স্বার্থ ছাড়াই অসংখ্য উদ্যোক্তার পাশে শামস, জানালেন ছোট ছোট গল্প

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

স্বার্থ ছাড়াই অসংখ্য উদ্যোক্তার পাশে শামস, জানালেন ছোট ছোট গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫১ ৫ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৩৫ ৮ ডিসেম্বর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এক সময় কেউ চিনতো না, এখন তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি পরিচিত মুখ। নিজের তৈরি করা মজাদার ভিডিও কনটেন্টে লাখ লাখ ভিউ, হাজার হাজার শেয়ার। কথা হচ্ছিল শামস আফরোজ চৌধুরীকে নিয়ে, তবে ‘থটস অব শামস’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। 

বর্তমানে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে বিরাজ করছেন শামস। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের পাশাপাশি কাজ করছেন বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রোমোশনেও। মোট কথা এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী তিনি। ডেইলি বাংলাদেশকে জানালেন শামস আফরোজ চৌধুরীর সমসাময়িক গল্প। যেখানে উঠে এসেছে, স্বার্থ ছাড়াই অসংখ্য উদ্যোক্তার পাশে যেভাবে তিনি কাজ করেছেন।

--- সাধারণত দেখা যায় যে, আমরা যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে একটু জায়গা করে নিয়েছি তারা নতুনদের পাশে দাঁড়াতে চাই না। বিশেষ করে কারো বিজনেস প্রমোট করার বেলায়। কেননা কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা সাধারণত ফ্রীতে কোনো প্রচারের কাজ করেন না। ব্র্যান্ডগুলো যখন ‘হ্যান্ডসাম এমাউন্ট’ অফার করে এবং সবকিছু ঠিক-ঠাক থাকে তখন সেই ব্র্যান্ডের সঙ্গে ডিল করা হয়। তাছাড়া ব্র্যান্ডগুলো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের অনেক সন্মান করে যা সত্যি খুব ভালো লাগার মতো। তাই সব সময় ভালো ও নামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয় সবাই। কিন্তু যেসব উদ্যোক্তাদের প্রোডাক্টস ও সার্ভিস অনেক ভালো মানের কিন্তু অর্থাভাবে কোনো প্রকার প্রচার করতে পারছেন না- তাদের কি হবে?

এ রকম অসংখ্য উদ্যোক্তা আছেন যারা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং সংসারের আর্থিক সমস্যার কিছুটা সমাধান করতে চাচ্ছেন, কিন্তু অর্থাভাবে ব্যবসার প্রচার করতে পারছেন না। কেননা সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার বা পাবলিক ফিগার দিয়ে কোনো কিছুর প্রচার করাতে গেলে অনেক টাকা দিতে হয়। তার চেয়ে বড় কথা হলো বড় মাপের সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সাররা কখনোই ছোট পেইজ বা নতুন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করতে চায় না।

আমার কাছেও এ রকম অনেক আপু/ভাইরা মেসেজ করেন। একবার এক আপু আমাকে বললেন, ওনার বাবার চাকরি নেই। যার ফলে মাকে নিয়ে হোমমেড ফুড বিজনেস শুরু করেছে কিন্তু সেখানে তেমন কাস্টমার পাচ্ছেন না। আবার টাকার অভাবে বুস্ট বা প্রমোটও করতে পারছেন না। 

আর এক আপু আমাকে মেসেজ দিলেন, তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। শরীরের বাম পাশে শক্তি কম কিন্তু নিজে কিছু করতে চান। তার একটা পেইজ আছে কিন্তু সেটি প্রমোট করার সামর্থ্য নেই।- এ রকম আরো বহু মেসেজ আমি পাই এবং পেয়েছি। 

আজ অনেক বেশি ভাল লাগা নিয়ে বলতে চাই, তাদের সবাইকে আমি বিনা পয়সায় এমনকি নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে প্রমোট করে দিয়েছি। আপনারা হয়তো দেখবেন, আমি প্রায়ই কোনো না কোনো খাবারের পেইজ বা ছোট ব্যবসার পেইজ প্রমোট করি। আর এটার জন্য অনেকেই আমাকে বাজে মন্তব্য করে। কিন্তু জানেন? আমার ওই একটা শেয়ারের পর আমি যখন ওই পরিবারগুলোর কাছ থেকে মেসেজ পাই- আপু আপনার শেয়ারের কারণে আমরা অনেক কাস্টমার পেয়েছি। আপনার জন্য মন থেকে দোয়া রইলো। আমার মা-বাবা নামাজে বসে আপনার জন্য দোয়া করেছেন; তখন কারো গালি বা বাজে মন্তব্য আমাকে বিন্দুমাত্র আহত করে না।

আমার একটা শেয়ারে যদি কোনো মধ্যবিত্ত পরিবারের কষ্ট কিছুটা হলেও কমে, তাদের আর্থিক সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হয় তাহলে আমার ‘থটস অব শামস’ যতদিন আছে আর আমি শামস যতদিন আছি সারাজীবন এই কাজটা করে যাবো। আসলে সব সময় ব্র্যান্ড আর মোটা অংকের টাকার কথা আমি চিন্তা করতে পারি না। মাঝে মাঝে মানুষের কাছ থেকে দোয়া পাওয়ার লোভেও কিছু কাজ করি। কেননা তখন মনে একটা শান্তি লাগে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/মাহাদী