কনকনে শীতে ‘কে-টু’ জয়, পর্বতারোহণে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৯ ১৪২৭,   ১৯ রজব ১৪৪২

কনকনে শীতে ‘কে-টু’ জয়, পর্বতারোহণে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১১ ১৭ জানুয়ারি ২০২১  

শৃঙ্গজয়ের পথে। নির্মল পুরজা-র ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত

শৃঙ্গজয়ের পথে। নির্মল পুরজা-র ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত

শীতকালে অভিযান শুরুর সময়ে যা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করেছিলেন অনেকে। তবে শনিবার বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম ‘কে-টু’ (৮৬১১ মিটার) শৃঙ্গ ছুঁয়ে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন ১০ জন নেপালি শেরপার একটি দল। সেই সঙ্গে পর্বতারোহণে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন তারা।

আট হাজারের বেশি উচ্চতার বিশ্বের ১৪টি শৃঙ্গের মধ্যে ‘কে-টু’ শৃঙ্গই এত দিন অধরা ছিল। এভারেস্টের পর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ও সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ পর্বত ‘মাউন্ট কে-টু’। আর এই শৃঙ্গ ঘিরে মানুষের কৌতুহলের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। এই শৃঙ্গে অভিযান চালাতে গিয়ে পর্বতারোহীদের মৃত্যুহার অনেক বেশি। সেই সঙ্গে শীতকালীন আবহাওয়া এ শৃঙ্গকে আরো দুর্গম এবং অভেদ্য করে রেখেছিল।

তবে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে শনিবার পাকিস্তানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা নাগাদ ‘কে-টু’ শৃঙ্গ ছুঁয়ে ফেললেন ১০ নেপালি শেরপা- নির্মল পুরজা, গেলজে শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা, মিংমা তেনজি শেরপা, দাওয়া তেম্বা শেরপা, পেম ছিরি শেরপা, মিংমা জি, কিলি পেম্বা শেরপা, দাওয়া তেনজিং শেরপা ও সোনা শেরপা।

নির্মল পুরজা মাত্র ৬ মাসে ১৪টি আট হাজারি শৃঙ্গ জয় করে রেকর্ড করেছেন। সব কয়টি আট হাজারি শৃঙ্গজয়ী মিংমা জে এবং সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ১৪টি আট হাজারি শৃঙ্গজয়ী মিংমা ডেভিডও রয়েছেন এই দলে।

এ  বছর  শীতকালে অভিযান চালাতে ৬০ জন অভিযাত্রী ও শেরপা-সহ চারটি দল পাকিস্তানের দিক দিয়ে ‘কে-টু’ বেসক্যাম্পে পৌঁছে। সেখানে গিয়ে বৈরি আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। হাওয়ার দাপটে ‘কে-টু’ থেকে জিনিস উড়ে গিয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে।

পরবর্তীতে চারটি দলের মধ্যে থেকে বাছাই ১০ জনের শেরপা দল শনিবার রাত ১টা নাগাদ সামিটের উদ্দেশে রওনা হয়। ধরা হয়েছিল, ১২ ঘণ্টায় তারা সামিটে পৌঁছবেন। তবে আরো কিছুটা সময় নিয়ে, পাকিস্তানি সময় বিকেল ৫টায় এই সামিট করেন তারা। নেপালি জাতীয় সঙ্গীত গাইতে গাইতে তারা শৃঙ্গ স্পর্শ করেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এ দিনই ক্যাম্প ১ থেকে ‘কে-টু’ বেসক্যাম্পে ফেরার পথে সেরগেই মিনগোতে নামে এক স্পেনীয় অভিযাত্রী মারা গিয়েছেন।

নেপালের পর্বতারোহণ আয়োজনকারী সংস্থা ‘সেভেন সামিট’র একটি বড় দল এ বারের শীতকালীন ‘কে-টু’ অভিযানে অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে এক জন শেরপা রয়েছেন ১০ জনের এই বিজয়ী দলে।

কে-টু শৃঙ্গ বিজয়ের দিন নেপাল থেকে ওই সংস্থার পক্ষে থানেশ্বর গুরাগাই বলেন, পর্বতারোহণ এবং নেপালের জন্য এটা সবচেয়ে বড় খবর। ১০ জনই যাতে একসঙ্গে চূড়ায় আরোহণ করতে পারে, তাই দলের কয়েক জন প্রায় ২০-২৫ মিনিট সামিটের আগে অপেক্ষা করেছেন বলে জানতে পেরেছি। তবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া কেউ সামিট করলেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

তিনি আরো জানিয়েছেন, সামিট ছুঁয়ে এ দিন রাতে তাদের ‘ক্যাম্প থ্রি’তে ফিরে আসার কথা রয়েছে। নেপালি শেরপাদের এই সাফল্যে খুশি, তেনজিং নোরগের ছেলে জামলিং নোরগে এ দিন দার্জিলিং থেকে ফোনে বললেন, দারুণ খবর। তবে এই অভিযান থেকে যেটা শেখার তা হল টিম স্পিরিট। আজকাল নিজের জন্য সামিট করতে চান পর্বতারোহীরা। অন্যের জন্য ভাবার সময় নেই। অথচ এই শেরপারা একে অপরের অপেক্ষা করেছেন, একটা দল হিসেবে সামনে এগিয়েছেন, কেউ একা কৃতিত্ব নিতে চাননি। আগামী প্রজন্মের উচিত তাদের দেখে শেখা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ