এক টাকার ডাক্তার 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭,   ১৭ রজব ১৪৪২

এক টাকার ডাক্তার 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪ ২৮ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৪:৪৪ ২৮ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি: ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়

আজকের দিনে এক টাকার মূল্য ঠিক কতোটা? এই মূল্য বৃদ্ধির বাজারে ঠিক কি পাওয়া যায় এক টাকার বিনিময়ে? বাচ্চাদের একটা লজেন্স কিনতে গেলেও বোধ হয় এক টাকায় পাওয়া যায় না। যদি বলি, এমন একজন ডাক্তার আছেন, পকেটে মাত্র এক টাকা থাকলে আপনি এই এমবিবিএস, এফ এফপি ও ডিসিপি অভিজ্ঞ ডাক্তারের সুচিকিৎসা পেতে পারেন, বিশ্বাস করতে একটু দ্বিধাই হচ্ছে, তাই না? তাহলে চলুন আজ আপনাদের এমন এক বাঙালি ডাক্তারের আশ্চর্য গল্প জানাবো। 

এমবিবিএস পাশ করে মানুষটি তখন বিদেশে। চাকরির পাশাপাশি নিচ্ছেন উচ্চ শিক্ষার পাঠ। হঠাৎই একদিন বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে ফিরতে হলো গ্রামে। গ্রামে ফিরে তিনি যখন গ্রামের মানুষগুলোর দুর্দশা দেখলেন, চোখের সামনে তাদের সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে আরো অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখলেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন ইংল্যান্ডের হাসপাতালে ১৬ হাজার পাউন্ডে চাকরি ছেড়ে পাকাপাকিভাবে গ্রামে ফেরার।

ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় রোগী দেখছেন গত ৫৭ বছর ধরে তিনি রোগীদেখে চলেছেন এক নাগাড়ে,রাঢ় বাংলার মাটিতে। তবে লোকে তাকে ডাক্তার কেন বলে? যদি তাকে এই প্রশ্ন করা হয়,  উত্তরে তিনি বিনীতভাবে হেসে বলেন, প্রথম প্রথম আমি সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে রোগী দেখতাম। তবে একদিন পথ চলতে চলতে দেখতে পেলাম, কয়েকজন হতদরিদ্র মানুষ তপ্ত রোদে গামছা পেতে  বসে মুড়ি খাচ্ছেন। ওই মানুষগুলোকে দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারি নি।

সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যতদিন বেঁচে থাকবো, এই মানুষগুলো থেকে পারিশ্রমিক হিসেবে এক টাকার বেশি কখনো চাইব না। এই শুনে যদি কেউ তাকে বলে ফ্রি তেও তো দেখতে পারেন তাহলে। ওই এক টাকাই বা নেয়ার কি দরকার? উত্তরে তিনি মৃদু হেসে জবাব দেন, ওরা  গরীব হতে পারে, কিন্তু ফকির নয়। চিকিৎসার বিনিময়ে ওরা এক টাকা দিচ্ছে। সেটাই আমার পারিশ্রমিক।

পদ্মশ্রী পেয়েছেন ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়ঝকঝকে ক্যারিয়ার আর চকচকে বেঁচে থাকাকে এক পাশে সরিয়ে রেখে, আজীবন তিনি এক টাকায় রোগী দেখে গেছেন পশ্চিমবঙ্গের বোলপুর শান্তি নিকেতনের মাটিতে। আশেপাশের মানুষ উনাকে সৃষ্টিকর্তার পাঠানো দূত বলে গণ্য করে। মানুষটার নাম ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বাড়ি বোলপুরের হরগৌরী তলায়।  ডা. সুশোভন বাবুর নামের সঙ্গে এমবিবিএস, এমএফপিএ, ডিসিপির ডিগ্রির পাশাপাশি স্বর্ণ পদকের মতো একের পর সাফল্য জ্বল জ্বল করছে। 

রাষ্ট্রপতি জ্ঞানী জৈল সিং  থেকে শুরু করে প্রতিভা পাটিল, প্রণব মুখোপাধ্যায়, রামনাথ কোবিন্দ হয়ে  প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যভার সামলেছেন তিনি। নাম রয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও। ২০২০ সালেই পেয়েছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার। পদ্মশ্রী পাওয়ার পর উনার প্রতিক্রিয়া কি ছিলো জানেন?

ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়গরীবদের ত্রাতা এই ডাক্তার বলেছিলেন, পুরস্কার পেয়ে আমি খুশি ঠিকই, কিন্তু মানুষের পাশে থাকা প্রতিটি সুনাগরিকেরই দায়িত্ব। এই জগতে মানুষ কষ্ট পায় খারাপ লোকেদের হিংসের জন্য নয়, মানুষ কষ্ট পায় কারণ ভালো লোকেরা এগিয়ে আসেন না, নিরব থাকেন। তাই মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন সত্যিকারের মানুষের পরিচয়। ভালো থাকুন ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ