নারীর প্রসাধনের তালিকায় কীভাবে এলো নেইল পলিশ, জানুন ইতিহাস

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭,   ২৪ রজব ১৪৪২

নারীর প্রসাধনের তালিকায় কীভাবে এলো নেইল পলিশ, জানুন ইতিহাস

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫২ ১৮ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:২২ ১৮ জানুয়ারি ২০২১

নেইল পলিশ নখের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে

নেইল পলিশ নখের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে

নারীর সাজের এক অন্যতম অনুষঙ্গ নেইল পলিশ। নানান রঙে নখ সাজাতে সব নারীই পছন্দ করেন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অনেকেই নেইল পলিশ পরেন। এটি খানিকটা আপনার ব্যক্তিত্বকেও তুলে ধরে। কী রং এবং কী ডিজাইনে আপনি নেইল পলিশ পরছেন তা আপনার রুচিবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। 

তবে এই উপাদানটি কীভাবে নারীর সাজের সঙ্গে মিশে গেল জানেন কি? নারীর নখের সঙ্গে নানা রঙের সখ্যতা হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে। ধারণা করা হয়, ৩ হাজার খ্রিস্ট পূর্বাব্দে চীন দেশে প্রথম নখের ওপর রঙের ব্যবহার শুরু হয়। প্রাচীন চীনের চৌ রাজবংশের সদস্যরা নেইল পলিশ প্রথম ব্যবহার শুরু করেন। আধুনিক যুগে যাকে আমরা বলি নেইল পলিশ। তখন সোনালি ও রুপালি রঙের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল।

মিশরীয় নারীদের সাজের উপকরণে ছিল নেইল পলিশ ৬০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে 'ঝঁও' রাজবংশের নারীরাই শুধু নখের ওপর সোনালি এবং রূপালি রং ব্যবহার করতে পারতেন। হয়তো এটি রাজবংশীয় নারীদের আলাদা করে দেখানোর জন্য এটি কোনো বিশেষ রং ছিল। চীনের মিং ডাইনেস্টির সময়কালে নখের ওপর রং লাগানোর ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা আসে। মিং ডাইনেস্টির সময়ে রাজবংশীয় মেয়েরা নেইল পলিশের রং হিসেবে লাল এবং কালোকে প্রাধান্য দেন এবং এ রঙের মিশ্রণটি ছিল খুব ঘন। 

আরো পড়ুন: বাংলাদেশের মাটি মালদ্বীপের কেন এতো প্রয়োজন

বিভিন্ন রঙে সাজানো হয় নখ এরও অনেক পরে ১৬৪৪ সালের দিকে মিং রাজবংশ মোম, ডিমের সাদা অংশ, জীবজন্তুর হাড়, বাবলা গাছের আঠাসহ নানা ধরনের উদ্ভিদ থেকে তৈরি করত নখ রাঙানোর প্রাকৃতিক রং। মূলত সে থেকেই নেইল পলিশে নানা রঙের প্রচলন শুরু।অবশ্য এই নেইল পলিশের ইতিহাস নিয়ে কিছুটা বির্তক আছে। ইতিহাসে কোথাও কোথাও আছে নেইল পলিশের প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ভারতবর্ষে, সেটি ছিল তাম্রযুগে। নয় শতকে মিশরে নেইল পলিশ ব্যবহারের যে তথ্য পাওয়া যায় তা থেকে প্রমাণ মেলে মিশরীয়রা নখের ওপর রঙের ব্যবহার করতেন শ্রেণী বিভেদের জন্য।

তিন হাজার বছর আগে শুধু রাজ বংশীয় নারীরাই নখে নেইল পলিশ ব্যবহার করতেন নিচু শ্রেণীর মানুষ অপেক্ষাকৃত ম্লান বা ফ্যাকাশে ধরনের রং করতেন নখের ওপর। আর উঁচু সমাজের মিশরীয় নারীরা নখের ওপর ব্যবহার করতেন লাল রঙ। প্রাচীনকাল থেকে নেইল পলিশের ব্যবহার শুরু হলেও ১৭ শতাব্দীতে সম্ভবত নেইল পলিশ মেয়েদের কাছে একটি প্রসাধন সামগ্রী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

আরো পড়ুন: বিশ্বের প্রথম মানবদেহ জাদুঘর, হদিস পাবেন পুরো দৈহিক কার্যকলাপের

তবে একসময় শুধু রাজ পরিবারের সদস্যরাই এটি ব্যবহার করতেন। শুরুতে দুই রঙের থাকলেও আধুনিক যুগে নারীর নখ রাঙাতে নানা রঙের নেইল পলিশ দেখা যায় এখন শপিংমলে। নারীর নখ নিয়ে মধ্যযুগীয় কবি ভারতচন্দ্র রায়গুনকার লিখেছিলেন, শরতের চাঁদ পড়ে থাকে তার প্রেয়সীর নখের কাছে। সেই নখ সাজানোর জন্য দীর্ঘকাল ধরেই নারীদের কাছে জনপ্রিয় নেইল পলিশ। 

ডট, লতাপাতা বিভিন্ন চিত্র এঁকে নখ সাজায় নারীরা আধুনিক যুগের নারীদের নখের যত্ন বেড়ে যাওয়ায় নখ পরিচর্যা ও নেইল পলিশ লাগানোর ব্যবসাও এখন বেশ জমজমাট, তাই গড়ে উঠছে নেইল বারও। জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নেইল আর্ট করা কৃত্রিম নখও। ১৩ ধরনের নেইল পলিশে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে রিমেল, রেভলন, মাইমুড, বেরিম, সেলি হ্যামসনসহ নামিদামি ব্রান্ডের নেইল পলিশ রয়েছে নখ সাজাতে। তবে বেশি করে গাঢ় রঙের নেইল পলিশ ব্যবহার করলে নখে স্থায়ীভাবে দাগ পড়ে, এমনকি নখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই গাঢ় রঙের নেইল পলিশ হলে একবারের বেশি প্রলেপ দেয়া থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে