গাছের পাতা খেয়েই ২৮ বছর পার

ঢাকা, শনিবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ২ ১৪২৭,   ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গাছের পাতা খেয়েই ২৮ বছর পার

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪২ ২৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৪ ২৬ নভেম্বর ২০২০

ছবি: নিজের গাধা টানা গাড়িতে বসে গাছের লতাপাতা খাচ্ছেন মেহমুদ

ছবি: নিজের গাধা টানা গাড়িতে বসে গাছের লতাপাতা খাচ্ছেন মেহমুদ

আপনার পছন্দের খাবারের তালিকায় নিশ্চয় বিরিয়ানি, পোলাও, কোরমা ইত্যাদি রয়েছে। তবে জানেন কি এমনও কেউ আছে যে কিনা গাছের পাতা খেতে পছন্দ করে! হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন! 

এমনই কাণ্ড ২৮ বছর ধরে ঘটিয়ে আসছেন এক ব্যক্তি। পাকিস্তানের মেহমুদ বাট  নামক এই ব্যক্তি ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি টানা ২৮ বছর ধরে স্রেফ গাছের ডাল আর পাতা খেয়ে বেঁচে আছেন। 

আরো পড়ুন: দিন-রাত পাপ কর্মে ডুবে আছে কুখ্যাত এক দ্বীপ

দারিদ্র্যতা আর অর্থের অভাবে ক্ষুধার জ্বালায় একসময় বাধ্য হয়ে গাছের ডাল-পাতা খেয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন ৫৩ বছর বয়স্ক পাকিস্তানের মেহমুদ বাট। তিনি মনে করেন ভিক্ষা করে নিজের খাবার যোগাড় করার চাইতে প্রকৃতিতে থাকা গাছের ডালপালা খেয়ে জীবন ধারণ করা সহজ। 

মেহমুদ বাট গাছের পাতা খান তবে শেষ পর্যন্ত তার অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আসলেও ডাল-পাতা খাওয়ার অভ্যাস থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন নি। দারিদ্রতা থেকে অভ্যাসের শুরু হলেও পরে মেহমুদ বাট পাতায় আসক্ত হয়ে পরেন। 

আরো পড়ুন: বাংলাদেশের ‘রহস্যময়’ জাহাজের দেখা মিললো নিষিদ্ধ নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপে

জানা যায়, বিগত ২৮ বছর ধরে ডালপাতা খাওয়ার রীতিমতো অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন বাট, তাছাড়া এই গাছের ডালপাতা খেয়ে সুস্থ আছেন তিনি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা জেলার বাসিন্দা তিনি। পাকিস্তানের এই বাসিন্দার পাতা খেয়ে সুস্থ থাকার ঘটনা আলোড়ন ফেলেছে গোটা বিশ্বে।

মেহমুদ বাট একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, আমার পরিবারে এমনই অর্থাভাব এসেছিল যে কারো চাহিদা পূরণের অবস্থা ছিল না। খাবারের সরবরাহ করতে পারছিলাম না। তখন আমি ভাবলাম কারো কাছে হাত না পেতে গাছের ডাল খাওয়া বেশি সহজ।

মেহমুদ বাট গাছের পাতা ছিঁড়ছে জানা গেছে, পাতায় অভ্যস্ত হওয়ার পরপরই কাজ পেয়ে যান মেহমুদ বাট। তিনি গাধা চালিত মালগাড়ি দিয়ে মালামাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যান। প্রতিদিন তার রোজগার প্রায় ৬৭০ পাকিস্তানি রুপি। অর্থের অভাব কাটিয়ে উঠতে পারলেও পাতা খাওয়া ছাড়তে পারেন নি মেহমুদ বাট।

আরো পড়ুন: প্রকৃতির প্রেমে হাবুডুবু, ৩১ বছর একাই কাটিয়েছেন নির্জন দ্বীপে

পাতা খাওয়ার ব্যাপারে মেহমুদ বাট বলেন, গাছের ডাল ও পাতা খাওয়াটা আমার অভ্যাস। কচি কচি পাতা আমাকে আকৃষ্ট করে। তার প্রতিবেশী গোলাম মুহাম্মদ বলেন, মেহমুদ বাট প্রতিদিন পাতা খেয়েই বাঁচেন। মাল বহনের সময়ও রাস্তার পাশের সতেজ ডালপালা খান তিনি। 

পাতা খেলেও সে সুস্থ আছেন। তিনি কখনো অসুস্থ হয়ে হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যান নি। আমরা তো অবাক যে, কী করে একজন মানুষ দীর্ঘ বছর গাছের ডাল-পাতা খেয়ে সুস্থ থাকতে পারেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস