে তারা বাইরের মানুষের কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ করেন না। কারণ এই সংগঠনের সদস্যরা মনে করেন তারা কোনো সাহায্য করছেন না। বরং নিজেরা ভালো কাজ করার মধ্য দিয়ে মানুষের মনে ভালো কাজ করার প্রতি স্পৃহা তৈরি করে দিচ্ছেন। ভালো কাজ করার অনুভূতি থেকে নিজেরা যেন বঞ্চিত না হন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ