‘ড্রাগন লেডি’

ঢাকা, রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২২ ১৪২৭,   ২২ রজব ১৪৪২

‘ড্রাগন লেডি’

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪২ ১৮ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:৫৯ ১৮ জানুয়ারি ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মানুষ বড়ই অদ্ভুত। অদ্ভুত তাদের শখ, তাদের চাওয়া পাওয়া। মানুষের চেয়েও বেশি অদ্ভুত প্রকৃতি। তাই কখনো প্রকৃতির খেয়ালে অথবা কখনো মানুষের অদ্ভুত শখের কারণে ব্যতিক্রমী সব ঘটনার জন্ম হয়। আর এ সমস্ত ঘটনা এতটাই ব্যতিক্রম যে দ্বিতীয় কোনো মানুষের পক্ষে সে ঘটনা দ্বিতীয়বার জন্ম দেয়া বা চেষ্টা করার সাহস হয় না। ফলে এগুলো রেকর্ড হয়ে অক্ষুণ্ণ থাকে বছরের পর বছর। ঠাঁই পায় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। 

তবে কখনো শুনেছেন কি, একজন মানুষ স্বেচ্ছায় হয়ে উঠতে চান রূপকথার ড্রাগন! শুধু ইচ্ছে রাখাই নয় বরং নিজের এই উদ্ভট স্বপ্ন সত্যি করতে আজ অবধি অসংখ্যবার নিজের শরীরে নানা যন্ত্রনাদায়ক অপারেশন করিয়েছেন তিনি। যাতে তাকে সত্যিকারের ড্রাগনের মতোই দেখতে লাগে।

রূপান্তর কামী হওয়ার আগে এবং পরেআসুন জানা যাক ড্রাগন লেডির বিষয়ে। রিচার্ড হার্নান্ডেজ নামে অ্যারিজোনার এক প্রাক্তন ব্যাংকার, যিনি বর্তমানে একজন রূপান্তরকামী মানুষ, দাবি করেন যে তিনি প্রথম এবং একমাত্র ব্যক্তি যিনি নিজের উভয় কান কসমেটিক সার্জারি করে বাদ দিয়েছেন, যাতে তিনি একজন পরিপূর্ণ ' ড্রাগন ' হয়ে উঠতে পারেন।

ম্যারিকোপা কাউন্টি, অ্যারিজোনায় জন্ম নেয়া ৫৫ বছর বয়স্ক রিচার্ড হার্নান্দেজ, গত কয়েক বছরে প্রথমে একজন নারী হয়ে ওঠার জন্য চিকিৎসা শুরু করেন। পরবর্তী কালে তিনি নাকের পরিবর্তন, দাঁত তোলা, চোখের রং বদলানো ইত্যাদি বেশ কয়েকটি বেদনাদায়ক অপারেশনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন।

নিজেকে এক পৌরাণিক প্রাণীতে রূপান্তরিত করার জন্য তিনি তার জিভ ছিদ্র করিয়েছেন এবং সমস্ত মুখ জুড়ে বিচিত্র ট্যাটু করিয়েছেন। বর্তমানে রিচার্ড নিজের পুরো নাম বদলে রেখেছেন। ইভা তিয়ামাত ব্যাফোমেট মেডুসা বা সংক্ষেপে তিয়ামাত যা একটি ড্রাগন ভিডিও গেমের চরিত্রের নাম।

নিজেকে ড্রাগন লেডির সাজে সাজান এই ভাবে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে বারবার নিজের চেহারার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। সেই সঙ্গে সবশেষে নিজেকে এক কল্পিত ড্রাগনের রূপ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তার কপালে শিং ও বসিয়েছেন। এছাড়াও ইভা তিয়ামাত তার মুখে ও বুকে সরীসৃপের আঁশের মতো ট্যাটুও করিয়েছেন।

তিয়ামাতের চোখের সাদা অংশগুলো সবুজ দাগযুক্ত এবং তিনি নিজে একে 'মেডুসার মৃত্যু সবুজ চোখ' বলে দাবী করে থাকেন। সাধারণ মানুষ নন বরং তিয়ামাত এখন নিজেকে ড্রাগন লেডি হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশিপছন্দ করেন। তিনি নিজেকে একটি পৌরাণিক জন্তু হিসে বেও বর্ণনা করেন।

ড্রাগন লেডিনিজের ওয়েবসাইটে তিয়ামাত এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, আমি ড্রাগন লেডি, একজন পুরুষ থেকে বর্তমানে নারী রূপান্তরকামী, যে নিজেকে একজন মানব ড্রাগনে ক্রমে রূপান্তরিত করে চলেছে। এর জন্য আমি শুধু নিজের মানব ত্বক নয়, বরং নিজের সম্পূর্ণ মনুষ্যত্বও ক্রমে ক্রমে ত্যাগ করে চলেছি।

তিনি আরো যোগ করেছেন যে, তিনি সচেতন ভাবেই একজন 'রূপকথার পশু হয়ে উঠতে চান। ফেসবুকে তিয়ামাতের অসংখ্য ফলোয়ার রয়েছে। তিনি ইউটিউবেও নিয়মিত দেহরূপ পরিবর্তনের বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিয়ে থাকেন। নিজের সাম্প্রতিক একটি ছবিতে তিনি লিখেছেন, ' লোকেরা আমার সম্পর্কে বা আমার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে কি বলে আমি তাতে মাথা ঘামাই না।

ড্রাগন লেডিযদি প্রয়োজন হয় তবে আমি গোটা বিশ্বের বিরূদ্ধে একা দাঁড়াব। তবে কখনোই আমার সততা নিয়ে কোনো আপস করব।' আরেক জায়গায় তিনি লিখেছেন, ' আমি যা হয়েছি সেটাই আমি। আমি আমার নিজস্ব বিশেষ সৃষ্টি। সত্যি! কত বিচিত্র শখই না থাকে মানুষের। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে