প্রাণী হলেও এদের শরীরে নেই মস্তিষ্ক-ফুসফুস-পাকস্থলী

ঢাকা, রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৩ ১৪২৭,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

প্রাণী হলেও এদের শরীরে নেই মস্তিষ্ক-ফুসফুস-পাকস্থলী

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০১ ২৫ নভেম্বর ২০২০  

ছবি: কম্ব জেলি

ছবি: কম্ব জেলি

সমুদ্র জীবন বিকাশের সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। সমুদ্রের কিছু প্রাণী এতোটাই বিস্ময়কর যে, ডাঙার প্রাণীদের সঙ্গে কোনো কিছুতেই মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব প্রাণীদের মধ্যে কম্ব জেলি অন্যতম। 

কম্ব জেলিদের দেহের ৯৫ শতাংশ পানি, নেই কোনো পাকস্থলী, অন্ত্র বা ফুসফুস। খাদ্যকনা এবং অক্সিজেন এদের কোষে সরাসরি প্রবেশ করে। এরা লম্বায় হতে পারে পাঁচ ফুট পর্যন্ত। 

কম্ব জেলিতবে এদের ওজন মাত্র একটি সাধারণ জেলিফিশের সমান। দেহের আবরণ মাত্র দুই কোষ পুরু। এদের নামের কম্ব অংশটি এসেছে এদের দৈহিক গঠন থেকেই। 

আটটি সিলিয়ার সারি এদের দেহে লম্বা বরাবর সাজানো। যা এদের সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। এ ধরনের গঠন  কম্ব নামে পরিচিত। এদের কোনো মস্তিষ্কও নেই। কম্ব জেলির দৈহিক আবরণে নিউরনের নেটওয়ার্ক রয়েছে। 

এটিই এদের স্নায়ুতন্ত্রের কাজ করে। এদেরকে প্রায়ই রংধনুর মতো আলো ছড়াতে দেখা যায়। পূর্বে ধারণা করা হতো, এটি বায়োলুমিনিসেন্সের ফলাফল। প্রকৃতপক্ষে এদের দেহ ডায়মন্ডের মতো বিভিন্ন দিকে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাতে পারে। 

কম্ব জেলিফলে তৈরি হয় রং বেরঙের আলোকসজ্জা। দেখতে জেলিফিশের মতো হলেও, প্রকৃতপক্ষে এরা জেলিফিশ নয়। এরা টিনোফোরা নামক একটি স্বতন্ত্র পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বব্যাপী এদের প্রায় ১৫০ প্রজাতি বসবাস করে। 

জেলিফিশের মতোই এদেরও কর্ষিকা রয়েছে। তবে এসব কর্ষিকা যন্ত্রণাদায়ক নয়, বরং আঁঠালো। এসব আঠালো কর্ষিকার সাহায্যেই এরা শিকার ধরে। শারীরিক গঠন এবং জীবন কৌশলে সমুদ্রের প্রাণীর এক মহাবৈচিত্র্য তৈরি করেছে। কম্ব জেলি সেই বৈচিত্র্যের একটি উদাহরণ মাত্র।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস