বয়স একটা সংখ্যা মাত্র, ৬৯-এ মাঠ কাঁপাচ্ছেন নারী গোলরক্ষক 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭,   ১৭ রজব ১৪৪২

বয়স একটা সংখ্যা মাত্র, ৬৯-এ মাঠ কাঁপাচ্ছেন নারী গোলরক্ষক 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ২৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:৩৫ ২৫ জানুয়ারি ২০২১

মারিয়ানেলা মেডিনা

মারিয়ানেলা মেডিনা

‘এইজ ইজ জাস্ট অ্যা নাম্বার’ বয়স একটি সংখ্যা মাত্র। তবে সমাজে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রয়োজনও ফুরাতে থাকে। তাদেরকে অনেকে বাতিলের খাতায় ধরেন। মনে করা হয় বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তাদের কাজের ক্ষমতা হারাতে থাকে। এরপর পরিবারের বোঝা হয়ে যান তারা। অনেকের তো শেষ বয়সে স্থান হয় বৃদ্ধা আশ্রমে।  

তবে এর ব্যাতিক্রম নজিরও রেখে চলেছেন অনেকে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ৮৪ বছর বয়সী আর্নেস্টাইন শেফার্ড। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বডি বিল্ডার হিসেবে খেতাবপ্রাপ্ত নারী তিনি। যে বয়সে তার নাতি-নাতনিদের নিয়ে খেলার কথা। সে বয়সেই কি-না তিনি শুরু করেন জিমে গিয়ে শরীরচর্চা। 

৬৯ বছর বয়সেও একেবারে ফিট তিনি শুধু শেফার্ডই নন, তার মতো আরো একজন দুই হাঁটুতে নিক্যাপ আর হাতে গ্লাভস পরে মাতিয়ে চলেছেন খেলার মাঠ। পরনে তার লাল জার্সি। এভাবেই পেনাল্টি বক্সের মধ্যেই অতন্দ্র প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। বিপক্ষের স্ট্রাইকারদের দিকে ছুঁড়ে দেন কঠিন চ্যালেঞ্জ। মারিয়ানেলা মেডিনা। তবে স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ‘কোলিটো’নামেই। চিলির এই নারী গোলকিপারের বয়স শুনলেই তাজ্জব হয়ে যাবেন যে কেউ। ৬৯ বছরে পা দিয়েও ফুটবলের মাঠ কাঁপিয়ে রাখেন মেডিনা। পাক ধরা চুল, বার্ধক্যের সঙ্গে তার পারফর্মেন্স দেখে হিসেব মেলান এক কথায় প্রায় অসম্ভব। 

আরো পড়ুন: বিশ্বের প্রথম মানবদেহ জাদুঘর, হদিস পাবেন পুরো দৈহিক কার্যকলাপের

চিলির ফুটবল ৭ লিগে ডিপোর্তিভো নেসলে’র দলে ভরসাযোগ্য গোলরক্ষক এখনও তিনি। এই বয়সে অনায়াসেই কখনো লাফিয়ে, কখনো ডাইভ দিয়েই সেভ করেন অনিবার্য গোল। সত্তরের ঘরে পৌঁছেও এই অদম্য মানসিকতাই, তাকে দলের প্রথম গোলরক্ষকের আসনে বসিয়ে রেখেছে। চলতি লিগে একের পর এক ম্যাচে ক্লিনচিটের জন্য চ্যাম্পিয়নের দৌড়ে বাকি সকলের থেকে এগিয়ে রয়েছে তার দল ডিপোর্তিভো নেসলে। 

ফুটবলের ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতাই হল বয়স। একটা সময় পরে শরীর আর সায় দেয় না খেলায়। তবে হার মানার মানুষ নন মেডিনা। প্রতিদিন ফুটবল মাঠের বাইরেও এখনও অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান তিনি। ফ্রি-হ্যান্ডস, দৌড়, নিয়মিত জিমের মাধ্যমেই তিনি নিজেকে এখনও তরতাজা রেখেছেন অন্যান্য তরুণী সহ-খেলোয়াড়দের মতোই।

চিলির ফুটবল ৭ লিগে ডিপোর্তিভো নেসলে’র ভরসাযোগ্য গোলরক্ষক তিনিতিন কাঠির নিচে তার এই রাজকীয় বিচরণই জিতে নিয়েছে হাজার হাজার চিলিয়ান সমর্থকদের হৃদয়। চলতি লিগে একাধিক অনবদ্য গোলরক্ষার জন্য বেশ কয়েকটি ম্যাচে সেরার শিরোপাও পেয়েছেন মেডিনা। প্রথমত নারী ফুটবল লিগ, তার ওপরে সেমি-প্রফেশনাল।  আর সেই কারণেই ‘ফুটবল৭ লা লিগা’-র জনপ্রিয়তা ছিল সীমাবদ্ধ। তবে এখন এই লিগেরই প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন মেডিনা। তার দৌলতেই এই প্রতিদিন এই লিগের দর্শক কয়েক হাজার মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও রীতিমতো ভাইরাল চিলির এই বয়স্কা গোলরক্ষক। শুধু এই মরশুমই নয়, পরের মরশুমের জন্যও চুক্তি পাকা হয়ে গেছে মেডিনা। তিন কাঠির নিচে পরের বছরও দেখা যাবে তাকে।  

আরো পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদের সন্ধান

সম্প্রতি মেডিনার কথা দর্শকরা পৌঁছে দিয়েছেন চিলির জাতীয় ফুটবল দল এবং গোলরক্ষক ক্লদিও ব্র্যাভোর কাছে। দর্শকরাই অনুরোধ করেছেন যাতে ব্র্যাভো ও গোটা দল, প্রবীণ এই গোলরক্ষককে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের স্বাক্ষর করা জার্সি ও গ্লাভস উপহার দেন। এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন বার্সেলোনার এককালীন গোলরক্ষকও। শুধু চিলি কিংবা ল্যাটিন আমেরিকাই নয়, মেডিনার পরিচিতি এখন ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বেই। আর নতুন করে ফুটবলে উদ্বুদ্ধ করছে তরুণ প্রজন্মকে। তার নামের সঙ্গেই যেন সমার্থক হয়ে যাচ্ছে ‘অনুপ্রেরণা’। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে