রেস্টুরেন্টের মেনুতে যুক্ত হলো কৃত্রিম মাংস, দাম হাতের নাগালে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১২ ১৪২৭,   ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রেস্টুরেন্টের মেনুতে যুক্ত হলো কৃত্রিম মাংস, দাম হাতের নাগালে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৯ ৫ ডিসেম্বর ২০২০  

ছবি: কৃত্রিম মাংস

ছবি: কৃত্রিম মাংস

মুরগির মাংস এবার তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা। ল্যাবেই তৈরি হচ্ছে আসল মুরগির মতোই মাংস। যা খেতে পারবে বিশ্ববাসী। আমেরিকার এক সংস্থা তাদের গবেষণাগারে কৃত্রিম মাংস তৈরি করেছে। যা এরই মধ্যে সারা ফেলেছে বিশ্বে। 

আরো পড়ুন: ৫৪,৮৫০ কোটি টাকার মালিক, ভারতের সবচেয়ে ধনী নারী

সিঙ্গাপুরের একাধিক রেস্তুরাঁর মেনুতে যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম এই মাংস।  ভবিষ্যতে বিশ্ব জুড়ে এই কৃত্রিম মাংসের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করছে গবেষকরা।

কৃত্রিম মাংসআমেরিকার স্টার্ট আপ সংস্থা ‘ইট জাস্ট’এর উদ্যোগেই কৃত্রিম মাংস তৈরি হচ্ছে। তারা মুরগির শরীর থেকে কোষ সংগ্রহ করে আপাতত কৃত্রিম মুরগির মাংসই তৈরি করেছে। প্রথমে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই তাদের এই পদক্ষেপ নিয়ে। তবে সিঙ্গাপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্প্রতি পরীক্ষা করে দেখে সেই কৃত্রিম মাংসে ছাড়পত্র দিয়েছে।

আরো পড়ুন: সাপের আশ্রম, সন্ন্যাসীদের কোলে পিঠে চড়ছে অবলীলায়

এই সংস্থার সিইও জশ টেট্রিকের মতে, এই কৃত্রিম মাংস বিশ্ব খাদ্য বাজারে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। অন্যদিকে প্রাণী হত্যাও হবে বন্ধ। আগামী দিনে বিশ্বের সর্বত্র এই প্রক্রিয়ায় তৈরি মাংস সমাদর পাবে বলে আশা তার

আরো পড়ুন: বিনামূল্যে দেড় লাখ মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়েছেন এই ডাক্তার

বিশেষজ্ঞরা বহু দিন ধরেই সতর্ক করছেন মাংসের জোগান বাড়াতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাদের দাবি, মাংসের চাহিদা মেটাতে আলাদা করে পশু পালনও হচ্ছে। তাদের বর্জ্য থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেন আরও বাড়ছে। গাছ কেটে পশুচারণের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বন উজার করা হচ্ছে।

কৃত্রিম মাংস‘ইট জাস্ট’ নামক সংস্থাটি মনে করছে, তাদের তৈরি মাংস গোটা বিশ্বকে পথ দেখাবে। আপাতত কৃত্রিম উপায়ে শুধু মুরগির মাংস তৈরি করলেও আগামী দিনে কৃত্রিম উপায়ে গোমাংস থেকে অন্য সব ধরনের মাংস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

জানা গেছে, বাজারে মুরগির মাংসের যে দাম তার চেয়ে কম মূল্যেই পাওয়া যাবে কৃত্রিম মাংস। কৃত্রিম মাংস তৈরি করতে ১২০০ লিটার বায়োরিয়্যাক্টরসে প্রায় ২০ দফার পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়। মানবশরীরের পক্ষে তা কতটা নিরাপদ, মাংসের গুণমানই বা কেমন, তাও পরীক্ষা করে দেখা হয়। 

২০৫০ সালের মধ্যে পুরো বিশ্বে মাংসের ভক্ষণ প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে বলে অনুমান করছে গবেষকরা। সেক্ষেত্রে এই কৃত্রিম মাংস সহায়ক হয়ে দাঁড়াবে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

কৃত্রিম মাংসঅনেক জায়গায় বার্গার, প্যাটিসে এই ‘প্লান্ট বেস্ট মিট’ ব্যবহার করা হয়। তবে বলিউড দম্পতি রিতেশ দেশমুখ এবং জেনেলিয়া সম্প্রতি ভারতে ‘প্লান্ট বেস্ট মিট’ তৈরির সংস্থা স্থাপনের ঘোষণা করেছে। 

কৃত্রিম উপায়ে তৈরি এই মাংসে কোনোরকম মেলেনি বিপদের ইঙ্গিত। সব পরীক্ষা করে দেখেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সিঙ্গাপুর ফুট এজেন্সি’।

তবে মাংসের বিকল্প হিসেবে বাজারে এরইমধ্যেই ‘প্লান্ট বেসড মিট’ এসে গিয়েছে, যা মূলত সয়া গাছের শিকড় থেকে তৈরি হয়। তাতে রং আনতে ব্যবহার করা হয় বিট। এছাড়াও নানা ধরনের প্রোটিন উপাদান ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ডেইলিমেইল

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস