বিরল কার্ডিনারের দেখা, যার ‘অর্ধেক পুরুষ, অর্ধেক নারী’

ঢাকা, সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১,   চৈত্র ২৯ ১৪২৭,   ২৮ শা'বান ১৪৪২

বিরল কার্ডিনারের দেখা, যার ‘অর্ধেক পুরুষ, অর্ধেক নারী’

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৬ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:৫১ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বিরল কার্ডিনার। ছবি: জেমি হিল

বিরল কার্ডিনার। ছবি: জেমি হিল

পাখিটির নাম নর্দার্ন কার্ডিনার। এ পাখির প্রেমে পড়তে প্রাণীপ্রেমী হওয়া লাগে না। প্রথম দেখাতেই নর্দার্ন কার্ডিনারের প্রেমে পড়ে যায় যেকেউ। এর মূল কারণ হচ্ছে রঙ! পুরুষ কার্ডিনালগুলো সাধারণত উজ্জ্বল লাল  এবং নারীরা ফ্যাকাসে বাদামি রঙের হয়ে থাকে।

সম্প্রতি পাখি বিশেষজ্ঞ জেমি হিল এমন একটি নর্দার্ন কার্ডিনারের ছবি ধারণ করেন, যা দেখে বিস্মিত অন্য প্রাণীপ্রেমিরাও। এর আাগে অসংখ্যবার এই পাখির পুরুষ বা নারী প্রজাতির ছবি আলোকচিত্রীদের ফ্রেমবন্দি হলেও, এবার এর মিশ্র লিঙ্গের ছবি ধরা পড়েছে।

৬৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত পাখিবিদ জেমি হিল বলেন, এমন মুহূর্ত সারাজীবনে শুধু একবার পাওয়া যায়, লাখে একটা ঘটনা। আমার এক বন্ধু জানান যে পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ওয়ারেন কাউন্টিতে একটি অন্যরকম পাখি দেখেছেন। তখনই আমি ছুটে যাই সেখানে। তারপরই ঘটলো এ ঘটনা।

জেমি হিল প্রথমে ভেবেছিলেন পাখিটি হয়তো লুইসিস্টিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। জেনে রাখা ভালো, লুইসিসস্টিকে আক্রান্ত পাখির পালকগুলো রঙ হারিয়ে ফেলে এবং বর্ণহীন হয়ে যায়। এই পাখিটিও হয়তো রঙ হারাতে শুরু করেছে।

‘বুকটা পাঁচ ঘণ্টা কাঁপছিল’

ওয়ারেন কাউন্টিতে যাওয়ার পর এক ঘণ্টার মধ্যেই বিরল সেই পাখিকে দেখতে পান জেমি হিল। তখনই ক্যামেরা সেট করে একের পর এক ছবি তুলতে থাকেন। ‘পারফেক্ট’ ছবিটি তোলার পর স্থির থাকতে পারেননি এ পাখিবিদ। তিনি বলেন, ‘ছবিগুলো তোলার পর আমার বুকটা পাঁচ ঘণ্টা ধরে ধক ধক করে কাঁপছিল।’

নর্দার্ন কার্ডিনার। ছবি: সংগৃহীত

‘আমি প্রায় দুই দশক ধরে আইভরি বিল্ড কাঠঠোকরা পাখি খুঁজেছি, যা দীর্ঘ সময় ধরে বিলুপ্ত। অথচ এই বিরল পাখিটির ছবি পেলাম আমার পরিচিত উঠানে। যতক্ষণ পর্যন্ত না বাসায় এসে ছবিগুলো প্রসেস করতে পারিনি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি স্বাভাবিক হতে পারিনি।’

এটা কি সত্যিই অর্ধেক পুরুষ আর অর্ধেক নারী?

একটি পাখির অর্ধেক নারী আর অর্ধেক পুরুষ—এমন ঘটনা খুবই বিরল। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অনুসারে, ২০১৯ সালে এক দম্পতি এরকম একটি পাখির দেখা পেয়েছিলেন। জেমি হিল ধারণা করছেন যে তিনি যে কার্ডিনাল দেখেছেন তা একই পাখি হতে পারে।

ওয়েস্টার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রায়ান পিয়ার নর্দার্ন কার্ডিনাল পাখি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি জানান, কিছু প্রজাতির মধ্যে এমনটা থাকলেও সেটা ধরা নাও পড়তে পারে। কোষ বিভাজনের সময় ত্রুটির কারণেই একটি পাখির বাইলেটারাল গাইনানড্রোমর্ফ হতে পারে। একটি ডিম এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত অঙ্গ আলাদা আলাদা শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়। এর ফলে জন্ম নেয়া পাখিটি নারী ও পুরুষের দ্বৈত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়।

পাখি বিশেষজ্ঞ জেমি হিল। ছবি: সংগৃহীত

এই গাইনানড্রোমর্ফ নর্দার্ন কার্ডিনাল পাখিটি ওই অঞ্চলে এবারই প্রথম দেখা গেছে তা নয়। অধ্যাপক পিয়ার উল্লেখ করেছেন যে, উত্তর আমেরিকায় নর্দার্ন কার্ডিনালগুলো খুব সাধারণ ফিডার পাখি। অর্থাৎ মানুষের উঠোনে রাখা পাখিদের খাবারের ঘর বা বার্ড ফিডারে এদের দেখা যায়।

কার্ডিনালের শুধু গায়ের রঙই নয়, কণ্ঠও বেশ মিষ্টি। আমেরিকার অনেক পূর্ব রাজ্যের অঞ্চলটিকে এর প্রাকৃতিক আবাস হিসাবে বিবেচনা করা হয়। মেক্সিকো, কানাডা এবং গুয়াতেমালায়ও পাখিগুলো দেখা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে